শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

তুরস্কের আনতালিয়ায় ১৩ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরীকে ধর্মীয় পোশাক ‘হাশিমা’ (বুরকিনি) পরার কারণে সুইমিং পুলে নামতে বাধা দেওয়ায় এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

তুরস্কে বুরকিনি পরে পুলে নামায় মুসলিম কিশোরীকে বাধা: রুশ বংশোদ্ভূত সাইট ম্যানেজার গ্রেপ্তার



তুরস্কে বুরকিনি পরে পুলে নামায় মুসলিম কিশোরীকে বাধা: রুশ বংশোদ্ভূত সাইট ম্যানেজার গ্রেপ্তার

তুরস্কের আনতালিয়া প্রদেশের আলানিয়া জেলায় ধর্মীয় শালীনতা বজায় রাখার পোশাক ‘হাশিমা’ (বুরকিনি) পরে সুইমিং পুলে নামার চেষ্টা করায় ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে হেনস্তা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার মুখে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লুদমিনা ইনান (৬৪) নামে এক রুশ বংশোদ্ভূত সাইট ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) ওই কিশোরীর পরিবারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তুরস্কের পর্যটন নগরী আনতালিয়ার আলানিয়া জেলার মাহমুদলার অঞ্চলের একটি আবাসিক সাইটে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরী 'এইচ.কে' (ছদ্মনাম) তার ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবে শরীর ঢাকা সাঁতারের পোশাক ‘হাশিমা’ (যা আন্তর্জাতিকভাবে বুরকিনি নামে পরিচিত) পরিধান করে আবাসিক সাইটের সুইমিং পুলে নামতে গিয়েছিল।

সে সময় ওই আবাসিক এলাকার দায়িত্বরত রুশ বংশোদ্ভূত ম্যানেজার লুদমিনা ইনান (৬৪) ওই কিশোরীকে পুলে নামতে বাধা দেন এবং সরাসরি তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত কিশোরীর এক কাজিন বিষয়টি ফোনে তার বাবাকে জানালে, পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে তুর্কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জেনডারমারির (Jandarma) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে জেনডারমারি দ্রুত অভিযান চালিয়ে লুদমিনা ইনানকে আটক করে এবং আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা ফাতিহ কে. সাংবাদিকদের বলেন:

"ওই নারী একজন প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকের সাথে কথা না বলে সরাসরি আমার নাবালিকা মেয়ের সাথে অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেছেন। তিনি আমার মেয়েকে বলেন, 'তুমি এভাবে পুলে নামতে পারবে না।' আমার মেয়ে যখন এর কারণ জানতে চায়, তখন তিনি দাবি করেন, 'এই পোশাকটি পুল নোংরা করছে। আমরা এই পুলের জন্য অনেক টাকা খরচ করি, ম্যানেজমেন্ট হিসেবে আমরা এই নিয়ম করেছি।' আমার মেয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, এই পোশাকের কাপড় আর সাধারণ মেয়োর (সুইমিং স্যুট) কাপড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, শুধু স্টাইলটা আলাদা। কিন্তু ওই ম্যানেজার তার জেদ বজায় রেখে বলেন, 'আজকের মতো নামো, কিন্তু এরপর আর আসবে না।' একজন মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতীক হাশিমাকে একজন রুশ নাগরিক এসে বাধা দেবেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল আমার মেয়ের আত্মসম্মানে আঘাত নয়, বরং আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আক্রমণ।"

মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পশ্চিমা বা অমুসলিম সংস্কৃতির আগ্রাসী মনোভাবের কারণে মুসলিম প্রধান দেশে এসেও একজন মুসলমানকে তার ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তুর্কি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সমাজ।

বিষয় : তুরস্ক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


তুরস্কে বুরকিনি পরে পুলে নামায় মুসলিম কিশোরীকে বাধা: রুশ বংশোদ্ভূত সাইট ম্যানেজার গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

তুরস্কের আনতালিয়া প্রদেশের আলানিয়া জেলায় ধর্মীয় শালীনতা বজায় রাখার পোশাক ‘হাশিমা’ (বুরকিনি) পরে সুইমিং পুলে নামার চেষ্টা করায় ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে হেনস্তা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার মুখে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লুদমিনা ইনান (৬৪) নামে এক রুশ বংশোদ্ভূত সাইট ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) ওই কিশোরীর পরিবারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তুরস্কের পর্যটন নগরী আনতালিয়ার আলানিয়া জেলার মাহমুদলার অঞ্চলের একটি আবাসিক সাইটে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরী 'এইচ.কে' (ছদ্মনাম) তার ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবে শরীর ঢাকা সাঁতারের পোশাক ‘হাশিমা’ (যা আন্তর্জাতিকভাবে বুরকিনি নামে পরিচিত) পরিধান করে আবাসিক সাইটের সুইমিং পুলে নামতে গিয়েছিল।

সে সময় ওই আবাসিক এলাকার দায়িত্বরত রুশ বংশোদ্ভূত ম্যানেজার লুদমিনা ইনান (৬৪) ওই কিশোরীকে পুলে নামতে বাধা দেন এবং সরাসরি তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত কিশোরীর এক কাজিন বিষয়টি ফোনে তার বাবাকে জানালে, পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে তুর্কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জেনডারমারির (Jandarma) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে জেনডারমারি দ্রুত অভিযান চালিয়ে লুদমিনা ইনানকে আটক করে এবং আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা ফাতিহ কে. সাংবাদিকদের বলেন:

"ওই নারী একজন প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকের সাথে কথা না বলে সরাসরি আমার নাবালিকা মেয়ের সাথে অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেছেন। তিনি আমার মেয়েকে বলেন, 'তুমি এভাবে পুলে নামতে পারবে না।' আমার মেয়ে যখন এর কারণ জানতে চায়, তখন তিনি দাবি করেন, 'এই পোশাকটি পুল নোংরা করছে। আমরা এই পুলের জন্য অনেক টাকা খরচ করি, ম্যানেজমেন্ট হিসেবে আমরা এই নিয়ম করেছি।' আমার মেয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, এই পোশাকের কাপড় আর সাধারণ মেয়োর (সুইমিং স্যুট) কাপড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, শুধু স্টাইলটা আলাদা। কিন্তু ওই ম্যানেজার তার জেদ বজায় রেখে বলেন, 'আজকের মতো নামো, কিন্তু এরপর আর আসবে না।' একজন মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতীক হাশিমাকে একজন রুশ নাগরিক এসে বাধা দেবেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল আমার মেয়ের আত্মসম্মানে আঘাত নয়, বরং আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আক্রমণ।"

মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পশ্চিমা বা অমুসলিম সংস্কৃতির আগ্রাসী মনোভাবের কারণে মুসলিম প্রধান দেশে এসেও একজন মুসলমানকে তার ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তুর্কি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সমাজ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ