শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

এক মাসে ৪২টি মুসলিম ও ১৪টি দলিত নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত; সরকারি দপ্তর, মসজিদ, সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর অপরাধ স্বীকারের পরও মেলেনি শাস্তি।

ভারতজুড়ে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: সংখ্যালঘু দমনের চিত্র উন্মোচন


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতজুড়ে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: সংখ্যালঘু দমনের চিত্র উন্মোচন

ভারতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী হিংসা, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম এবং প্রান্তিক দলিত সম্প্রদায়। সংবাদমাধ্যম ‘সিয়াসাত’-এর প্রকাশিত ট্র্যাকার অনুযায়ী, কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই দেশজুড়ে অন্তত ৬৫টি চরম বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি সরাসরি মুসলিমদের বিরুদ্ধে, ১৪টি দলিতদের বিরুদ্ধে, ৫টি খ্রিস্টান ও ৪টি অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগে আক্রমণকারীরা এখন নিজেদের অপরাধ আর গোপন করছে না, বরং প্রকাশ্যেই তা উদযাপন করছে।

প্রকাশ্য অপরাধ স্বীকার ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

গত ৩ সেপ্টেম্বর এক ইউটিউব পডকাস্টে নিজেকে ‘কট্টর হিন্দু’ হিসেবে দাবি করা ২১ বছর বয়সী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন সঞ্জয় কুমার নামের এক দলিত ব্যক্তির মাথায় আঘাত করে তাঁর খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির মাথায় ৬০টি সেলাই পড়েছিল। ভরদ্বাজ অহংকার করে বলেন, অপরাধ করার পর তিনি পুলিশকে ভয় না পেয়ে সারা রাত দিল্লিতে ঘুরে বেরিয়েছেন এবং বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিজের "বড় ভাই" হিসেবে অভিহিত করেছেন। Bulandshahr থেকে আটক হওয়ার পর আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে যান। ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই ধরনের নমনীয়তা উগ্রপন্থীদের আরও উৎসাহিত করছে।

মুসলিম আমলা ও কর্মকর্তাদের ওপর হয়রানি

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরকালে মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাদের পদ্ধতিগতভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রেজা ও এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামীমকে এই অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি। এই খবরের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় 'মাকতুব মিডিয়া' নামক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

একই মাসে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বুশরা বানো (আইপিএস) একটি ভিডিওতে সিভিল সার্ভিস সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে “জয় হিন্দ” না বলে “আসালামু আলাইকুম”, “ইনশাল্লাহ” ও “জাযাকাল্লাহ” শব্দ ব্যবহার করায় উগ্রপন্থী দলগুলোর দাবির মুখে তাঁকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। অপরদিকে, একাধিক হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিউটিতে থেকে ধর্মীয় উৎসবে উন্মুক্ত নাচ-গানে অংশ নিতে দেখা গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভাটকেও গুজরাট দাঙ্গায় মোদির ভূমিকা নিয়ে হলফনামা দেওয়ার জের ধরে বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশাসনিক চাপ

ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া তাণ্ডবকে ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করায় কার্যালয়ে গেরুয়া রঙ লেপে দেয় উগ্রপন্থীরা। দিল্লিতে ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খানকে ভিভিআইপি রুট অবরুদ্ধ করার অজুহাতে থানায় নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শাহীন খান ক্ষোভের সাথে জানান, “হ্যাঁ, আমি একজন মুসলিম, কিন্তু আমি তোমাদের চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক।” এছাড়া উত্তরপ্রদেশে সাহারানপুরে ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘অপরাধী’ বলায় সাবেক বিবিসি সাংবাদিক হুদা জারিওয়ালাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মসজিদ ও গির্জা উচ্ছেদ: 'বুলডোজার রাজনীতি'

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার 'বুলডোজার রাজনীতি' অব্যাহত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট কমপ্লেক্সে অবস্থিত ১১৫ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে ভোররাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রদেশে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে মদিনা মসজিদ আংশিক ভাঙা হয়। উজ্জ্বল শহরের প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক 'শাহী মসজিদ'-এর দেয়াল কুম্ভমেলার দোহাই দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ থামাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক রাত পাহারা দিলেও পুলিশি টিয়ার গ্যাসেরমুখে নিজের হাতেই মসজিদের প্রাচীর ভাঙতে বাধ্য হন। অন্যদিকে পুণের কাছে 'জিসাস ইজ লর্ড' গির্জাও একইভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ

সংখ্যালঘু ও দলিত শিক্ষার্থীরা আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সুরক্ষিত নয়। লখনউতে ১২ বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে অস্বীকার করায় তাকে লোহার কাদা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। কলকাতায় ৩ জন মুসলিম শিক্ষার্থীকে 'জিহাদি' ও 'জঙ্গি' বলে মারধর করা হয়। কর্ণাটকে এক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মুসলিম ছাত্রদের 'সন্ত্রাসবাদী' আখ্যা দিলে এক ছাত্র হাত জোড় করে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, "আমরা সন্ত্রাসী নই, আমরা শুধুই মুসলিম।" আইআইটি বোম্বেতে সাহিল ওয়া কোডে নামক ২০ বছর বয়সী এক দলিত ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু বৈষম্যের এক নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।

ধর্মীয় উৎসব ও চরমপন্থী উস্কানি

গণেশ চতুর্থীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম বসতি ও উপাসনালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উত্তর কন্নড়ে মসজিদে পাথর নিক্ষেপ এবং মুম্বাইতে সামাজিক মাধ্যমে মুসলিমদের উৎসববিরোধী হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে মুসলিম ঘোড়াসওয়ারকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে বাধ্য করার অপচেষ্টা এবং মুম্বাইয়ের হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরার কারণে মুসলিম নারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভারতে আজ একজন মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের কারণে তার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং তাকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এক স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ভারতজুড়ে সেপ্টেম্বরে ৬৫টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: সংখ্যালঘু দমনের চিত্র উন্মোচন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী হিংসা, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম এবং প্রান্তিক দলিত সম্প্রদায়। সংবাদমাধ্যম ‘সিয়াসাত’-এর প্রকাশিত ট্র্যাকার অনুযায়ী, কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই দেশজুড়ে অন্তত ৬৫টি চরম বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি সরাসরি মুসলিমদের বিরুদ্ধে, ১৪টি দলিতদের বিরুদ্ধে, ৫টি খ্রিস্টান ও ৪টি অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগে আক্রমণকারীরা এখন নিজেদের অপরাধ আর গোপন করছে না, বরং প্রকাশ্যেই তা উদযাপন করছে।

প্রকাশ্য অপরাধ স্বীকার ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

গত ৩ সেপ্টেম্বর এক ইউটিউব পডকাস্টে নিজেকে ‘কট্টর হিন্দু’ হিসেবে দাবি করা ২১ বছর বয়সী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন সঞ্জয় কুমার নামের এক দলিত ব্যক্তির মাথায় আঘাত করে তাঁর খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির মাথায় ৬০টি সেলাই পড়েছিল। ভরদ্বাজ অহংকার করে বলেন, অপরাধ করার পর তিনি পুলিশকে ভয় না পেয়ে সারা রাত দিল্লিতে ঘুরে বেরিয়েছেন এবং বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিজের "বড় ভাই" হিসেবে অভিহিত করেছেন। Bulandshahr থেকে আটক হওয়ার পর আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে যান। ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই ধরনের নমনীয়তা উগ্রপন্থীদের আরও উৎসাহিত করছে।

মুসলিম আমলা ও কর্মকর্তাদের ওপর হয়রানি

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরকালে মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাদের পদ্ধতিগতভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রেজা ও এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামীমকে এই অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি। এই খবরের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় 'মাকতুব মিডিয়া' নামক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

একই মাসে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বুশরা বানো (আইপিএস) একটি ভিডিওতে সিভিল সার্ভিস সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে “জয় হিন্দ” না বলে “আসালামু আলাইকুম”, “ইনশাল্লাহ” ও “জাযাকাল্লাহ” শব্দ ব্যবহার করায় উগ্রপন্থী দলগুলোর দাবির মুখে তাঁকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। অপরদিকে, একাধিক হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিউটিতে থেকে ধর্মীয় উৎসবে উন্মুক্ত নাচ-গানে অংশ নিতে দেখা গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব ভাটকেও গুজরাট দাঙ্গায় মোদির ভূমিকা নিয়ে হলফনামা দেওয়ার জের ধরে বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশাসনিক চাপ

ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেরুয়া তাণ্ডবকে ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করায় কার্যালয়ে গেরুয়া রঙ লেপে দেয় উগ্রপন্থীরা। দিল্লিতে ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খানকে ভিভিআইপি রুট অবরুদ্ধ করার অজুহাতে থানায় নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শাহীন খান ক্ষোভের সাথে জানান, “হ্যাঁ, আমি একজন মুসলিম, কিন্তু আমি তোমাদের চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক।” এছাড়া উত্তরপ্রদেশে সাহারানপুরে ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘অপরাধী’ বলায় সাবেক বিবিসি সাংবাদিক হুদা জারিওয়ালাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মসজিদ ও গির্জা উচ্ছেদ: 'বুলডোজার রাজনীতি'

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার 'বুলডোজার রাজনীতি' অব্যাহত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট কমপ্লেক্সে অবস্থিত ১১৫ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে ভোররাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রদেশে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে মদিনা মসজিদ আংশিক ভাঙা হয়। উজ্জ্বল শহরের প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক 'শাহী মসজিদ'-এর দেয়াল কুম্ভমেলার দোহাই দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ থামাতে স্থানীয় মুসলিমরা কয়েক রাত পাহারা দিলেও পুলিশি টিয়ার গ্যাসেরমুখে নিজের হাতেই মসজিদের প্রাচীর ভাঙতে বাধ্য হন। অন্যদিকে পুণের কাছে 'জিসাস ইজ লর্ড' গির্জাও একইভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ

সংখ্যালঘু ও দলিত শিক্ষার্থীরা আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সুরক্ষিত নয়। লখনউতে ১২ বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে অস্বীকার করায় তাকে লোহার কাদা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। কলকাতায় ৩ জন মুসলিম শিক্ষার্থীকে 'জিহাদি' ও 'জঙ্গি' বলে মারধর করা হয়। কর্ণাটকে এক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মুসলিম ছাত্রদের 'সন্ত্রাসবাদী' আখ্যা দিলে এক ছাত্র হাত জোড় করে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, "আমরা সন্ত্রাসী নই, আমরা শুধুই মুসলিম।" আইআইটি বোম্বেতে সাহিল ওয়া কোডে নামক ২০ বছর বয়সী এক দলিত ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু বৈষম্যের এক নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।

ধর্মীয় উৎসব ও চরমপন্থী উস্কানি

গণেশ চতুর্থীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম বসতি ও উপাসনালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উত্তর কন্নড়ে মসজিদে পাথর নিক্ষেপ এবং মুম্বাইতে সামাজিক মাধ্যমে মুসলিমদের উৎসববিরোধী হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে মুসলিম ঘোড়াসওয়ারকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে বাধ্য করার অপচেষ্টা এবং মুম্বাইয়ের হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরার কারণে মুসলিম নারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভারতে আজ একজন মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের কারণে তার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং তাকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এক স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ