বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (NTA) নিয়মে ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও রাজস্থানের আজমিরে হেনস্থা; পরবর্তীতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি

বোরকা পরায় পরীক্ষার্থীকে বাধা: মুসলিম পরিচয় বিসর্জন দিয়ে পরীক্ষা দেব না, হুঁশিয়ারি কুলসুমের



বোরকা পরায় পরীক্ষার্থীকে বাধা: মুসলিম পরিচয় বিসর্জন দিয়ে পরীক্ষা দেব না, হুঁশিয়ারি কুলসুমের

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমির জেলায় বোরকা ও হিজাব পরার কারণে কুলসুম বানো নামে এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে নিট (NEET UG) পুনরীকক্ষায় বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (২১ জুন) পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (NTA) স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পোশাকে বাধা দিয়ে হেনস্থা করার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ভারতের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি ২০২৬’ (NEET UG 2026)-এর পুনরীক্ষা চলাকালীন রাজস্থানের আজমিরে এক চরম বৈষম্যমূলক ও হেনস্তামূলক ঘটনা সামনে এসেছে। বোরকা এবং হিজাব পরিহিত থাকার কারণে কুলসুম বানো নামের এক ১৮ বছর বয়সী মুসলিম নারী শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয় কর্তব্যরত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষাটি প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির কারণে বাতিল হওয়ার পর রবিবার দেশব্যাপী এই পুনরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কুলসুম বানো তার বাবা মোহাম্মদ আলিমের সাথে বিয়াওয়ার শহর থেকে আজমিরের ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, বোরকা এবং হিজাব পরে পরীক্ষা হলে ঢোকা যাবে না। পরীক্ষা দিতে হলে তাকে এই ধর্মীয় পোশাক খুলে প্রবেশ করতে হবে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কুলসুম বানো গণমাধ্যমের সামনে বলেন, "জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) স্পষ্ট নীতিমালায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। গত ৩ মে যখন আমি মূল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম, তখনও আমি ঠিক এই বোরকা এবং ওড়না পরেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তখন কোনো সমস্যা হয়নি। যদি এনটিএ আমাদের অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে এই পুলিশ বা নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের আটকে রাখার কোনো অধিকার রাখে না।"

নিজের ধর্মীয় অধিকার ও আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কুলসুম আরও বলেন, "আমি আমার মুসলিম পরিচয় বিসর্জন দিয়ে কোনো পরীক্ষায় বসব না। যদি তারা আমাকে এই পোশাকে পরীক্ষা দিতে না দেয়, তবে আমি পরীক্ষায় অংশই নেব না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে তারা ১৮ বছরের তরুণ-তরুণীদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলছে। আমার কাছে পরীক্ষার চেয়ে আমার বোরকা এবং আমার মুসলিম পরিচয় অনেক বেশি মূল্যবান।"

কুলসুমের বাবা মোহাম্মদ আলিম জানান, বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নারী কর্মীদের দিয়ে তল্লাশি করার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শুরুতে সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়। আলিম বলেন, "এনটিএ-এর নির্দেশিকার ১৮ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। যেহেতু এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, তাই তাদের অবশ্যই এটি মানতে হবে। অন্যথায় আমার মেয়ে বোরকা ছাড়া পরীক্ষা দেবে না।"

পুলিশের অবস্থান ও সমাধান

ঘটনাটি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এবং গণমাধ্যমে জানাজানি হলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। পরবর্তীতে আজমির পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আজমির পুলিশের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "নিয়মকানুন নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে স্পষ্ট করা হয়েছে। বোরকা সংক্রান্ত সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে এবং উক্ত শিক্ষার্থীসহ সকল পরীক্ষার্থীকে শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।"

উল্লেখ্য, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রবিবার ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রসহ বিদেশের কেন্দ্রগুলোতেও নিট পুনরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইলেকট্রনিক জালিয়াতি রুখতে দেশজুড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৫১ হাজার ৩১১টি জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এত নিরাপত্তার মধ্যেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পোশাককে কেন্দ্র করে এমন হেনস্থার ঘটনা প্রশাসনের ইসলামভীতি ও উগ্র মানসিকতাকেই উস্কে দেয় বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


বোরকা পরায় পরীক্ষার্থীকে বাধা: মুসলিম পরিচয় বিসর্জন দিয়ে পরীক্ষা দেব না, হুঁশিয়ারি কুলসুমের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমির জেলায় বোরকা ও হিজাব পরার কারণে কুলসুম বানো নামে এক মুসলিম শিক্ষার্থীকে নিট (NEET UG) পুনরীকক্ষায় বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (২১ জুন) পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (NTA) স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পোশাকে বাধা দিয়ে হেনস্থা করার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ভারতের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি ২০২৬’ (NEET UG 2026)-এর পুনরীক্ষা চলাকালীন রাজস্থানের আজমিরে এক চরম বৈষম্যমূলক ও হেনস্তামূলক ঘটনা সামনে এসেছে। বোরকা এবং হিজাব পরিহিত থাকার কারণে কুলসুম বানো নামের এক ১৮ বছর বয়সী মুসলিম নারী শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয় কর্তব্যরত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষাটি প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির কারণে বাতিল হওয়ার পর রবিবার দেশব্যাপী এই পুনরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কুলসুম বানো তার বাবা মোহাম্মদ আলিমের সাথে বিয়াওয়ার শহর থেকে আজমিরের ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, বোরকা এবং হিজাব পরে পরীক্ষা হলে ঢোকা যাবে না। পরীক্ষা দিতে হলে তাকে এই ধর্মীয় পোশাক খুলে প্রবেশ করতে হবে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কুলসুম বানো গণমাধ্যমের সামনে বলেন, "জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) স্পষ্ট নীতিমালায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। গত ৩ মে যখন আমি মূল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম, তখনও আমি ঠিক এই বোরকা এবং ওড়না পরেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তখন কোনো সমস্যা হয়নি। যদি এনটিএ আমাদের অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে এই পুলিশ বা নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের আটকে রাখার কোনো অধিকার রাখে না।"

নিজের ধর্মীয় অধিকার ও আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কুলসুম আরও বলেন, "আমি আমার মুসলিম পরিচয় বিসর্জন দিয়ে কোনো পরীক্ষায় বসব না। যদি তারা আমাকে এই পোশাকে পরীক্ষা দিতে না দেয়, তবে আমি পরীক্ষায় অংশই নেব না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে তারা ১৮ বছরের তরুণ-তরুণীদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলছে। আমার কাছে পরীক্ষার চেয়ে আমার বোরকা এবং আমার মুসলিম পরিচয় অনেক বেশি মূল্যবান।"

কুলসুমের বাবা মোহাম্মদ আলিম জানান, বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নারী কর্মীদের দিয়ে তল্লাশি করার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শুরুতে সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়। আলিম বলেন, "এনটিএ-এর নির্দেশিকার ১৮ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। যেহেতু এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, তাই তাদের অবশ্যই এটি মানতে হবে। অন্যথায় আমার মেয়ে বোরকা ছাড়া পরীক্ষা দেবে না।"

পুলিশের অবস্থান ও সমাধান

ঘটনাটি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এবং গণমাধ্যমে জানাজানি হলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। পরবর্তীতে আজমির পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আজমির পুলিশের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "নিয়মকানুন নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে স্পষ্ট করা হয়েছে। বোরকা সংক্রান্ত সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে এবং উক্ত শিক্ষার্থীসহ সকল পরীক্ষার্থীকে শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।"

উল্লেখ্য, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রবিবার ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রসহ বিদেশের কেন্দ্রগুলোতেও নিট পুনরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইলেকট্রনিক জালিয়াতি রুখতে দেশজুড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৫১ হাজার ৩১১টি জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এত নিরাপত্তার মধ্যেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পোশাককে কেন্দ্র করে এমন হেনস্থার ঘটনা প্রশাসনের ইসলামভীতি ও উগ্র মানসিকতাকেই উস্কে দেয় বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ