শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পূর্ব বর্ধমানে জয় সূত্রধরের বাড়িতে হামলা, ভিডিয়ো মুছতে চাপ ও এলাকা ছাড়ার হুমকি; উগ্র হিন্দুত্ববাদের প্রসারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের তীব্র উদ্বেগ।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী জনতার তাণ্ডব: খ্রিষ্টান যাজকের ওপর হামলা ও পরিবারকে হুমকির অভিযোগ



পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী জনতার তাণ্ডব: খ্রিষ্টান যাজকের ওপর হামলা ও পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী উগ্রতার বলিকাতে পরিণত হয়েছেন এক প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মযাজক। গত ১৮ই আগস্ট পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতগাছিয়ায় যাজক জয় সূত্রধরের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে প্রায় ২৫ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল। অভিযুক্তরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তুলে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাগ্রীনতা তৈরি হয়েছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ই আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতগাছিয়ায় প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান যাজক জয় সূত্রধরের বাড়িতে হামলা চালায় উগ্রপন্থী জনতার একটি দল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ জনের দলটি আচমকা তার বাসভবনে প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং মিথ্যা ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ এনে তাকে ও তার পরিবারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

হামলাকারীরা যাজক সূত্রধরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয় এবং হুঁশিয়ারি দেয় যে কথা না শুনলে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাজকের মেয়ে যখন এই হামলার দৃশ্য নিজ ফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করেন, তখন তাকেও ঘিরে ধরা হয়। ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলা না হলে পরিবারের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি প্রদান করে তারা।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই হামলাকে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্তঃখ্রিস্টীয় সংগঠন বঙ্গীয় খ্রিস্টান পরিসেবা (বিসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মুল্লিক ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিগত ২০ বছর ধরে এই অঞ্চলে জনগণের সেবায় নিয়োজিত একজন নিবেদিতপ্রাণ যাজকের ওপর এটি সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে এক নৃশংস হামলা।” বিসিপির আইনি সেলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের আচার্য ফাদার ডমিনিক গোমস এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “যাজক জয় সূত্রধরের ওপর হামলা ও তার পরিবারকে ভয় দেখানোর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই।” তিনি প্রশাসনকে অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মে মেরুকরণের রাজনীতি বৃদ্ধির ফলে অপরাধী চক্রগুলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে হামলা চালাতে উৎসাহিত বোধ করছে। মানবাধিকার কর্মী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এই ধরণের অপরাধকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী জনতার তাণ্ডব: খ্রিষ্টান যাজকের ওপর হামলা ও পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী উগ্রতার বলিকাতে পরিণত হয়েছেন এক প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মযাজক। গত ১৮ই আগস্ট পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতগাছিয়ায় যাজক জয় সূত্রধরের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে প্রায় ২৫ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল। অভিযুক্তরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তুলে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাগ্রীনতা তৈরি হয়েছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ই আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার সাতগাছিয়ায় প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান যাজক জয় সূত্রধরের বাড়িতে হামলা চালায় উগ্রপন্থী জনতার একটি দল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ জনের দলটি আচমকা তার বাসভবনে প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং মিথ্যা ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ এনে তাকে ও তার পরিবারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

হামলাকারীরা যাজক সূত্রধরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয় এবং হুঁশিয়ারি দেয় যে কথা না শুনলে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাজকের মেয়ে যখন এই হামলার দৃশ্য নিজ ফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করেন, তখন তাকেও ঘিরে ধরা হয়। ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলা না হলে পরিবারের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি প্রদান করে তারা।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই হামলাকে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্তঃখ্রিস্টীয় সংগঠন বঙ্গীয় খ্রিস্টান পরিসেবা (বিসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মুল্লিক ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিগত ২০ বছর ধরে এই অঞ্চলে জনগণের সেবায় নিয়োজিত একজন নিবেদিতপ্রাণ যাজকের ওপর এটি সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে এক নৃশংস হামলা।” বিসিপির আইনি সেলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের আচার্য ফাদার ডমিনিক গোমস এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “যাজক জয় সূত্রধরের ওপর হামলা ও তার পরিবারকে ভয় দেখানোর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই।” তিনি প্রশাসনকে অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মে মেরুকরণের রাজনীতি বৃদ্ধির ফলে অপরাধী চক্রগুলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে হামলা চালাতে উৎসাহিত বোধ করছে। মানবাধিকার কর্মী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এই ধরণের অপরাধকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় পড়বে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ