সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের আকাশে নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা চালাবে যুক্তরাজ্য; বিমান চলাচলের গতিপথ ও উচ্চতায় সামান্য পরিবর্তন এনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ।

নীল আকাশে সাদা রেখা: যুক্তরাজ্যের নতুন পদক্ষেপে মিলবে কি জলবায়ু মুক্তির দিশা?



নীল আকাশে সাদা রেখা: যুক্তরাজ্যের নতুন পদক্ষেপে মিলবে কি জলবায়ু মুক্তির দিশা?

উচ্চ আকাশে উড্ডয়নকালে বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত উষ্ণ ধোঁয়া ও জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে সূক্ষ্ম বরফকণায় পরিণত হয়। 'কনট্রেইল' নামে পরিচিত এই মেঘের মতো স্তর বায়ুমণ্ডলের তাপ আটকে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে দীর্ঘদিন সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার এই পরিবেশগত প্রভাব কমাতে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিকের ব্যস্ত 'শ্যানউইক' আকাশসীমায় এক ব্যতিক্রমী ও বৃহৎ পরিসরের পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে বিমান চলাচলের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর নতুন এক উপায় পরীক্ষা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিমানের উড়ানপথ এবং উড্ডয়নের উচ্চতায় সামান্য পরিবর্তন এনে ক্ষতিকর কনট্রেইল তৈরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকৃতি ও বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী যখন সবুজ প্রযুক্তির তাগিদ বাড়ছে, তখন এটি আন্তর্জাতিক বিমান খাতে জলবায়ু রক্ষায় সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অত্যন্ত ব্যস্ত শ্যানউইক আকাশসীমাকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

উন্নত আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত ডেটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিখুঁত বিশ্লেষণ ব্যবহার করে আকাশে এমন নির্দিষ্ট উচ্চতা চিহ্নিত করা হবে, যেখানে সূক্ষ্ম বরফকণা বা দীর্ঘস্থায়ী কনট্রেইল তৈরির ঝুঁকি সবচেয়ে কম। এরপর ওই রুট দিয়ে গমনকারী নির্দিষ্ট কিছু বিমানকে সামান্য উচ্চতা পরিবর্তন করে উড্ডয়ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, কনট্রেইলের কারণে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং গবেষকদের প্রত্যাশা, এই স্বল্প ব্যয়ের কৌশলগত পরিবর্তনে বিমানের জ্বালানি খরচ প্রায় অপরিবর্তিত রেখেও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বিষয় : যুক্তরাজ্য জলবায়ু আটলান্টিক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


নীল আকাশে সাদা রেখা: যুক্তরাজ্যের নতুন পদক্ষেপে মিলবে কি জলবায়ু মুক্তির দিশা?

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উচ্চ আকাশে উড্ডয়নকালে বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত উষ্ণ ধোঁয়া ও জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে সূক্ষ্ম বরফকণায় পরিণত হয়। 'কনট্রেইল' নামে পরিচিত এই মেঘের মতো স্তর বায়ুমণ্ডলের তাপ আটকে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে দীর্ঘদিন সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার এই পরিবেশগত প্রভাব কমাতে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিকের ব্যস্ত 'শ্যানউইক' আকাশসীমায় এক ব্যতিক্রমী ও বৃহৎ পরিসরের পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে বিমান চলাচলের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর নতুন এক উপায় পরীক্ষা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিমানের উড়ানপথ এবং উড্ডয়নের উচ্চতায় সামান্য পরিবর্তন এনে ক্ষতিকর কনট্রেইল তৈরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকৃতি ও বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী যখন সবুজ প্রযুক্তির তাগিদ বাড়ছে, তখন এটি আন্তর্জাতিক বিমান খাতে জলবায়ু রক্ষায় সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অত্যন্ত ব্যস্ত শ্যানউইক আকাশসীমাকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষার স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

উন্নত আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত ডেটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিখুঁত বিশ্লেষণ ব্যবহার করে আকাশে এমন নির্দিষ্ট উচ্চতা চিহ্নিত করা হবে, যেখানে সূক্ষ্ম বরফকণা বা দীর্ঘস্থায়ী কনট্রেইল তৈরির ঝুঁকি সবচেয়ে কম। এরপর ওই রুট দিয়ে গমনকারী নির্দিষ্ট কিছু বিমানকে সামান্য উচ্চতা পরিবর্তন করে উড্ডয়ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, কনট্রেইলের কারণে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং গবেষকদের প্রত্যাশা, এই স্বল্প ব্যয়ের কৌশলগত পরিবর্তনে বিমানের জ্বালানি খরচ প্রায় অপরিবর্তিত রেখেও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ