ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে শিয়া সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত আকাশ, স্থল ও সমুদ্রজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে চলা সংঘাতের পর নতুন করে এই উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্য ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথকে হুমকিতে ফেলেছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের মেঘ
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইয়েমেন আবারও এক মহা-সংগ্রামের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেন সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন জোটের সঙ্গে হুতি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকি এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, শান্তি আলোচনার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।
সরকারি ও কোয়ালিশন জোটের শক্তির সমীকরণ
সামরিক শক্তির দিক থেকে ইয়েমেন সরকারের হাতে রয়েছে সাতটি সামরিক অঞ্চলে বিস্তৃত প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার নিয়মিত সেনা। এছাড়া 'ন্যাশনাল শিল্ড' এবং 'দেভাহাত'-এর মতো নতুন গঠিত সামরিক ইউনিটে যুক্ত রয়েছে আরও ২ লক্ষাধিক সশস্ত্র সদস্য।
হালকা, মাঝারি ও ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি সাজোঁয়া যান ও পুনর্গঠিত বিমান বাহিনীর সমর্থন রয়েছে সরকারি বাহিনীর কাছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সরাসরি বিমান হামলা ও রসদ সরবরাহের পূর্ণ সহায়তা পাচ্ছে তারা। তবে অতীত সামরিক কমান্ডের সমন্বয়হীনতা এবং বেসামরিক প্রাণহানির ভয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সরকার কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা
অপরদিকে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা নিজেদের সামরিক শক্তির দিক থেকে বেশ পোক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ৩ লাখ নিয়মিত সেনার পাশাপাশি তাদের রয়েছে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি প্রস্তুত রাখা রিজার্ভ বা সংহতি বাহিনী।
বিশেষ করে ড্রন (UAV), ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রভিত্তিক হামলায় হুতিদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দৃশ্যমান। একক ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর কারণে তারা দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তবে আন্তর্জাতিক অবরোধ, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্বতা হুতিদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
লোহিত সাগর ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইয়েমেন সংকটে। তেহরান থেকে আসা সামরিক পরামর্শ ও সরঞ্জাম সহায়তা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুতিদের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিষয় : ইয়েমেন

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে শিয়া সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত আকাশ, স্থল ও সমুদ্রজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে চলা সংঘাতের পর নতুন করে এই উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্য ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথকে হুমকিতে ফেলেছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের মেঘ
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইয়েমেন আবারও এক মহা-সংগ্রামের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেন সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন জোটের সঙ্গে হুতি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকি এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, শান্তি আলোচনার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।
সরকারি ও কোয়ালিশন জোটের শক্তির সমীকরণ
সামরিক শক্তির দিক থেকে ইয়েমেন সরকারের হাতে রয়েছে সাতটি সামরিক অঞ্চলে বিস্তৃত প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার নিয়মিত সেনা। এছাড়া 'ন্যাশনাল শিল্ড' এবং 'দেভাহাত'-এর মতো নতুন গঠিত সামরিক ইউনিটে যুক্ত রয়েছে আরও ২ লক্ষাধিক সশস্ত্র সদস্য।
হালকা, মাঝারি ও ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি সাজোঁয়া যান ও পুনর্গঠিত বিমান বাহিনীর সমর্থন রয়েছে সরকারি বাহিনীর কাছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সরাসরি বিমান হামলা ও রসদ সরবরাহের পূর্ণ সহায়তা পাচ্ছে তারা। তবে অতীত সামরিক কমান্ডের সমন্বয়হীনতা এবং বেসামরিক প্রাণহানির ভয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সরকার কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা
অপরদিকে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা নিজেদের সামরিক শক্তির দিক থেকে বেশ পোক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ৩ লাখ নিয়মিত সেনার পাশাপাশি তাদের রয়েছে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি প্রস্তুত রাখা রিজার্ভ বা সংহতি বাহিনী।
বিশেষ করে ড্রন (UAV), ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রভিত্তিক হামলায় হুতিদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দৃশ্যমান। একক ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর কারণে তারা দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তবে আন্তর্জাতিক অবরোধ, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্বতা হুতিদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
লোহিত সাগর ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইয়েমেন সংকটে। তেহরান থেকে আসা সামরিক পরামর্শ ও সরঞ্জাম সহায়তা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুতিদের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মধ্যস্থতার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন