ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শিশুদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানাতে নেদারল্যান্ডসের ১১টি শহরে একযোগে ঘুড়ি ওড়ানো হয়েছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘প্ল্যান্ট অ্যান অলিভ ট্রির’ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের ডাচ নাগরিক ও শিশু-কিশোররা অংশ নেন। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার চক্রান্ত এবং ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রতি অযৌক্তিক হুমকির তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে ইউরোপের দেশটির আকাশে ফিলিস্তিনি পতাকার রঙ্গে সাজানো ঘুড়ি উড়িয়ে এই অভিনব বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
গাজায় চলা অমানবিক ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে ইউরোপ জুড়ে জাগ্রত জনমতের নতুন এক রূপ দেখা গেল নেদারল্যান্ডসে। দেশটির বড় বড় শহরগুলোর আকাশ ছেয়ে যায় ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে আঁকা ঘুড়িতে। ‘প্ল্যান্ট অ্যান অলিভ ট্রি ফাউন্ডেশন’ নামক মানবাধিকার সংস্থাটি গাজার শিশুদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত হামলা ও তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত বন্দরনগরী রটারডামের নোর্ডারাইলান্ড স্কোয়ারে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিন অনুরাগী ডাচ নাগরিক। সেখানে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের মানুষ হাতে তৈরি ঘুড়ি আকাশে ওড়ান। এসব ঘুড়িতে শোভা পাচ্ছিল 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' (ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো) ও 'সেভ গাজা' (গাজাকে বাঁচাও)-এর মতো জোরালো প্রতিবাদী স্লোগান। অনেক ঘুড়ি বিশেষভাবে ফিলিস্তিনি পতাকার আকৃতি ও লাল-সবুজ-সাদা-কালো রঙের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার সীমান্ত ঘেরা বন্দিদশা থেকে ফিলিস্তিনি শিশুরা মাঝে মাঝে প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে থাকে। কখনো কখনো সেগুলো সীমানা ছাড়িয়ে পাশের ইসরায়েলি বসতি এলাকায় গিয়ে পড়ে। এ অতি সাধারণ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর নতুন করে হামলা চালানো এবং বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে আসছে। তেল আবিবের এমন অমানবিক অবস্থান ও সামরিক হুমকির জবাব দিতেই মূলত নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরা এই ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতীকী মাধ্যমটি বেছে নেন।
রটারডামের পাশাপাশি অন্যান্য ডাচ শহরের কর্মসূচিতেও বিপুল সাড়া দেখা গেছে। অনুষ্ঠানগুলোর শেষ অংশে সাধারণ মানুষের মাঝে গাজার প্রকৃত চিত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নিপীড়ন সম্পর্কে তথ্যবহুল প্রচারপত্র (লিফলেট) বিতরণ করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টা ডাচ সমাজে গাজার নিপীড়িত মুসলিমদের পক্ষে ইতিবাচক জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত