বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি স্কুলে শিক্ষক প্রবেশে বাধা ও ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে তারা।

জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিক্ষায় ইসরায়েলি বাধা


প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিক্ষায় ইসরায়েলি বাধা

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাধার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, পশ্চিম তীরের শিক্ষক ও কর্মীদের পূর্ব জেরুজালেমের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্কুলগুলোতে ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টারও নিন্দা জানিয়েছে তারা। শিক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু নিন্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলের হামলা ও বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় পূর্ব জেরুজালেমের বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে ধর্মঘট পালনের সঙ্গে বিবৃতিটি মিলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খ্রিস্টান স্কুলও রয়েছে। পশ্চিম তীরে বসবাসকারী শিক্ষক ও কর্মীদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতিপত্র না দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের প্রবেশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাধা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করা এই শহরে ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি স্কুলগুলোতে কর্মরত পশ্চিম তীরের শিক্ষক ও কর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। এর ফলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত হয়ে যায়।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন এবং পবিত্র নগরীতে ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, দখলদারিত্ব শুধু ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের ইতিহাস ও পরিচয় সম্পর্কিত বয়ান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জ্ঞানের উৎস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি প্রজন্মের ওপর নিজস্ব বয়ান চাপিয়ে দিতে চায়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ইতিহাস, সভ্যতা ও জাতীয় পরিচয় জানার অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)-এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা এবং এর স্থাপনাগুলো দখলেরও নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্ব জেরুজালেম অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ। শহরটির চরিত্র, পরিচয় কিংবা আইনি, জনমিতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো ‘বাতিল, অকার্যকর ও অবৈধ’ এবং এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরটির ওপর ইসরায়েলের কোনো অধিকার বা সার্বভৌমত্ব সৃষ্টি হয় না বলে তারা মনে করে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, শুধু নিন্দা জানিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নিজেদের আইনগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা এবং ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক ও কর্মীদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারকে সম্মান, জেরুজালেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা এবং শহরটির পরিচয় ও ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করতে হবে।

ফিলিস্তিনি পক্ষ আরও আহ্বান জানিয়েছে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূমি থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম নিয়ে বিতর্ক

সোমবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ (Haaretz) জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমের প্রায় ৪৫ হাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে নতুন শিক্ষাবর্ষে ইসরায়েলি পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা পূর্ব জেরুজালেমের মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ৩৮ শতাংশের সমান।

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র নিতে বাধ্য করে। কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উপাসনাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এসব অনুমতির প্রয়োজন হয়। অনুমতিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

জেরুজালেমে প্রধানত তিন ধরনের স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুল, যার অধিকাংশই খ্রিস্টানদের পরিচালিত; ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের পরিচালিত স্কুল; এবং জেরুজালেম পৌরসভা ও ইসরায়েলি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত স্কুল।

শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে নতুন আইন

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি নেসেট বা সংসদ এমন একটি আইন পাস করে, যার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষকদের ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়।

হারেৎজ-এর আগের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, আইনটি বিশেষভাবে পূর্ব জেরুজালেমের আরব শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। সেখানে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পূর্ব জেরুজালেমের অবস্থান

ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখলে রেখেছে এবং শহরটিকে নিজেদের রাজধানীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। এই রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধের মধ্যেই শহরটির শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রবেশাধিকার, পাঠ্যক্রম এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হচ্ছে।

বিষয় : ফিলিস্তিন ইসরায়েল শিক্ষা,

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিক্ষায় ইসরায়েলি বাধা

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাধার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, পশ্চিম তীরের শিক্ষক ও কর্মীদের পূর্ব জেরুজালেমের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্কুলগুলোতে ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টারও নিন্দা জানিয়েছে তারা। শিক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু নিন্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলের হামলা ও বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় পূর্ব জেরুজালেমের বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে ধর্মঘট পালনের সঙ্গে বিবৃতিটি মিলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খ্রিস্টান স্কুলও রয়েছে। পশ্চিম তীরে বসবাসকারী শিক্ষক ও কর্মীদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতিপত্র না দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের প্রবেশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাধা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করা এই শহরে ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি স্কুলগুলোতে কর্মরত পশ্চিম তীরের শিক্ষক ও কর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। এর ফলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত হয়ে যায়।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন এবং পবিত্র নগরীতে ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, দখলদারিত্ব শুধু ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম চাপিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের ইতিহাস ও পরিচয় সম্পর্কিত বয়ান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জ্ঞানের উৎস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি প্রজন্মের ওপর নিজস্ব বয়ান চাপিয়ে দিতে চায়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ইতিহাস, সভ্যতা ও জাতীয় পরিচয় জানার অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)-এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা এবং এর স্থাপনাগুলো দখলেরও নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্ব জেরুজালেম অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ। শহরটির চরিত্র, পরিচয় কিংবা আইনি, জনমিতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো ‘বাতিল, অকার্যকর ও অবৈধ’ এবং এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরটির ওপর ইসরায়েলের কোনো অধিকার বা সার্বভৌমত্ব সৃষ্টি হয় না বলে তারা মনে করে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, শুধু নিন্দা জানিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নিজেদের আইনগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা এবং ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক ও কর্মীদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারকে সম্মান, জেরুজালেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা এবং শহরটির পরিচয় ও ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করতে হবে।

ফিলিস্তিনি পক্ষ আরও আহ্বান জানিয়েছে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূমি থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ইসরায়েলি শিক্ষাক্রম নিয়ে বিতর্ক

সোমবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ (Haaretz) জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমের প্রায় ৪৫ হাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে নতুন শিক্ষাবর্ষে ইসরায়েলি পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যা পূর্ব জেরুজালেমের মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ৩৮ শতাংশের সমান।

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র নিতে বাধ্য করে। কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উপাসনাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এসব অনুমতির প্রয়োজন হয়। অনুমতিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

জেরুজালেমে প্রধানত তিন ধরনের স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুল, যার অধিকাংশই খ্রিস্টানদের পরিচালিত; ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের পরিচালিত স্কুল; এবং জেরুজালেম পৌরসভা ও ইসরায়েলি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত স্কুল।

শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে নতুন আইন

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি নেসেট বা সংসদ এমন একটি আইন পাস করে, যার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষকদের ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়।

হারেৎজ-এর আগের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, আইনটি বিশেষভাবে পূর্ব জেরুজালেমের আরব শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। সেখানে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পূর্ব জেরুজালেমের অবস্থান

ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখলে রেখেছে এবং শহরটিকে নিজেদের রাজধানীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। এই রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধের মধ্যেই শহরটির শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রবেশাধিকার, পাঠ্যক্রম এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিক্ষায় ইসরায়েলি বাধা
0:00 0:00
1.0x