কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে সংঘটিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ ৭ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ জারি করেন। মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা একরামুল হককে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মামলার পলাতক আসামি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৭ জনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের অপর দুই সম্মানিত সদস্য হলেন বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশের মুখোমুখি হওয়া অপর ছয় আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদের অন্যতম রূপকার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে পলাতক থাকা ৮ আসামির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২৫ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য করে।
আজ নির্ধারিত দিনে পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সশরীরে আদালতে হাজির হন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। তবে শেখ হাসিনাসহ বাকি ৭ জন পলাতক ও অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হওয়ার শেষ সুযোগ ও নির্দেশ প্রদান করে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত মাদকমুক্ত অভিযানের নামে বর্বরোচিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, এটি ছিল পরিকল্পিত এক হত্যাকাণ্ড, যা দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্মারক হিসেবে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
বিষয় : শেখ হাসিনা কক্সবাজার টেকনাফ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে সংঘটিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ ৭ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ জারি করেন। মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা একরামুল হককে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মামলার পলাতক আসামি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৭ জনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের অপর দুই সম্মানিত সদস্য হলেন বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশের মুখোমুখি হওয়া অপর ছয় আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদের অন্যতম রূপকার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে পলাতক থাকা ৮ আসামির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২৫ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য করে।
আজ নির্ধারিত দিনে পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সশরীরে আদালতে হাজির হন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। তবে শেখ হাসিনাসহ বাকি ৭ জন পলাতক ও অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হওয়ার শেষ সুযোগ ও নির্দেশ প্রদান করে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত মাদকমুক্ত অভিযানের নামে বর্বরোচিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, এটি ছিল পরিকল্পিত এক হত্যাকাণ্ড, যা দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্মারক হিসেবে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল।

আপনার মতামত লিখুন