ভারতে আবারও চলন্ত ট্রেনে এক মুসলিম মাদ্রাসা ছাত্রের ওপর উগ্রপন্থীদের নির্মম হামলার খবর পাওয়া গেছে। মীরুট থেকে বিশ্বখ্যাত ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মুনতাজির নামের ওই ছাত্রকে মদ্যপানের প্রস্তাব দেয় একদল উগ্র যুবক। মদ পানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসন পরিবর্তন করায় তাকে ধাওয়া করে বেদম মারধর, গালাগাল এবং তার সাথে থাকা নগদ অর্থ ও ফোন ছিনতাই করে খাথৌলি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ভারতে মুসলিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মীরুট থেকে দেওবন্দগামী একটি ট্রেনে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষার্থী মুনতাজিরের ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা হিন্দুত্ববাদী ও চরমপন্থী আগ্রাসনের আরও একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
শিক্ষার্থী মুনতাজির জানান, তিনি নিজের আসনে শান্তভাবেই বসেছিলেন। হঠাৎ একদল মদ্যপ ব্যক্তি তার কাছে এসে মদ পানের প্রস্তাব দেয়। একজন ধর্মীয় বিধান মেনে চলা মুসলিম হিসেবে তিনি নম্রভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের এড়িয়ে অন্য আসনে গিয়ে বসেন। কিন্তু মদ্যপ উগ্র দলটি তাকে ছেড়ে দেয়নি। কয়েক স্টেশন পর তারা মুনতাজিরকে খুঁজে বের করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মুনতাজির আবারও আত্মরক্ষার্থে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা কেবল শারীরিক নির্যাতনই করেনি, জোরপূর্বক খাথৌলি স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এই সুযোগে তার কাছ থেকে সব নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি চিকিৎসার সুযোগ পান।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর, বিশেষ করে ধর্মীয় পোশাক ও পরিচিতি বহনকারী আলেম ও শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রেনে ও গণপরিবহনে হামলার ঘটনা এখন এক উদ্বেগজনক নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই বিহারের ৩০ বছর বয়সী আইম্মা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তৌসিফ রেজা মাজহারীকে ট্রেনে পিটিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী তাবাসসুম খাতুন জানান, তার স্বামীকে ভুয়া চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, অথচ তিনি কেবলই এক সাধারণ শিক্ষক ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং ভারতের গণপরিবহনে মুসলিমদের নিরাপত্তা না থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
ভারতে আবারও চলন্ত ট্রেনে এক মুসলিম মাদ্রাসা ছাত্রের ওপর উগ্রপন্থীদের নির্মম হামলার খবর পাওয়া গেছে। মীরুট থেকে বিশ্বখ্যাত ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মুনতাজির নামের ওই ছাত্রকে মদ্যপানের প্রস্তাব দেয় একদল উগ্র যুবক। মদ পানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসন পরিবর্তন করায় তাকে ধাওয়া করে বেদম মারধর, গালাগাল এবং তার সাথে থাকা নগদ অর্থ ও ফোন ছিনতাই করে খাথৌলি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ভারতে মুসলিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মীরুট থেকে দেওবন্দগামী একটি ট্রেনে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষার্থী মুনতাজিরের ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা হিন্দুত্ববাদী ও চরমপন্থী আগ্রাসনের আরও একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
শিক্ষার্থী মুনতাজির জানান, তিনি নিজের আসনে শান্তভাবেই বসেছিলেন। হঠাৎ একদল মদ্যপ ব্যক্তি তার কাছে এসে মদ পানের প্রস্তাব দেয়। একজন ধর্মীয় বিধান মেনে চলা মুসলিম হিসেবে তিনি নম্রভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের এড়িয়ে অন্য আসনে গিয়ে বসেন। কিন্তু মদ্যপ উগ্র দলটি তাকে ছেড়ে দেয়নি। কয়েক স্টেশন পর তারা মুনতাজিরকে খুঁজে বের করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মুনতাজির আবারও আত্মরক্ষার্থে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা কেবল শারীরিক নির্যাতনই করেনি, জোরপূর্বক খাথৌলি স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এই সুযোগে তার কাছ থেকে সব নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি চিকিৎসার সুযোগ পান।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর, বিশেষ করে ধর্মীয় পোশাক ও পরিচিতি বহনকারী আলেম ও শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রেনে ও গণপরিবহনে হামলার ঘটনা এখন এক উদ্বেগজনক নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই বিহারের ৩০ বছর বয়সী আইম্মা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তৌসিফ রেজা মাজহারীকে ট্রেনে পিটিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী তাবাসসুম খাতুন জানান, তার স্বামীকে ভুয়া চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, অথচ তিনি কেবলই এক সাধারণ শিক্ষক ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং ভারতের গণপরিবহনে মুসলিমদের নিরাপত্তা না থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন