মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মার্কিন অর্থনৈতিক সক্ষমতার সংকট তুলে ধরে তেহরানের স্পষ্ট বার্তা-হুমকি দিয়ে ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অংশীদারিত্ব রোধ করা সম্ভব নয়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কেবলই ‘ফাঁকা বুলি’: ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব ইরানি স্পিকারের



মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কেবলই ‘ফাঁকা বুলি’: ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব ইরানি স্পিকারের

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্টের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ২৫ আগস্ট তেহরানে দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি মার্কিন অবস্থানকে ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে আখ্যা দেন। বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর ওপর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষাপটে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের হুমকিতে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ ও নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের হুমকির মুখে কড়া কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্টের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও তাদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে গালিবাফ লেখেন, "আমেরিকানরা ভালো করেই জানে তাদের এই ফাঁকা হুমকিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার দিন শেষ হয়ে এসেছে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সংকুচিত করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে নেই।"


ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার আরো দাবি করেন, তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অংশীদারেরা ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গণমাধ্যম এবং সরাসরি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে তারা তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এসব বক্তব্য বা একক অর্থনৈতিক হুমকিকে তারা মোটেও আমলে নিচ্ছে না।

মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিকে পঙ্গু করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে একক নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার না করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। যদিও এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তেহরানকে একদিকে যেমন তীব্র কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সামরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক নতুন সংকটের সূচনা করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষীণ কূটনৈতিক সুযোগ ঝুলে আছে, অন্যদিকে তেহরানকে ক্রমাগত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও তার আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ কিংবা নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পিকার তেহরান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কেবলই ‘ফাঁকা বুলি’: ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব ইরানি স্পিকারের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্টের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ২৫ আগস্ট তেহরানে দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি মার্কিন অবস্থানকে ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে আখ্যা দেন। বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর ওপর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষাপটে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের হুমকিতে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ ও নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের হুমকির মুখে কড়া কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্টের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও তাদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে গালিবাফ লেখেন, "আমেরিকানরা ভালো করেই জানে তাদের এই ফাঁকা হুমকিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার দিন শেষ হয়ে এসেছে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সংকুচিত করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে নেই।"


ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার আরো দাবি করেন, তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অংশীদারেরা ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গণমাধ্যম এবং সরাসরি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে তারা তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এসব বক্তব্য বা একক অর্থনৈতিক হুমকিকে তারা মোটেও আমলে নিচ্ছে না।

মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিকে পঙ্গু করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে একক নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার না করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। যদিও এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তেহরানকে একদিকে যেমন তীব্র কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সামরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক নতুন সংকটের সূচনা করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষীণ কূটনৈতিক সুযোগ ঝুলে আছে, অন্যদিকে তেহরানকে ক্রমাগত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও তার আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ কিংবা নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ