সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান মানাল বিনতে হাসান রাদওয়ানকে “আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার জন্য উপদেষ্টা এবং বিশেষ দূত” হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়োগের ঘোষণা দেয়। তবে নতুন বিশেষ দূতের নির্দিষ্ট দায়িত্ব, ক্ষমতার পরিধি বা কোন কোন ফাইল তিনি দেখবেন—তা প্রকাশ করা হয়নি। গাজা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সংকটের সময় এই নিয়োগের ঘোষণা এলো।
ইস্তাম্বুল/আনাদোলু: সৌদি আরব আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টায় কাজ করার জন্য মানাল বিনতে হাসান রাদওয়ানকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান মঙ্গলবার মানাল রাদওয়ানকে তাঁর “আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার জন্য উপদেষ্টা এবং বিশেষ দূত” হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জারি করেন।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন কোম্পানি “এক্স” প্ল্যাটফর্মে তাদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। তবে মানালের নির্দিষ্ট দায়িত্ব, ক্ষমতার পরিধি কিংবা তাকে কোন কোন কূটনৈতিক ফাইল দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
মন্ত্রণালয় পদটি নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করেনি। আনাদোলু এজেন্সির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সৌদি আরবের আগে ঘোষিত নিয়োগগুলোর মধ্যে একই ধরনের পদবির নজির পাওয়া যায়নি।
তবে আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টায় মানাল রাদওয়ানের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। এর আগে তিনি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা দলের প্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানালের বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করা।
তিনি মিনিস্টার প্লেনিপোটেনশিয়ারি পদমর্যাদাও ধারণ করেন এবং শান্তি প্রচেষ্টা ও ফিলিস্তিনি ইস্যু নিয়ে আয়োজিত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফোরামে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আঞ্চলিক পর্যায়ে একাধিক আন্তঃসংযুক্ত সংকট চলমান থাকা অবস্থায় তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলো। এসব সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ, সংলাপ এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার গুরুত্ব বাড়ছে।
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গত জুলাইয়ে সৌদি আরব গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরুর ওপর জোর দিয়েছিল।
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের প্রভাবও এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে রয়েছে। এর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত এপ্রিলে সৌদি আরব তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানাল রাদওয়ানের নতুন নিয়োগকে গাজা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ফাইলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেনি। তিনি ঠিক কোন কোন বিষয় পরিচালনা করবেন, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি কূটনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৯ সালে রাজকুমারী রিমা বিনতে বান্দারকে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মানাল রাদওয়ানের নতুন নিয়োগ সৌদি আরবের কূটনৈতিক কাঠামোতে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার সেই ধারাবাহিকতারও একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত