অধিকৃত জেরুজালেম (কুদ্স) শহরে কোনো দেশ বা অঞ্চলের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশন চালু করলেই ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ভূমির ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কোনো আইনি বা নৈতিক বৈধতা তৈরি হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরিমা সাবরি। গত সোমবার (১৫ জুন) সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড' কর্তৃক জেরুজালেমে বিতর্কিত দূতাবাস খোলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (১৭ জুন) রামাল্লাহ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। শেখ সাবরি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জেরুজালেম প্রাচীনকাল থেকেই ফিলিস্তিনের ছিল এবং চিরকাল ফিলিস্তিনেরই থাকবে।
সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও স্বঘোষিত স্বাধীন অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড' কর্তৃক অধিকৃত জেরুজালেমে তথাকথিত দূতাবাস খোলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেরুজালেম সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের সভাপতি এবং আল-আকসা মসজিদের সম্মানিত খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি। ১৭ জুন বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বকে এই ধরনের আত্মঘাতী ও লজ্জাজনক পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
শেখ সাবরি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন,
"জেরুজালেম শহরকে কেন্দ্র করে গৃহীত যেকোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপই দখলদার ইসরায়েলকে কোনো প্রকার বৈধতা দিতে পারবে না। এই ধরনের কৃত্রিম পদক্ষেপ জেরুজালেমের মূল ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও জাতীয় মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।"
তিনি মুসলিম ও আরব রাষ্ট্রগুলোর বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফিলিস্তিন এবং পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসের সুরক্ষায় এই মুহূর্তে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও ঐক্য বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। মুসলিম দেশগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল করে তোলে—এমন সব ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মতভেদ একপাশে সরিয়ে রেখে সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হিসেবে উল্লেখ করে শেখ সাবরি সোমালিয়ার অখণ্ডতা বিনষ্টকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি তার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন এই প্রবীণ নেতা দখলদার ইসরায়েলের সাথে যেকোনো ধরনের জোট গঠন বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন: "অবৈধ দখলদার ইসরায়েলের সাথে মৈত্রীর অংশ হিসেবে জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক স্বার্থ ও ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল। যারা পবিত্র কুদ্স নগরীকে অবমাননা করে দখলদারদের সাথে হাত মেলাচ্ছে, ইতিহাস তাদের এই কর্মকাণ্ডকে চরম লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ রাখবে।"
উল্লেখ্য, সোমালিয়া থেকে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণাকারী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড'-কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি না দিলেও ইহুদিবাদী ইসরায়েল তাদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৫ জুন) সোমালিল্যান্ড জেরুজালেমে তাদের কথিত দূতাবাস উদ্বোধন করে। এর আগে সোমালিল্যান্ডের আঞ্চলিক নেতা আবদিরহমান মুহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরায়েল সফর করেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুসলিম বিশ্বের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিষয় : ফিলিস্তিন

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
অধিকৃত জেরুজালেম (কুদ্স) শহরে কোনো দেশ বা অঞ্চলের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশন চালু করলেই ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ভূমির ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কোনো আইনি বা নৈতিক বৈধতা তৈরি হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরিমা সাবরি। গত সোমবার (১৫ জুন) সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড' কর্তৃক জেরুজালেমে বিতর্কিত দূতাবাস খোলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (১৭ জুন) রামাল্লাহ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। শেখ সাবরি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জেরুজালেম প্রাচীনকাল থেকেই ফিলিস্তিনের ছিল এবং চিরকাল ফিলিস্তিনেরই থাকবে।
সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও স্বঘোষিত স্বাধীন অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড' কর্তৃক অধিকৃত জেরুজালেমে তথাকথিত দূতাবাস খোলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেরুজালেম সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের সভাপতি এবং আল-আকসা মসজিদের সম্মানিত খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি। ১৭ জুন বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বকে এই ধরনের আত্মঘাতী ও লজ্জাজনক পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
শেখ সাবরি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন,
"জেরুজালেম শহরকে কেন্দ্র করে গৃহীত যেকোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপই দখলদার ইসরায়েলকে কোনো প্রকার বৈধতা দিতে পারবে না। এই ধরনের কৃত্রিম পদক্ষেপ জেরুজালেমের মূল ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও জাতীয় মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।"
তিনি মুসলিম ও আরব রাষ্ট্রগুলোর বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফিলিস্তিন এবং পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসের সুরক্ষায় এই মুহূর্তে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও ঐক্য বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। মুসলিম দেশগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল করে তোলে—এমন সব ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মতভেদ একপাশে সরিয়ে রেখে সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হিসেবে উল্লেখ করে শেখ সাবরি সোমালিয়ার অখণ্ডতা বিনষ্টকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি তার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন এই প্রবীণ নেতা দখলদার ইসরায়েলের সাথে যেকোনো ধরনের জোট গঠন বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন: "অবৈধ দখলদার ইসরায়েলের সাথে মৈত্রীর অংশ হিসেবে জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক স্বার্থ ও ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল। যারা পবিত্র কুদ্স নগরীকে অবমাননা করে দখলদারদের সাথে হাত মেলাচ্ছে, ইতিহাস তাদের এই কর্মকাণ্ডকে চরম লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ রাখবে।"
উল্লেখ্য, সোমালিয়া থেকে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণাকারী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড'-কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি না দিলেও ইহুদিবাদী ইসরায়েল তাদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৫ জুন) সোমালিল্যান্ড জেরুজালেমে তাদের কথিত দূতাবাস উদ্বোধন করে। এর আগে সোমালিল্যান্ডের আঞ্চলিক নেতা আবদিরহমান মুহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরায়েল সফর করেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুসলিম বিশ্বের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন