বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

বায়তুল মোকাররমের গণসমাবেশে খেলাফত মজলিস আমিরের হুঁশিয়ারি; গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধের ডাক

জুলুম হলে আবারও মাদ্রাসা থেকে রাজপথে নামবে ‘আবাবিল’: মাওলানা মামুনুল হক



জুলুম হলে আবারও মাদ্রাসা থেকে রাজপথে নামবে ‘আবাবিল’: মাওলানা মামুনুল হক

অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা মামুনুল হক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের কোথাও কোনো জুলুম হলে মাদ্রাসা থেকে আবারও রাজপথে নেমে আসবে ‘আবাবিল’। নতুন করে যেকোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরুতেই রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের যেকোনো প্রান্তে জুলুম-নিপীড়ন সংঘটিত হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের মানুষের অধিকার হরণ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে প্রয়োজন হলে কওমি মাদ্রাসাগুলো থেকে আবারও রাজপথের লড়াইয়ে শামিল হবে তাওহিদি ছাত্র-জনতা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করে মামুনুল হক হবিগঞ্জের দৃষ্টিহারা ছাত্র আলিফের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আলিফকে দেখতে গিয়ে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। আলিফ তাকে বলেছিলেন, "গলায় কাঁটা প্রথমে বিঁধলে সহজে বের করা যায়, কিন্তু তা গভীরে বসে গেলে অপসারণে অনেক রক্তক্ষরণ হয়।"

এই প্রসঙ্গ টেনে খেলাফত মজলিস আমির বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনকালে ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিকড় গেড়েছিল। ফলে তাদের উৎখাত করতে জাতিকে অপূরণীয় রক্ত ও আত্মত্যাগ দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো নতুন ফ্যাসিবাদ বা আধিপত্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য শুরুতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ার তাগিদ দেন তিনি।

ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে তিনি মন্তব্য করেন, নবীজির শিক্ষা অনুযায়ী জালিমকে জুলুম থেকে বিরত রাখাই তাকে সাহায্য করার প্রকৃত উপায়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের সংঘাত, সহিংসতা ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়। অন্যথায় সচেতন জনগণ সেই পুরনো রাজনীতির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪-এর বিপ্লব মেধা, নৈতিকতা ও আদর্শিক নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাস, সিট দখল ও লেজুড়বৃত্তিক আধিপত্যের রাজনীতির কোনো স্থান হবে না।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনে কওমি তরুণরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজপথে নামেনি; তারা নেমেছিল চরম নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে। ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা একইভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে পুনরুল্লেখ করেন, অধিকার হরণের অপচেষ্টা হলে মাদ্রাসাগুলো থেকে আবারও ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে।

সবশেষে গণভোট ও জনগণের রায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জনগণের রায়কে অবহেলা বা বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এই রায়ের বরখেলাপ করা হয়, তবে শহীদদের আমানত রক্ষায় জনগণ আবারও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাওলানা মামুনুল হক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


জুলুম হলে আবারও মাদ্রাসা থেকে রাজপথে নামবে ‘আবাবিল’: মাওলানা মামুনুল হক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা মামুনুল হক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের কোথাও কোনো জুলুম হলে মাদ্রাসা থেকে আবারও রাজপথে নেমে আসবে ‘আবাবিল’। নতুন করে যেকোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরুতেই রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের যেকোনো প্রান্তে জুলুম-নিপীড়ন সংঘটিত হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের মানুষের অধিকার হরণ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে প্রয়োজন হলে কওমি মাদ্রাসাগুলো থেকে আবারও রাজপথের লড়াইয়ে শামিল হবে তাওহিদি ছাত্র-জনতা।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করে মামুনুল হক হবিগঞ্জের দৃষ্টিহারা ছাত্র আলিফের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আলিফকে দেখতে গিয়ে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। আলিফ তাকে বলেছিলেন, "গলায় কাঁটা প্রথমে বিঁধলে সহজে বের করা যায়, কিন্তু তা গভীরে বসে গেলে অপসারণে অনেক রক্তক্ষরণ হয়।"

এই প্রসঙ্গ টেনে খেলাফত মজলিস আমির বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনকালে ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিকড় গেড়েছিল। ফলে তাদের উৎখাত করতে জাতিকে অপূরণীয় রক্ত ও আত্মত্যাগ দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো নতুন ফ্যাসিবাদ বা আধিপত্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য শুরুতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ার তাগিদ দেন তিনি।

ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে তিনি মন্তব্য করেন, নবীজির শিক্ষা অনুযায়ী জালিমকে জুলুম থেকে বিরত রাখাই তাকে সাহায্য করার প্রকৃত উপায়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের সংঘাত, সহিংসতা ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়। অন্যথায় সচেতন জনগণ সেই পুরনো রাজনীতির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪-এর বিপ্লব মেধা, নৈতিকতা ও আদর্শিক নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাস, সিট দখল ও লেজুড়বৃত্তিক আধিপত্যের রাজনীতির কোনো স্থান হবে না।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনে কওমি তরুণরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজপথে নামেনি; তারা নেমেছিল চরম নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে। ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা একইভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে পুনরুল্লেখ করেন, অধিকার হরণের অপচেষ্টা হলে মাদ্রাসাগুলো থেকে আবারও ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে।

সবশেষে গণভোট ও জনগণের রায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জনগণের রায়কে অবহেলা বা বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এই রায়ের বরখেলাপ করা হয়, তবে শহীদদের আমানত রক্ষায় জনগণ আবারও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ