বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

কওমী শিক্ষার ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি রক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আল-হাইআতুল উলইয়া ও বেফাকসহ জাতীয় বোর্ডগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার খোলা চিঠি

কওমী মাদরাসার সংস্কার ও শিশুদের নিরাপত্তায় ৬ দফা প্রস্তাব শায়খ আহমাদুল্লাহর



কওমী মাদরাসার সংস্কার ও শিশুদের নিরাপত্তায় ৬ দফা প্রস্তাব শায়খ আহমাদুল্লাহর

বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি রক্ষা, কোমলমতি শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কওমী বোর্ডগুলোর প্রতি ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছেন বিশিষ্ট দূরদর্শী আলেম ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি শীর্ষ আলেম ও জাতীয় বোর্ডগুলোর প্রতি এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান। সম্প্রতি আবাসিক মাদরাসাগুলোতে শিশু নির্যাতন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সময়োপযোগী ও আত্মসংশোধনমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দ্বীনি শিক্ষা ধারাসমূহের মধ্যে কওমী মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সুদীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও চরিত্র গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য বা রাষ্ট্রীয় বাজেট ব্যতীত কেবল সাধারণ মুসলমানদের অনুদান ও ভালোবাসায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান সমাজে এক প্রকাণ্ড সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ ও এতিমখানার মাধ্যমে লাখ লাখ দুস্থ, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার সংস্থান করে এ ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষক নামধারী দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন এবং পরিচালনাগত শৃঙ্খলার অভাবে দ্বীনি শিক্ষার এই দুর্গের ভাবমূর্তি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এবং ‘বেফাকুল মাদারিস’ সহ অন্যান্য কওমী বোর্ডগুলোর অভিভাবকতুল্য শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের প্রতি খোলা চিঠি দিয়ে জরুরি ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বীনি দায়িত্ববোধ থেকেই সংস্কারের এই আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন ইসলাম ও কওমী মাদরাসার সুমহান ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর উপস্থাপিত ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

১. কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি ও কালো তালিকা গঠন

কওমী শিক্ষাবোর্ডের সর্বোচ্চ স্তর থেকে শীর্ষ আলেম, অভিজ্ঞ আইনজীবী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নিপীড়নের খবর এলে এই কমিটি সরাসরি তদন্ত পরিচালনা করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ‘কালো তালিকা’ (Blacklist) তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশের অন্য কোনো মাদরাসায় প্রবেশের সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে জাতির সামনে তুলে ধরে আলেম ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

২. গোপন অভিযোগ গ্রহণ সেল ও হটলাইন

ভিক্টিম ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের জন্য কওমী কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন বা অভিযোগ সেল চালু করতে হবে। এই সেল থেকে ভিক্টিম ও পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা নিশ্চিত করা হবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন

সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ: প্রতিটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ, করিডোর, বিশেষ করে নূরানী, হিফজ ও আবাসিক বিভাগগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভির আওতায় এনে প্রতিনিয়ত নজরদারি নিশ্চিত করা।

নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত আবাসিক নিরুৎসাহিতকরণ: অতি অল্প বয়সে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হলে শিশুরা মানসিকভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তাই একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের অনাবাসিক রেখে পরিবারে থাকার ব্যবস্থা জোরদার করা। তবে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা।

বিছানা ও আবাসন বিন্যাস: গণরুমের ক্ষেত্রে ঢালাও বিছানার পরিবর্তে প্রতি দুটি বিছানার মাঝে অন্তত এক হাত ফাঁকা রাখা বাধ্যতামূলক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পৃথক খাট বা চৌকির ব্যবস্থা করা।

ব্যক্তিগত সেবা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা: শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের থেকে যেকোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা শারীরিক সেবা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

৪. শিক্ষক ও কর্মীদের পেশাগত পরিবেশ ও নিরাপত্তা

চরণবিধি ও প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের জন্য ইসলামভিত্তিক ও শিশু অধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ‘আচার-আচরণ নীতিমালা’ তৈরি করা এবং তাদের শিশুমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার মানসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।

নিয়োগ নীতি ও বৈবাহিক শর্ত: প্রাথমিক ও হিফজ শাখায় কোমলমতি শিশুদের দায়িত্বে অপরিণত বা অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণের পরিবর্তে অভিজ্ঞ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও বিবাহিত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

পারিবারিক সানিধ্য ও ছুটি: শিক্ষকদের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বজায় রাখতে মাদরাসা ক্যাম্পাসে পরিবারসহ থাকার ব্যবস্থা (ফ্যামিলি কোয়ার্টার) রাখা এবং যৌক্তিক ছুটির বিধান বাস্তবায়ন করা।

৫. নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী পরিচালনা

বালিকা বা মহিলা মাদরাসার পুরো প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ শতভাগ নারী কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। প্রধান ফটকের বয়স্ক নিরাপত্তাকর্মী ব্যতীত কোনো পুরুষ কর্মী বা শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অভিভাবকদের সাথেও সব ধরনের যোগাযোগ নারী স্টাফদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

৬. মাননিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা

ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে ওঠা মানহীন ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট মাদরাসাগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও তদারকির আওতায় আনতে হবে, যেন সার্বিক শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় থাকে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, কওমী মাদরাসার অপরাধের হার সাধারণ সমাজের তুলনায় অনেক কম হলেও, ইসলামের চরমশত্রু ও একপেশে গণমাধ্যমগুলো আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত থাকে। তবে গণমাধ্যমের অতিরঞ্জনকে অজুহাত বানিয়ে নিজেদের ভেতরের বাস্তব সমস্যা ও ক্ষতগুলোকে ঢেকে রাখা মারাত্মক ভুলের কারণ হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই কওমী শিক্ষা তার হারানো মহিমা ও গণমানুষের আস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

বিষয় : কওমী মাদরাসা শায়খ আহমাদুল্লাহ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


কওমী মাদরাসার সংস্কার ও শিশুদের নিরাপত্তায় ৬ দফা প্রস্তাব শায়খ আহমাদুল্লাহর

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি রক্ষা, কোমলমতি শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কওমী বোর্ডগুলোর প্রতি ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছেন বিশিষ্ট দূরদর্শী আলেম ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি শীর্ষ আলেম ও জাতীয় বোর্ডগুলোর প্রতি এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান। সম্প্রতি আবাসিক মাদরাসাগুলোতে শিশু নির্যাতন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সময়োপযোগী ও আত্মসংশোধনমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দ্বীনি শিক্ষা ধারাসমূহের মধ্যে কওমী মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সুদীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও চরিত্র গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য বা রাষ্ট্রীয় বাজেট ব্যতীত কেবল সাধারণ মুসলমানদের অনুদান ও ভালোবাসায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান সমাজে এক প্রকাণ্ড সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ ও এতিমখানার মাধ্যমে লাখ লাখ দুস্থ, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার সংস্থান করে এ ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষক নামধারী দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন এবং পরিচালনাগত শৃঙ্খলার অভাবে দ্বীনি শিক্ষার এই দুর্গের ভাবমূর্তি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এবং ‘বেফাকুল মাদারিস’ সহ অন্যান্য কওমী বোর্ডগুলোর অভিভাবকতুল্য শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের প্রতি খোলা চিঠি দিয়ে জরুরি ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বীনি দায়িত্ববোধ থেকেই সংস্কারের এই আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন ইসলাম ও কওমী মাদরাসার সুমহান ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর উপস্থাপিত ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

১. কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি ও কালো তালিকা গঠন

কওমী শিক্ষাবোর্ডের সর্বোচ্চ স্তর থেকে শীর্ষ আলেম, অভিজ্ঞ আইনজীবী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নিপীড়নের খবর এলে এই কমিটি সরাসরি তদন্ত পরিচালনা করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ‘কালো তালিকা’ (Blacklist) তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশের অন্য কোনো মাদরাসায় প্রবেশের সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে জাতির সামনে তুলে ধরে আলেম ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

২. গোপন অভিযোগ গ্রহণ সেল ও হটলাইন

ভিক্টিম ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের জন্য কওমী কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন বা অভিযোগ সেল চালু করতে হবে। এই সেল থেকে ভিক্টিম ও পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা নিশ্চিত করা হবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন

সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ: প্রতিটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ, করিডোর, বিশেষ করে নূরানী, হিফজ ও আবাসিক বিভাগগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভির আওতায় এনে প্রতিনিয়ত নজরদারি নিশ্চিত করা।

নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত আবাসিক নিরুৎসাহিতকরণ: অতি অল্প বয়সে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হলে শিশুরা মানসিকভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তাই একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের অনাবাসিক রেখে পরিবারে থাকার ব্যবস্থা জোরদার করা। তবে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা।

বিছানা ও আবাসন বিন্যাস: গণরুমের ক্ষেত্রে ঢালাও বিছানার পরিবর্তে প্রতি দুটি বিছানার মাঝে অন্তত এক হাত ফাঁকা রাখা বাধ্যতামূলক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পৃথক খাট বা চৌকির ব্যবস্থা করা।

ব্যক্তিগত সেবা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা: শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের থেকে যেকোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা শারীরিক সেবা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

৪. শিক্ষক ও কর্মীদের পেশাগত পরিবেশ ও নিরাপত্তা

চরণবিধি ও প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের জন্য ইসলামভিত্তিক ও শিশু অধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ‘আচার-আচরণ নীতিমালা’ তৈরি করা এবং তাদের শিশুমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার মানসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।

নিয়োগ নীতি ও বৈবাহিক শর্ত: প্রাথমিক ও হিফজ শাখায় কোমলমতি শিশুদের দায়িত্বে অপরিণত বা অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণের পরিবর্তে অভিজ্ঞ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও বিবাহিত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

পারিবারিক সানিধ্য ও ছুটি: শিক্ষকদের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বজায় রাখতে মাদরাসা ক্যাম্পাসে পরিবারসহ থাকার ব্যবস্থা (ফ্যামিলি কোয়ার্টার) রাখা এবং যৌক্তিক ছুটির বিধান বাস্তবায়ন করা।

৫. নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী পরিচালনা

বালিকা বা মহিলা মাদরাসার পুরো প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ শতভাগ নারী কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। প্রধান ফটকের বয়স্ক নিরাপত্তাকর্মী ব্যতীত কোনো পুরুষ কর্মী বা শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অভিভাবকদের সাথেও সব ধরনের যোগাযোগ নারী স্টাফদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

৬. মাননিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা

ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে ওঠা মানহীন ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট মাদরাসাগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও তদারকির আওতায় আনতে হবে, যেন সার্বিক শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় থাকে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, কওমী মাদরাসার অপরাধের হার সাধারণ সমাজের তুলনায় অনেক কম হলেও, ইসলামের চরমশত্রু ও একপেশে গণমাধ্যমগুলো আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত থাকে। তবে গণমাধ্যমের অতিরঞ্জনকে অজুহাত বানিয়ে নিজেদের ভেতরের বাস্তব সমস্যা ও ক্ষতগুলোকে ঢেকে রাখা মারাত্মক ভুলের কারণ হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই কওমী শিক্ষা তার হারানো মহিমা ও গণমানুষের আস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ