গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্মম গণহত্যার পটভূমিতে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জার্মানির বিরুদ্ধে মামলা করে মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে এই মামলাটি সম্পূর্ণরূপে খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে বার্লিন। জার্মানির দাবি, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক সনদ মেনেই অস্ত্র রপ্তানি পরিচালনা করে এবং এসংক্রান্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে বিশ্বজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তখনো দখলদার ইসরাইলকে সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অভিযোগে জার্মানির মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নিকারাগুয়া কর্তৃক দায়ের করা মামলাটির প্রাথমিক শুনানিতে জার্মানি আদালতকে অনুরোধ করেছে যেন মামলাটি বাতিল বা খারিজ করে দেওয়া হয়।
নিকারাগুয়া তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, জার্মানি তেল আবিবকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত 'গণহত্যা সংহতি চুক্তি' (Genocide Convention) লঙ্ঘন করছে। একই সাথে দেশটি জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)-তে অর্থায়ন স্থগিত করে অবরুদ্ধ গাজার নিরীহ মুসলমানদের খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।
জার্মানির প্রতিনিধি আইসিজে-কে জানান, বার্লিন ইসরাইলের প্রতি তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও বন্ধুত্বের জায়গা থেকে কাজ করছে এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়টি কড়া পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। জার্মানি দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতের একতিয়ারের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও গাজা সংহতি গোষ্ঠীগুলোর মতে, ইসরাইলি হামলার মুখে যখন ৪০ হাজারের বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তখন পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অবস্থান গণহত্যায় পরোক্ষ উসকানি দেওয়ার শামিল। তারা অবিলম্বে ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মতামত