রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আফগান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ; সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য কাবুলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদ।

খাইবার পাখতুনখওয়ায় পাক বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নিহত ২১


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাইবার পাখতুনখওয়ায় পাক বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নিহত ২১

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অন্তত ২১ জন সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর-এর দাবি, নিহতরা ভারত-সমর্থিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খারিজি’-র (টিটিপি) সদস্য। গত ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ও উগ্রপন্থা-বিরোধী গোয়েন্দা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর দেওয়া তথ্য মতে, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে খাইবার পাখতুনখওয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে একাধিক যৌথ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর রাতে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। পরবর্তীতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সীমান্ত এলাকায় আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা চিহ্নিত করে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে আরও ৭ জন নিহত হয়। এছাড়া কোহাট ও দেরা ইসমাইল খান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক যৌথ অভিযানে আরও ৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় অনুপ্রবেশ চেষ্টাকালে মোট ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক সংস্থাটি।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেছে, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটির সদস্যরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট হয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একই সাথে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। আইএসপিআর উল্লেখ করে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সীমান্ত অতিক্রমী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে কাবুল সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইসলামাবাদ আফগান তালেবান প্রশাসনকে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার এবং সীমান্ত এলাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে প্রতিবেশী কোনো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে নিজেদের মাটি ব্যবহৃত না হয়।

পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ সামরিক ফ্রেমওয়ার্ক ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’-এর অধীনে এই চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখওয়ার উপজাতীয় সীমান্ত অঞ্চলে আর কোনো সশস্ত্র উগ্রপন্থী আত্মগোপন করে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পুরো এলাকায় তল্লাশি ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : পাকিস্তান আফগান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খাইবার পাখতুনখওয়ায় পাক বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নিহত ২১

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অন্তত ২১ জন সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর-এর দাবি, নিহতরা ভারত-সমর্থিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খারিজি’-র (টিটিপি) সদস্য। গত ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ও উগ্রপন্থা-বিরোধী গোয়েন্দা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর দেওয়া তথ্য মতে, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে খাইবার পাখতুনখওয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে একাধিক যৌথ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর রাতে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। পরবর্তীতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সীমান্ত এলাকায় আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা চিহ্নিত করে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে আরও ৭ জন নিহত হয়। এছাড়া কোহাট ও দেরা ইসমাইল খান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক যৌথ অভিযানে আরও ৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় অনুপ্রবেশ চেষ্টাকালে মোট ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক সংস্থাটি।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেছে, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটির সদস্যরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট হয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একই সাথে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। আইএসপিআর উল্লেখ করে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সীমান্ত অতিক্রমী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে কাবুল সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইসলামাবাদ আফগান তালেবান প্রশাসনকে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার এবং সীমান্ত এলাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে প্রতিবেশী কোনো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে নিজেদের মাটি ব্যবহৃত না হয়।

পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ সামরিক ফ্রেমওয়ার্ক ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’-এর অধীনে এই চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখওয়ার উপজাতীয় সীমান্ত অঞ্চলে আর কোনো সশস্ত্র উগ্রপন্থী আত্মগোপন করে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পুরো এলাকায় তল্লাশি ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ