মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

দীর্ঘ ৪৭ বছর পর মার্কিন কালতালিকা থেকে মুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও অবাধ বাণিজ্যে ফিরছে নতুন সিরিয়া; উঠে গেল এইচটিএস-এর ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও।

৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা’ তালিকা থেকে মুক্ত সিরিয়া: শুরু নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়



৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা’ তালিকা থেকে মুক্ত সিরিয়া: শুরু নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়

টানা ৪৭ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের’ (State Sponsor of Terrorism) তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলে আসা কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের অবসান ঘটে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সামনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের নতুন দরজা খুলে গেল।

দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বৈরাচারী বাশার আল-আসাদ শাসনের পতন এবং নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে সিরিয়া তার আন্তর্জাতিক অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরিয়াকে মার্কিন সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে। এর আগে গত বছরের জুনে তৎকালীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ৪৫ দিনের নোটিশ পিরিয়ড শুরুর পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, "সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা থেকে নিজেদের পুরোপুরি মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থেই ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে।"

এইচটিএস-এর ওপর থেকে কালো তকমা প্রত্যাহার: এই সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তর সিরিয়ার সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-কে 'বিশ্ব সন্ত্রাসী সংগঠন' (SDGT) তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে এই দলটি দীর্ঘস্থায়ী সিরীয় গৃহযুদ্ধে আসাদ বাহিনীকে হটিয়ে জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সূচনা: এই ব্ল্যাকলিস্ট থেকে বাদ পড়ার ফলে বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং চ্যানেল, ঋণ সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগ সিরিয়ায় প্রবেশে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে একটি "ঐতিহাসিক মাইলফলক" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "এই তকমা কখনো সিরিয়ার জনগণের প্রতিফলন ছিল না। এটি ছিল সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের পাপ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরীয় জনগণের দীর্ঘ ত্যাগের বিজয় ঘটলো।"

সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকায় এখন কেবল ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং কিউবা অবশিষ্ট রইল। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় আশা করছে, আন্তর্জাতিক অবরোধ মুক্ত হয়ে সিরিয়া দ্রুত তার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

বিষয় : সিরিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা’ তালিকা থেকে মুক্ত সিরিয়া: শুরু নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টানা ৪৭ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের’ (State Sponsor of Terrorism) তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলে আসা কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের অবসান ঘটে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সামনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের নতুন দরজা খুলে গেল।

দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বৈরাচারী বাশার আল-আসাদ শাসনের পতন এবং নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে সিরিয়া তার আন্তর্জাতিক অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরিয়াকে মার্কিন সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে। এর আগে গত বছরের জুনে তৎকালীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ৪৫ দিনের নোটিশ পিরিয়ড শুরুর পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, "সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা থেকে নিজেদের পুরোপুরি মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থেই ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে।"

এইচটিএস-এর ওপর থেকে কালো তকমা প্রত্যাহার: এই সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তর সিরিয়ার সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-কে 'বিশ্ব সন্ত্রাসী সংগঠন' (SDGT) তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে এই দলটি দীর্ঘস্থায়ী সিরীয় গৃহযুদ্ধে আসাদ বাহিনীকে হটিয়ে জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সূচনা: এই ব্ল্যাকলিস্ট থেকে বাদ পড়ার ফলে বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং চ্যানেল, ঋণ সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগ সিরিয়ায় প্রবেশে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে একটি "ঐতিহাসিক মাইলফলক" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "এই তকমা কখনো সিরিয়ার জনগণের প্রতিফলন ছিল না। এটি ছিল সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের পাপ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরীয় জনগণের দীর্ঘ ত্যাগের বিজয় ঘটলো।"

সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকায় এখন কেবল ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং কিউবা অবশিষ্ট রইল। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় আশা করছে, আন্তর্জাতিক অবরোধ মুক্ত হয়ে সিরিয়া দ্রুত তার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ