যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে তেহরানকে 'সাদা পতাকা' উড়িয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান পরমাণু অস্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং মেয়ার বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সাথে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান-ইরান নৌ-সমঝোতা প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে ওমানের ওপর ভারী বোমাবর্ষণের নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (MOU) শেষ হওয়ার দিনে সংঘাতের মাত্রা চরম শিখরে পৌঁছেছে। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন দাবির বাইরে গিয়ে ইরান প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে রাজি নয়। ফলে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা একটিমাত্র কারণেই এই যুদ্ধে নেমেছি: ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র লাভ করতে পারবে না।"
এর আগে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তা স্থবির হয়ে পড়ে। গত ৭ জুলাই ট্রাম্প এই চুক্তি 'বাতিল' ঘোষণা করেন এবং তার এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তিটি 'স্থগিত' বলে ঘোষণা দেয়। চুক্তি বাড়ানোর মেয়াদ ফুরানোর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করে ‘সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।
এদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ওমান ও ইরান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে বিশ্ব বাণিজ্যের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হতো। এই মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে চরম ভাষায় ওমানকে হুমকি দিয়ে বলেন, "যদি ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর চরম বোমাবর্ষণ করব।" পরবর্তীতে ওভাল অফিসে ওমানের ওপর ধৈর্য হারাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওমানের আচরণ ভালো নয়, তবে অন্যান্য দেশের মতো ওমানকেও খুব সহজেই সামলে নেওয়া যাবে।
চলমান এই হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সামনে নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণ তাঁর যুদ্ধ কৌশলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। একই দিনে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া বার্তায় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর লক্ষ্য এবং তা অটুট থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের এই একপাক্ষিক ও আগ্রাসী নীতি বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের এই অন্যায্য অবস্থান এবং ওমানের মতো শান্তিপূর্ণ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের ওপর ট্রাম্পের এমন সরাসরি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে তেহরানকে 'সাদা পতাকা' উড়িয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান পরমাণু অস্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং মেয়ার বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সাথে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান-ইরান নৌ-সমঝোতা প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে ওমানের ওপর ভারী বোমাবর্ষণের নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (MOU) শেষ হওয়ার দিনে সংঘাতের মাত্রা চরম শিখরে পৌঁছেছে। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন দাবির বাইরে গিয়ে ইরান প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে রাজি নয়। ফলে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা একটিমাত্র কারণেই এই যুদ্ধে নেমেছি: ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র লাভ করতে পারবে না।"
এর আগে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তা স্থবির হয়ে পড়ে। গত ৭ জুলাই ট্রাম্প এই চুক্তি 'বাতিল' ঘোষণা করেন এবং তার এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তিটি 'স্থগিত' বলে ঘোষণা দেয়। চুক্তি বাড়ানোর মেয়াদ ফুরানোর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করে ‘সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।
এদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ওমান ও ইরান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে বিশ্ব বাণিজ্যের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হতো। এই মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে চরম ভাষায় ওমানকে হুমকি দিয়ে বলেন, "যদি ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর চরম বোমাবর্ষণ করব।" পরবর্তীতে ওভাল অফিসে ওমানের ওপর ধৈর্য হারাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওমানের আচরণ ভালো নয়, তবে অন্যান্য দেশের মতো ওমানকেও খুব সহজেই সামলে নেওয়া যাবে।
চলমান এই হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সামনে নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণ তাঁর যুদ্ধ কৌশলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। একই দিনে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া বার্তায় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর লক্ষ্য এবং তা অটুট থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের এই একপাক্ষিক ও আগ্রাসী নীতি বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের এই অন্যায্য অবস্থান এবং ওমানের মতো শান্তিপূর্ণ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের ওপর ট্রাম্পের এমন সরাসরি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ।

আপনার মতামত লিখুন