শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পেট্রোল পাম্পে ওজনে কম দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে হামলা; ভিডিও ভাইরাল হতেই পুলিশের পদক্ষেপ

ভারতে তেল কারচুপির প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বেধড়ক মারধর ও দাড়ি ধরে টানাটানি



ভারতে তেল কারচুপির প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বেধড়ক মারধর ও দাড়ি ধরে টানাটানি

ভারতের উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় মাওলানা ইকবাল নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বর্বরোচিত এই হামলার সময় শিক্ষকের দাড়ি ধরে টানাটানি এবং মাথা থেকে টুপি খুলে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোশাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে।

উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলার তুলসীপুর এলাকার মাতহেনা অঞ্চলের একটি পেট্রোল পাম্পে ঘটনাটি ঘটে। বলরামপুরের সাদওয়া গুলহরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ইকবাল তার মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে ওই পাম্পে যান। অভিযোগ ওঠে, তাকে দাবিকৃত পরিমাণের চেয়ে কম পেট্রোল দেওয়া হয়েছিল।

মাওলানা ইকবাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করে তাতক্ষণাৎ পাম্প কর্মচারীর কাছে প্রতিবাদ জানান। এই নিয়ে সাধারণ একটি বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মাওলানা ইকবালকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করছে। প্রত্যক্ষ ও ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মাদ্রাসা শিক্ষকের দাড়ি ধরে নির্মমভাবে টানাটানি করে এবং তার মাথার টুপি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

একজন মুসলিম শিক্ষকের ধর্মীয় প্রতীকে আঘাত ও প্রকাশ্য দিবালোকে এমন শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিষয়টিকে উগ্র মানসিকতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর বলরামপুর জেলা পুলিশ অ্যাকশনে নামে। গ্যাঁসোড়ি থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— লভকুশ যাদব, হিমাংশু গুপ্তা এবং মহেশ যাদব। বলরামপুর পুলিশ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সমাজকর্মীরা বলছেন, ভারতের সংবিধানে ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের সমতা, ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার সুনিশ্চিত করার কথা বলা হলেও উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমরা প্রতিনিয়ত এভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


ভারতে তেল কারচুপির প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বেধড়ক মারধর ও দাড়ি ধরে টানাটানি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় মাওলানা ইকবাল নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বর্বরোচিত এই হামলার সময় শিক্ষকের দাড়ি ধরে টানাটানি এবং মাথা থেকে টুপি খুলে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোশাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে।

উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলার তুলসীপুর এলাকার মাতহেনা অঞ্চলের একটি পেট্রোল পাম্পে ঘটনাটি ঘটে। বলরামপুরের সাদওয়া গুলহরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ইকবাল তার মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে ওই পাম্পে যান। অভিযোগ ওঠে, তাকে দাবিকৃত পরিমাণের চেয়ে কম পেট্রোল দেওয়া হয়েছিল।

মাওলানা ইকবাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করে তাতক্ষণাৎ পাম্প কর্মচারীর কাছে প্রতিবাদ জানান। এই নিয়ে সাধারণ একটি বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মাওলানা ইকবালকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করছে। প্রত্যক্ষ ও ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মাদ্রাসা শিক্ষকের দাড়ি ধরে নির্মমভাবে টানাটানি করে এবং তার মাথার টুপি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

একজন মুসলিম শিক্ষকের ধর্মীয় প্রতীকে আঘাত ও প্রকাশ্য দিবালোকে এমন শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিষয়টিকে উগ্র মানসিকতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর বলরামপুর জেলা পুলিশ অ্যাকশনে নামে। গ্যাঁসোড়ি থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— লভকুশ যাদব, হিমাংশু গুপ্তা এবং মহেশ যাদব। বলরামপুর পুলিশ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সমাজকর্মীরা বলছেন, ভারতের সংবিধানে ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের সমতা, ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার সুনিশ্চিত করার কথা বলা হলেও উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমরা প্রতিনিয়ত এভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ