মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে’ জানালেন ইরানি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ৩৭০টির বেশি বিমান লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ইরানের


মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ
মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ৩৭০টির বেশি বিমান লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশাল সাফল্য দাবি করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের উপসমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান শুক্রবার এক বক্তব্যে জানান, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৩৭০টিরও বেশি শত্রুবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেশ কয়েকটি বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান দাবি করেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা ও আগ্রাসন প্রতিরোধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। তার মতে, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের ৩৭০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন চিহ্নিত করে সেগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিমান ও সামরিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে সাদেকিয়ান উল্লেখ করেন, এর আগে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে কাজে লাগিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। সেই সংঘাত থেকে নিজেদের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তাৎক্ষণিক আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ করা হয়। ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী দফায় মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অভাবনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে পেরেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা ও ইসরাইলি বাহিনী ভেবেছিল অভিযানের প্রথম দিনেই তারা ইরানের সমস্ত এয়ার ডিফেন্স রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে ইরানের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব ও একাধিক শত্রুবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা তাদের সেই হিসেব-নিকাশ পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গত দুই দিনে একটি মার্কিন অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9 Reaper) কৌশলগত ড্রোনকে সফলভাবে আঘাত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছিল যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

ইরানি সামরিক কমান্ডের দাবি, এই অভূতপূর্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি, পুরোনো প্রযুক্তির অস্ত্রকে অত্যাধুনিক মানদণ্ডে রূপান্তর, বিদেশি প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ দেশীয় শিল্পে উৎপাদনের সাফল্য। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি (IRGC) একটি সুসংগঠিত যৌথ কমান্ডের অধীনে নিখুঁতভাবে কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ৩৭০টির বেশি বিমান লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশাল সাফল্য দাবি করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের উপসমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান শুক্রবার এক বক্তব্যে জানান, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৩৭০টিরও বেশি শত্রুবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেশ কয়েকটি বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান দাবি করেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা ও আগ্রাসন প্রতিরোধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। তার মতে, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের ৩৭০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন চিহ্নিত করে সেগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিমান ও সামরিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে সাদেকিয়ান উল্লেখ করেন, এর আগে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে কাজে লাগিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। সেই সংঘাত থেকে নিজেদের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তাৎক্ষণিক আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ করা হয়। ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী দফায় মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অভাবনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে পেরেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা ও ইসরাইলি বাহিনী ভেবেছিল অভিযানের প্রথম দিনেই তারা ইরানের সমস্ত এয়ার ডিফেন্স রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে ইরানের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব ও একাধিক শত্রুবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা তাদের সেই হিসেব-নিকাশ পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গত দুই দিনে একটি মার্কিন অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9 Reaper) কৌশলগত ড্রোনকে সফলভাবে আঘাত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছিল যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

ইরানি সামরিক কমান্ডের দাবি, এই অভূতপূর্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি, পুরোনো প্রযুক্তির অস্ত্রকে অত্যাধুনিক মানদণ্ডে রূপান্তর, বিদেশি প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ দেশীয় শিল্পে উৎপাদনের সাফল্য। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি (IRGC) একটি সুসংগঠিত যৌথ কমান্ডের অধীনে নিখুঁতভাবে কৌশল বাস্তবায়ন করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ