ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে শিশুকে পবিত্র কোরআন ও আরবি ভাষা শেখানোর সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কর্মীরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে হট্টগোল ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় উগ্রপন্থীরা দাবি করেছে, মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ব্যক্তিগত ঘরে আরবি পড়ানোও 'অবৈধ মাদ্রাসা' পরিচালনার শামিল। এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম শিক্ষক ও তার সহযোগীকে চরমভাবে হেনস্তা ও ভীতি প্রদর্শন করার পর স্থানীয় থানায় সেটি বন্ধের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে কট্টরপন্থীরা।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। রাজ্যটির চামোলি জেলায় একটি বাড়িতে শিশুকে পবিত্র কোরআন ও আরবির বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়ার সময় উগ্র ডানপন্থী সংগঠন বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কর্মীরা চড়াও হয়। ১ জুলাই থেকে রাজ্যটিতে মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ঢাল বানিয়ে উগ্রপন্থীরা এখন মুসলিমদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চাতেও বাধা সৃষ্টি করছে।
ঘটনার দিন হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা আচমকা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে শিক্ষক এবং তার সহযোগীকে জেরা শুরু করে। তারা ভবনের মালিকানার নথিপত্র দাবি করে এবং সেখানে রাখা আরবি হরফ লেখা বইপত্র ও দেয়ালে টাঙানো নামাজের সময়সূচি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে। উগ্রপন্থীদের দাবি, শুধু আরবি হরফে লেখা থাকার কারণেই এই সময়সূচিটি 'সন্দেহজনক'।
নির্যাতিত শিক্ষকের ভাষ্যমতে, ওই বাড়িতে মূলত জুমার নামাজ আদায় করা হতো এবং পরবর্তীতে কিছু শিশুকে পবিত্র কোরআন পাঠ ও আরবির প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হতো। কিন্তু কট্টরপন্থী কর্মীরা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'অবৈধ মাদ্রাসা' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শিক্ষককে হুমকি দিতে শোনা যায়, "আমরা খুব ভালোবেসে বোঝাচ্ছি, তুই যা করছিস তা ভালো করছিস না, দেখে নেব।"
শুধু ধর্মীয় বিদ্বেষই নয়, এই ঘটনাকে উগ্রপন্থীরা কৌশলগত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেছে, চামোলি জেলাটি ভারতের সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মুসলিমদের উপস্থিতি এবং আরবির চর্চা 'জনমিতিক পরিবর্তন' বা মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের অংশ। এক উগ্রপন্থী নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলে, "এটি অত্যন্ত সমস্যাজনক বিষয়, কারণ এটি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা এবং যেভাবে এখানকার জনমিতি পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরা বিষয়টিকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। একই সাথে এই 'দেবভূমি'র (উত্তরাখণ্ড) পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। এই কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।"
এই ঘটনার পর কট্টরপন্থী দলগুলো স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে এই ব্যক্তিগত পাঠদান বন্ধের দাবি জানায়। কোতোয়ালি ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র রাওয়াত নিশ্চিত করেছেন যে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যদিকে তহশিলদার মহেন্দ্র সিং আশ্বাস দিয়েছেন, বিধি মোতাবেক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছেন, মাদ্রাসা বোর্ড বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে উগ্রপন্থীরা এখন মুসলিমদের ঘরোয়া পরিবেশেও ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা ভারতের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে শিশুকে পবিত্র কোরআন ও আরবি ভাষা শেখানোর সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কর্মীরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে হট্টগোল ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় উগ্রপন্থীরা দাবি করেছে, মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ব্যক্তিগত ঘরে আরবি পড়ানোও 'অবৈধ মাদ্রাসা' পরিচালনার শামিল। এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম শিক্ষক ও তার সহযোগীকে চরমভাবে হেনস্তা ও ভীতি প্রদর্শন করার পর স্থানীয় থানায় সেটি বন্ধের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে কট্টরপন্থীরা।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। রাজ্যটির চামোলি জেলায় একটি বাড়িতে শিশুকে পবিত্র কোরআন ও আরবির বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়ার সময় উগ্র ডানপন্থী সংগঠন বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কর্মীরা চড়াও হয়। ১ জুলাই থেকে রাজ্যটিতে মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ঢাল বানিয়ে উগ্রপন্থীরা এখন মুসলিমদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চাতেও বাধা সৃষ্টি করছে।
ঘটনার দিন হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা আচমকা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে শিক্ষক এবং তার সহযোগীকে জেরা শুরু করে। তারা ভবনের মালিকানার নথিপত্র দাবি করে এবং সেখানে রাখা আরবি হরফ লেখা বইপত্র ও দেয়ালে টাঙানো নামাজের সময়সূচি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে। উগ্রপন্থীদের দাবি, শুধু আরবি হরফে লেখা থাকার কারণেই এই সময়সূচিটি 'সন্দেহজনক'।
নির্যাতিত শিক্ষকের ভাষ্যমতে, ওই বাড়িতে মূলত জুমার নামাজ আদায় করা হতো এবং পরবর্তীতে কিছু শিশুকে পবিত্র কোরআন পাঠ ও আরবির প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হতো। কিন্তু কট্টরপন্থী কর্মীরা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'অবৈধ মাদ্রাসা' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শিক্ষককে হুমকি দিতে শোনা যায়, "আমরা খুব ভালোবেসে বোঝাচ্ছি, তুই যা করছিস তা ভালো করছিস না, দেখে নেব।"
শুধু ধর্মীয় বিদ্বেষই নয়, এই ঘটনাকে উগ্রপন্থীরা কৌশলগত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেছে, চামোলি জেলাটি ভারতের সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মুসলিমদের উপস্থিতি এবং আরবির চর্চা 'জনমিতিক পরিবর্তন' বা মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের অংশ। এক উগ্রপন্থী নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলে, "এটি অত্যন্ত সমস্যাজনক বিষয়, কারণ এটি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা এবং যেভাবে এখানকার জনমিতি পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরা বিষয়টিকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। একই সাথে এই 'দেবভূমি'র (উত্তরাখণ্ড) পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। এই কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।"
এই ঘটনার পর কট্টরপন্থী দলগুলো স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে এই ব্যক্তিগত পাঠদান বন্ধের দাবি জানায়। কোতোয়ালি ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র রাওয়াত নিশ্চিত করেছেন যে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যদিকে তহশিলদার মহেন্দ্র সিং আশ্বাস দিয়েছেন, বিধি মোতাবেক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছেন, মাদ্রাসা বোর্ড বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে উগ্রপন্থীরা এখন মুসলিমদের ঘরোয়া পরিবেশেও ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা ভারতের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।

আপনার মতামত লিখুন