মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

১৫ বছরের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় মিলল নির্মাণ অনুমতি, সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হবে দাফন

জার্মানিতে প্রথম স্বাধীন মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের অনুমোদন, ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান



জার্মানিতে প্রথম স্বাধীন মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের অনুমোদন, ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান

জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র মুসলিম কবরস্থান প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভুপারটাল শহরে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের নির্মাণ অনুমতি (বিল্ডিং পারমিট) জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জার্মানির মুসলিমদের দীর্ঘদিনের একটি বড় ধর্মীয় ও সামাজিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছে।

জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভুপারটাল শহরে সরাসরি মুসলিম কমিউনিটি দ্বারা পরিচালিত জার্মানির প্রথম স্বতন্ত্র মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র বা কাঠামো অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছে।

'Islamic.de'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুপারটালের মেয়র মিরিয়াম শেরফ (Miriam Scherff), নগর উন্নয়ন ও নির্মাণ বিষয়ক প্রধান গুনার ওহরনডর্ফ এবং ভুপারটাল মুসলিম কবরস্থান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সমীর বুয়াইসা যৌথভাবে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র গ্রহণ করেছেন।

জার্মানিতে এ যাবৎকাল পর্যন্ত মুসলিমদের মৃত্যুর পর সাধারণত পৌরসভা বা সরকারি সাধারণ কবরস্থানের ভেতরে নির্দিষ্ট করে রাখা বিশেষ অংশে (মুসলিম ব্লকে) দাফন করা হতো। তবে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও স্বাধীন কোনো কবরস্থান ছিল না। ভুপারটাল শহরের ১০টি মসজিদের পরিচালনা কমিটি ও মুসলিম কমিউনিটি একত্রিত হয়ে একটি বিশেষ অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে এই উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা, আলোচনা এবং আইনি প্রক্রিয়া পার করার পর অবশেষে এই স্বপ্নের প্রকল্প আলোর মুখ দেখল। জার্মানির ইতিহাসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার কবরস্থান হিসেবে এটিই প্রথম অনন্য দৃষ্টান্ত।

ঐতিহাসিক এই কবরস্থানটি শহরের ভার্রেসবেক নামক জেলায় স্থাপন করা হচ্ছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি ইহুদি কবরস্থান এবং একটি খ্রিস্টান কবরস্থানের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যা ওই অঞ্চলে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কবরস্থানে প্রায় ১,০০০টি মরদেহ দাফনের সুব্যবস্থা বা ধারণক্ষমতা থাকবে।

সম্পূর্ণ ইসলামী নিয়ম-কানুন ও শরিয়াহ মোতাবেক এই কবরস্থানের নকশা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে দাফনের ক্ষেত্রে কোনো কফিন বা বাক্সের ব্যবহার না করে ঐতিহ্যগতভাবে শুধু কাফনের কাপড় দিয়ে দাফন করা হবে। প্রতিটি কবরের দিক বা অবস্থান থাকবে পবিত্র মক্কার (কিবলা) দিকে এবং এখানে কোনো অবস্থাতেই মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম বা প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে না।

প্রায় ১৯,০০০ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এই জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। পুরো প্রকল্পটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ইউরো (১ মিলিয়ন ইউরো)। এই খরচের সিংহভাগ অর্থই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুদান ও স্বেচ্ছামূলক তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হবে।

এই প্রকল্পের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে। মূলত ২০১৪ সালে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার রাজ্য সংসদ তাদের দাফন ও সমাধি সংক্রান্ত আইনে (Funeral Act) একটি ঐতিহাসিক সংশোধন এনেছিল। সেই সংশোধনীতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে নিজস্ব কবরস্থান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের আইনি অধিকার দেওয়া হয়। সেই আইনের ওপর ভিত্তি করেই চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই এই কবরস্থানের মাঠপর্যায়ের নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিষয় : জার্মান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


জার্মানিতে প্রথম স্বাধীন মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের অনুমোদন, ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র মুসলিম কবরস্থান প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভুপারটাল শহরে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের নির্মাণ অনুমতি (বিল্ডিং পারমিট) জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জার্মানির মুসলিমদের দীর্ঘদিনের একটি বড় ধর্মীয় ও সামাজিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছে।

জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভুপারটাল শহরে সরাসরি মুসলিম কমিউনিটি দ্বারা পরিচালিত জার্মানির প্রথম স্বতন্ত্র মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র বা কাঠামো অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছে।

'Islamic.de'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুপারটালের মেয়র মিরিয়াম শেরফ (Miriam Scherff), নগর উন্নয়ন ও নির্মাণ বিষয়ক প্রধান গুনার ওহরনডর্ফ এবং ভুপারটাল মুসলিম কবরস্থান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সমীর বুয়াইসা যৌথভাবে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র গ্রহণ করেছেন।

জার্মানিতে এ যাবৎকাল পর্যন্ত মুসলিমদের মৃত্যুর পর সাধারণত পৌরসভা বা সরকারি সাধারণ কবরস্থানের ভেতরে নির্দিষ্ট করে রাখা বিশেষ অংশে (মুসলিম ব্লকে) দাফন করা হতো। তবে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও স্বাধীন কোনো কবরস্থান ছিল না। ভুপারটাল শহরের ১০টি মসজিদের পরিচালনা কমিটি ও মুসলিম কমিউনিটি একত্রিত হয়ে একটি বিশেষ অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে এই উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা, আলোচনা এবং আইনি প্রক্রিয়া পার করার পর অবশেষে এই স্বপ্নের প্রকল্প আলোর মুখ দেখল। জার্মানির ইতিহাসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার কবরস্থান হিসেবে এটিই প্রথম অনন্য দৃষ্টান্ত।

ঐতিহাসিক এই কবরস্থানটি শহরের ভার্রেসবেক নামক জেলায় স্থাপন করা হচ্ছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি ইহুদি কবরস্থান এবং একটি খ্রিস্টান কবরস্থানের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যা ওই অঞ্চলে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কবরস্থানে প্রায় ১,০০০টি মরদেহ দাফনের সুব্যবস্থা বা ধারণক্ষমতা থাকবে।

সম্পূর্ণ ইসলামী নিয়ম-কানুন ও শরিয়াহ মোতাবেক এই কবরস্থানের নকশা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে দাফনের ক্ষেত্রে কোনো কফিন বা বাক্সের ব্যবহার না করে ঐতিহ্যগতভাবে শুধু কাফনের কাপড় দিয়ে দাফন করা হবে। প্রতিটি কবরের দিক বা অবস্থান থাকবে পবিত্র মক্কার (কিবলা) দিকে এবং এখানে কোনো অবস্থাতেই মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম বা প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে না।

প্রায় ১৯,০০০ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এই জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। পুরো প্রকল্পটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ইউরো (১ মিলিয়ন ইউরো)। এই খরচের সিংহভাগ অর্থই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুদান ও স্বেচ্ছামূলক তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হবে।

এই প্রকল্পের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে। মূলত ২০১৪ সালে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার রাজ্য সংসদ তাদের দাফন ও সমাধি সংক্রান্ত আইনে (Funeral Act) একটি ঐতিহাসিক সংশোধন এনেছিল। সেই সংশোধনীতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে নিজস্ব কবরস্থান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের আইনি অধিকার দেওয়া হয়। সেই আইনের ওপর ভিত্তি করেই চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই এই কবরস্থানের মাঠপর্যায়ের নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ