বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েক দাবি করেছেন, বিশ্বের সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ও বিশাল সামরিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমারা আজ মুসলিম প্রতিরোধের কাছে পরাজিত। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও তালেবানের সাফল্যের মূল রহস্য হলো তাদের মৃত্যুভয়হীন ঈমানি চেতনা। ড. নায়েক মুসলিম বিশ্বের বর্তমান দুর্দশার জন্য 'ওহেন' বা দুনিয়ার মোহকে দায়ী করে অনতিবিলম্বে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদ এবং জায়নবাদী শক্তির বর্তমান সংকট নিয়ে এক বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পেশ করেছেন ড. জাকির নায়েক। সম্প্রতি 'SNEAKO' ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাহসী মন্তব্য করেন।
ড. নায়েক বলেন, "আফগানিস্তানের দিকে তাকান। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিমারা এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেও শেষ পর্যন্ত চরম অপমানের সাথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম 'দুর্বল' মনে করা একটি শক্তি বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছে। বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে আমেরিকা-ইসরায়েলের শতকোটি ডলারের অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান ও রাডার সিস্টেম, অন্যদিকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মাত্র ৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের সস্তা ড্রোন। এই ড্রোনগুলোই আজ পশ্চিমাদের বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিচ্ছে।"
ড. জাকির নায়েকের মতে, এই যুদ্ধের জয়-পরাজয় প্রযুক্তির চেয়ে বেশি নির্ভর করছে মানসিক শক্তির ওপর। তিনি বলেন, "ইরান ও তালেবান মৃত্যুকে ভয় পায় না। যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষ পালানোর বদলে সেখানে মানবঢাল তৈরি করে। এই চেতনা যে জাতির আছে, তাকে হারানো অসম্ভব।"
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিমরা আজ সংখ্যায় ২০০ কোটির বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'ওহেন' নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। অর্থাৎ, তারা দুনিয়াকে ভালোবাসছে এবং মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিমদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মুসলিম দেশ আজ নিজেদের গদি রক্ষা করতে কাফেরদের সাথে জোট বাঁধছে এবং অন্য মুসলিম দেশকে ধ্বংস করতে সহায়তা করছে।
শিয়া-সুন্নি বা অন্যান্য মাজহাবি বিভেদ ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ইসরায়েল ও আমেরিকা যখন একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালায়, তখন বিভেদ ভুলে রুখে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।" ২০১৬ সালে ভারত থেকে হিজরত করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, মোদি সরকার তাকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পক্ষ নেওয়ার বিনিময়ে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সত্যের সাথে আপস না করে দেশত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন।
বিষয় : জাকির নায়েক

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েক দাবি করেছেন, বিশ্বের সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ও বিশাল সামরিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমারা আজ মুসলিম প্রতিরোধের কাছে পরাজিত। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও তালেবানের সাফল্যের মূল রহস্য হলো তাদের মৃত্যুভয়হীন ঈমানি চেতনা। ড. নায়েক মুসলিম বিশ্বের বর্তমান দুর্দশার জন্য 'ওহেন' বা দুনিয়ার মোহকে দায়ী করে অনতিবিলম্বে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদ এবং জায়নবাদী শক্তির বর্তমান সংকট নিয়ে এক বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পেশ করেছেন ড. জাকির নায়েক। সম্প্রতি 'SNEAKO' ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাহসী মন্তব্য করেন।
ড. নায়েক বলেন, "আফগানিস্তানের দিকে তাকান। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিমারা এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেও শেষ পর্যন্ত চরম অপমানের সাথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম 'দুর্বল' মনে করা একটি শক্তি বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছে। বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে আমেরিকা-ইসরায়েলের শতকোটি ডলারের অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান ও রাডার সিস্টেম, অন্যদিকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মাত্র ৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের সস্তা ড্রোন। এই ড্রোনগুলোই আজ পশ্চিমাদের বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিচ্ছে।"
ড. জাকির নায়েকের মতে, এই যুদ্ধের জয়-পরাজয় প্রযুক্তির চেয়ে বেশি নির্ভর করছে মানসিক শক্তির ওপর। তিনি বলেন, "ইরান ও তালেবান মৃত্যুকে ভয় পায় না। যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষ পালানোর বদলে সেখানে মানবঢাল তৈরি করে। এই চেতনা যে জাতির আছে, তাকে হারানো অসম্ভব।"
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিমরা আজ সংখ্যায় ২০০ কোটির বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'ওহেন' নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। অর্থাৎ, তারা দুনিয়াকে ভালোবাসছে এবং মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিমদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মুসলিম দেশ আজ নিজেদের গদি রক্ষা করতে কাফেরদের সাথে জোট বাঁধছে এবং অন্য মুসলিম দেশকে ধ্বংস করতে সহায়তা করছে।
শিয়া-সুন্নি বা অন্যান্য মাজহাবি বিভেদ ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ইসরায়েল ও আমেরিকা যখন একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালায়, তখন বিভেদ ভুলে রুখে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।" ২০১৬ সালে ভারত থেকে হিজরত করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, মোদি সরকার তাকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পক্ষ নেওয়ার বিনিময়ে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সত্যের সাথে আপস না করে দেশত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন