রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থীদের তীব্র বিক্ষোভে কঠোর হস্তে বাধা প্রদান করল জার্মান পুলিশ; অন্তত দুইজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জার্মানিতে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বার্লিন, কড়া পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বার্লিন, কড়া পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

গাজায় চলমান ইসরায়েলি বর্বরতা ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের আর্নস্ট রয়টার স্কোয়ারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে একটি পদযাত্রা উইটেনবার্গ স্কয়ারের দিকে যাওয়ার পথে উহল্যান্ড স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনের কাছে পুলিশ কঠোর হস্তক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং অন্তত দুজনকে আটক করে।

গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বার্লিন

গাজায় নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের ওপর অবিরত হামলা ও আন্তর্জাতিক আদালতের তোয়াক্কা না করে চালানো গণহত্যার প্রতিবাদে হাজার হাজার ফিলিস্তিন সমর্থক বার্লিনের রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা শহরের আর্নস্ট রয়টার স্কোয়ারে একত্র হয়ে এক বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিহীন অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লেখা ছিল—

'গণহত্যার সাথে কোনো মৈত্রী হতে পারে না'

'অবিচার কখনোই শান্তির সমতুল্য নয়'

'গণহত্যা বন্ধ করুন'

'গাজা বিশ্বের বৃহত্তম এতিমখানা এবং বিশ্বের বৃহত্তম শিশু কবরস্থান'

'আজ কেউ বলতে পারবে না যে তারা কিছুই জানত না'

জার্মান সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে জার্মানির পরোক্ষ সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহের কঠোর সমালোচনা করেন। বিক্ষোভকারীরা সশব্দে স্লোগান তোলেন:

'জায়নবাদীরা ফ্যাসিস্ট, তারা শিশু ও নারী হত্যা করে'।

'শিশুরা মারা যাচ্ছে, এর পেছনে জার্মানি রয়েছে'।

'ইসরায়েল একটি শিশু হত্যাকারী'।

'ইসরায়েল শিশুদের পুড়িয়ে মারছে, জার্মানি তা নীরবে দেখছে'।

পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

মিছিলটি যখন উহল্যান্ড স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন জার্মান পুলিশ কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশি হস্তক্ষেপে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে অন্তত দুই বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।

জার্মান সরকারের এই দমন-পীড়ন ও পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। হাজারো নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভ ও সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে পদযাত্রাটি তার নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে উইটেনবার্গ স্কোয়ারে গিয়ে শেষ হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপ জুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী শান্তিকামী জনগণের ওপর পুলিশের এমন দমনমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

জার্মানিতে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে পুলিশি হামলা!

'গাজাকে বানানো হয়েছে শিশুদের কবরস্থান, আর জার্মানি তা নীরবে দেখে চলেছে'। বার্লিনের রাজপথে রক্তচক্ষু ও পুলিশি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে স্লোগানে উত্তাল শান্তিকামী জনতা।

বিষয় : গাজা শাপলা চত্বর গণহত্যা ইসরায়েলি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জার্মানিতে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বার্লিন, কড়া পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজায় চলমান ইসরায়েলি বর্বরতা ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের আর্নস্ট রয়টার স্কোয়ারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে একটি পদযাত্রা উইটেনবার্গ স্কয়ারের দিকে যাওয়ার পথে উহল্যান্ড স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনের কাছে পুলিশ কঠোর হস্তক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং অন্তত দুজনকে আটক করে।

গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বার্লিন

গাজায় নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের ওপর অবিরত হামলা ও আন্তর্জাতিক আদালতের তোয়াক্কা না করে চালানো গণহত্যার প্রতিবাদে হাজার হাজার ফিলিস্তিন সমর্থক বার্লিনের রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা শহরের আর্নস্ট রয়টার স্কোয়ারে একত্র হয়ে এক বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিহীন অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লেখা ছিল—

'গণহত্যার সাথে কোনো মৈত্রী হতে পারে না'

'অবিচার কখনোই শান্তির সমতুল্য নয়'

'গণহত্যা বন্ধ করুন'

'গাজা বিশ্বের বৃহত্তম এতিমখানা এবং বিশ্বের বৃহত্তম শিশু কবরস্থান'

'আজ কেউ বলতে পারবে না যে তারা কিছুই জানত না'

জার্মান সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে জার্মানির পরোক্ষ সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহের কঠোর সমালোচনা করেন। বিক্ষোভকারীরা সশব্দে স্লোগান তোলেন:

'জায়নবাদীরা ফ্যাসিস্ট, তারা শিশু ও নারী হত্যা করে'।

'শিশুরা মারা যাচ্ছে, এর পেছনে জার্মানি রয়েছে'।

'ইসরায়েল একটি শিশু হত্যাকারী'।

'ইসরায়েল শিশুদের পুড়িয়ে মারছে, জার্মানি তা নীরবে দেখছে'।

পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

মিছিলটি যখন উহল্যান্ড স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন জার্মান পুলিশ কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশি হস্তক্ষেপে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে অন্তত দুই বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।

জার্মান সরকারের এই দমন-পীড়ন ও পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। হাজারো নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভ ও সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে পদযাত্রাটি তার নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে উইটেনবার্গ স্কোয়ারে গিয়ে শেষ হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপ জুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী শান্তিকামী জনগণের ওপর পুলিশের এমন দমনমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

জার্মানিতে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে পুলিশি হামলা!

'গাজাকে বানানো হয়েছে শিশুদের কবরস্থান, আর জার্মানি তা নীরবে দেখে চলেছে'। বার্লিনের রাজপথে রক্তচক্ষু ও পুলিশি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে স্লোগানে উত্তাল শান্তিকামী জনতা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ