জম্মু ও কাশ্মীরের বরোটি গ্রামে এক হিন্দু তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও তরুণীর পরিবার অপহরণের অভিযোগ তুললেও, নবদম্পতি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ওই তরুণী প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তরুণীর পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকটি দক্ষিণপন্থী সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তরুণীর পিতার দাবি, তার মেয়েকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আরিফ নামক ওই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তরুণীটি বর্তমানে চাপে পড়ে বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।
গত কয়েকদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বড়ি ব্রাহ্মণা থানা এলাকার বরোটি গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান রামিকা থাপা দীর্ঘ দুই বছর ধরে আরিফ নামক এক যুবকের সাথে সম্পর্কের পরিণতির জন্য নিজ পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। গত সপ্তাহে তিনি নিজ ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আরিফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে রামিকাকে আরিফের পাশে বসে শান্তভাবে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
"আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং আমি নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে আরিফকে বিয়ে করেছি। আমার ওপর কারো কোনো চাপ ছিল না। গত দুই বছর ধরে আমি আমার বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা শোনেননি। এখন আমরা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছি এবং আমি সুখী।"
রামিমা আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি তাদের ওপর বা আরিফের পরিবারের ওপর কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি করা হয়, তবে তিনি আত্মহননের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। বর্তমানে বড়ি ব্রাহ্মণা পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে এবং তরুণীর জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম গ্রহণ ও পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এছাড়া ‘হাদিয়া বনাম কেরালা রাজ্য’ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট রায় দিয়েছিল যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কার সাথে জীবন কাটাবেন বা কোন ধর্ম অনুসরণ করবেন, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যেখানে রাষ্ট্র বা পরিবারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখনই কোনো অমুসলিম তরুণী স্বেচ্ছায় মুসলিম যুবককে পছন্দ করেন, তখন সেটিকে অপরাধ হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ আইনত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিজের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই ঘটনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হস্তক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি সংবিধানিক অধিকারকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কোনো প্রকার চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ওই নবদম্পতির নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কতটা স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়।
বিষয় : জম্মু কাশ্মীর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
জম্মু ও কাশ্মীরের বরোটি গ্রামে এক হিন্দু তরুণী স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও তরুণীর পরিবার অপহরণের অভিযোগ তুললেও, নবদম্পতি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ওই তরুণী প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তরুণীর পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকটি দক্ষিণপন্থী সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তরুণীর পিতার দাবি, তার মেয়েকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আরিফ নামক ওই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তরুণীটি বর্তমানে চাপে পড়ে বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।
গত কয়েকদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বড়ি ব্রাহ্মণা থানা এলাকার বরোটি গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান রামিকা থাপা দীর্ঘ দুই বছর ধরে আরিফ নামক এক যুবকের সাথে সম্পর্কের পরিণতির জন্য নিজ পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। গত সপ্তাহে তিনি নিজ ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আরিফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে রামিকাকে আরিফের পাশে বসে শান্তভাবে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
"আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং আমি নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে আরিফকে বিয়ে করেছি। আমার ওপর কারো কোনো চাপ ছিল না। গত দুই বছর ধরে আমি আমার বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা শোনেননি। এখন আমরা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছি এবং আমি সুখী।"
রামিমা আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি তাদের ওপর বা আরিফের পরিবারের ওপর কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি করা হয়, তবে তিনি আত্মহননের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। বর্তমানে বড়ি ব্রাহ্মণা পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে এবং তরুণীর জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম গ্রহণ ও পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এছাড়া ‘হাদিয়া বনাম কেরালা রাজ্য’ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট রায় দিয়েছিল যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কার সাথে জীবন কাটাবেন বা কোন ধর্ম অনুসরণ করবেন, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যেখানে রাষ্ট্র বা পরিবারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখনই কোনো অমুসলিম তরুণী স্বেচ্ছায় মুসলিম যুবককে পছন্দ করেন, তখন সেটিকে অপরাধ হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ আইনত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিজের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই ঘটনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হস্তক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি সংবিধানিক অধিকারকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কোনো প্রকার চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ওই নবদম্পতির নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কতটা স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়।

আপনার মতামত লিখুন