মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর দায়ে ৬ আন্দোলনকারী আটক



প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর দায়ে ৬ আন্দোলনকারী আটক

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের দায়ে ৬ জলবায়ু ও অধিকার কর্মীকে আটক করেছে ফরাসি পুলিশ। ফিলিস্তিনিদের ওপর ১৯৪৮ সালের ইসরায়েলি সহিংসতার স্মরণে আয়োজিত 'নাকবা' (বিপর্যয়) দিবসের ৭৮তম বার্ষিকীতে এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ফরাসি পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আটককৃত ব্যক্তিরা আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিলেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'লে প্যারিসিয়েন'-কে জানান, "একটি সুরক্ষিত এলাকায় অবৈধ প্রবেশ এবং অন্য মানুষের জীবন বিপন্ন করার" অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, তবে অভিযোগটি সুনির্দিষ্টভাবে কোন পক্ষ দাখিল করছে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী গোষ্ঠী "এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন" (Extinction Rebellion)-এর একদল কর্মী আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় আকস্মিকভাবে একটি বিশাল ফিলিস্তিনি পতাকা উন্মোচন করেন। ১৯৪৮ সালের নাকবা দিবসের স্মৃতি ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সংহতি জানাতেই এই স্থানটিকে বেছে নেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং ৬ জনকে হেফাজতে নেয়। এই ঘটনাটি প্যারিসের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই আটকের ফলে আইফেল টাওয়ারের সাধারণ পর্যটকদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে কিনা, তা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি সদস্য রিমা হাসান এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফরাসি প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণের দিকে আঙুল তোলেন। রিমা হাসান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর প্যারিসের তৎকালীন মেয়র অ্যান হিদালগো রাষ্ট্রীয়ভাবে আইফেল টাওয়ারকে ইসরায়েলি পতাকার রঙে আলোকিত করেছিলেন, যা কোনো আইনি বাধার সম্মুখীন হয়নি।

মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, একই স্থাপনায় এক দেশের পতাকার প্রদর্শনীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং অন্য দেশের পতাকার প্রকাশকে "নিরাপত্তা হুমকি" হিসেবে গণ্য করা আইনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি ফরাসি নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার ও বৈষম্যহীন জবাবদিহিতার নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আইফেল টাওয়ারের ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কেন্দ্রিক প্রতীকী ব্যবহার এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সমর্থনে টাওয়ারে আলো প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। আবার এর বিপরীতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—উভয় দেশের পতাকাই একসাথে প্রদর্শন করা হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ারের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা প্রদর্শন ফরাসি আইনের দৃষ্টিতে সংবেদনশীল হলেও, আটকের এই ঘটনাটি প্রকাশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নতুন আইনি ও নৈতিক বিতর্ক উস্কে দিল।

বিষয় : ফ্রান্স

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর দায়ে ৬ আন্দোলনকারী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের দায়ে ৬ জলবায়ু ও অধিকার কর্মীকে আটক করেছে ফরাসি পুলিশ। ফিলিস্তিনিদের ওপর ১৯৪৮ সালের ইসরায়েলি সহিংসতার স্মরণে আয়োজিত 'নাকবা' (বিপর্যয়) দিবসের ৭৮তম বার্ষিকীতে এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ফরাসি পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আটককৃত ব্যক্তিরা আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিলেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'লে প্যারিসিয়েন'-কে জানান, "একটি সুরক্ষিত এলাকায় অবৈধ প্রবেশ এবং অন্য মানুষের জীবন বিপন্ন করার" অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, তবে অভিযোগটি সুনির্দিষ্টভাবে কোন পক্ষ দাখিল করছে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী গোষ্ঠী "এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন" (Extinction Rebellion)-এর একদল কর্মী আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় আকস্মিকভাবে একটি বিশাল ফিলিস্তিনি পতাকা উন্মোচন করেন। ১৯৪৮ সালের নাকবা দিবসের স্মৃতি ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সংহতি জানাতেই এই স্থানটিকে বেছে নেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং ৬ জনকে হেফাজতে নেয়। এই ঘটনাটি প্যারিসের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই আটকের ফলে আইফেল টাওয়ারের সাধারণ পর্যটকদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে কিনা, তা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি সদস্য রিমা হাসান এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফরাসি প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণের দিকে আঙুল তোলেন। রিমা হাসান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর প্যারিসের তৎকালীন মেয়র অ্যান হিদালগো রাষ্ট্রীয়ভাবে আইফেল টাওয়ারকে ইসরায়েলি পতাকার রঙে আলোকিত করেছিলেন, যা কোনো আইনি বাধার সম্মুখীন হয়নি।

মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, একই স্থাপনায় এক দেশের পতাকার প্রদর্শনীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং অন্য দেশের পতাকার প্রকাশকে "নিরাপত্তা হুমকি" হিসেবে গণ্য করা আইনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি ফরাসি নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার ও বৈষম্যহীন জবাবদিহিতার নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আইফেল টাওয়ারের ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কেন্দ্রিক প্রতীকী ব্যবহার এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সমর্থনে টাওয়ারে আলো প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। আবার এর বিপরীতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—উভয় দেশের পতাকাই একসাথে প্রদর্শন করা হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ারের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা প্রদর্শন ফরাসি আইনের দৃষ্টিতে সংবেদনশীল হলেও, আটকের এই ঘটনাটি প্রকাশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নতুন আইনি ও নৈতিক বিতর্ক উস্কে দিল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ