যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে গত মে মাসে একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া নৃশংস বন্দুক হামলায় সহায়তার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণী হামলাকারীদের ব্যবহৃত মুসলিমবিদ্বেষী ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী নথিপত্র প্রচার এবং নৃশংস সেই হামলার সরাসরি লাইভস্ট্রিমিং সম্প্রচারে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছিল। ১ সেপ্টেম্বর সোমবার তাকে আদালতের গ্র্যান্ড জুরি কর্তৃক অভিযুক্ত করা হয়।
আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের এক ১৭ বছর বয়সী তরুণীর বিরুদ্ধে সান ডিয়েগো মসজিদে রক্তক্ষয়ী হামলায় সহায়তা করার জন্য তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনার ফরসিথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম ও'নিল জানান, গত সপ্তাহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে সান ডিয়েগোর 'ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো'-তে হামলা চালায় দুই শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থী তরুণ—১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী কেলেব ভাসকেজ। তারা মাথায় গোপ্রো (GoPro) ক্যামেরা লাগিয়ে হামলা পরিচালনা করে এবং সেই দৃশ্য অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করে। এই কিশোরী অভিযুক্তদের সেই উগ্রপন্থী ইশতেহার ছড়িয়ে দিতে এবং লাইভস্ট্রিমিং পরিচালনায় সহায়তা করেছিল।
অভিযুক্ত কিশোরীকে নতুন স্কুলবর্ষ শুরুর আগে আটক করার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম ও'নিল বলেন, "সে আবার স্কুলে ফিরে যাচ্ছে বা সামনে ছুটির দিন ও ধর্মীয় উৎসব আসছে—এই অবস্থায় সে আরও কী ধরনের অপরাধ ঘটাতে পারে তা আমরা নিশ্চিত ছিলাম না।" তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীদের পরিকল্পনা শুধু ওই মসজিদে সীমাবদ্ধ ছিল না; মসজিদ গণহত্যার পর নিকটস্থ একটি ইহুদি উপাসনালয় (সিনাগগ) এবং কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি হাই স্কুলেও গণগোলাগুলি চালানোর ছক ছিল তাদের।
সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলায় বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন মসজিদের নিরাপত্তা প্রহরী আমিন আব্দুল্লাহ। তিনি হামলাকারীদের সঙ্গে প্রাণপণ বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হন এবং দ্রুত লকডাউন নিশ্চিত করেন, যার ফলে ভেতরে থাকা প্রায় ১৪০ জন কোমলমতি শিশু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে সংঘর্ষে প্রহরীর দায়িত্বে থাকা আমিন আব্দুল্লাহসহ মনসুর কাজিহা এবং নাদের আওয়াদ নামের তিন মুসলিম শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে হামলাকারী দুই উগ্রপন্থী কেলেব ও কেইন কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ভেতর নিজেরা আত্মহত্যা করে।
আইনগত ব্যাখ্যা দিয়ে জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল বলেন, নর্থ ক্যারোলিনার আইন অনুযায়ী, "যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংগঠনে অন্যকে সাহায্য ও প্ররোচনা দেয়, সে নিজেও সমানভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়—যেন সে নিজেই অপরাধের প্রতিটি ধাপ সম্পাদন করেছে।"
পশ্চিমাদেশগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলা ইসলামোফোবিয়া ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রবাদের ভয়াবহ রূপ আবারও উন্মোচিত হলো এই মামলার মধ্য দিয়ে। মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইন্টারনেটে কীভাবে তরুণদের উগ্রবাদের দিকে ধাবিত করা হচ্ছে তা প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজন।
মতামত