মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

সাহারানপুরের ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবের; দায়ীদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা।

উত্তরপ্রদেশে প্রাচীন মসজিদ ভাঙা ঘিরে তোলপাড়, তোপের মুখে যোগী সরকার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরপ্রদেশে প্রাচীন মসজিদ ভাঙা ঘিরে তোলপাড়, তোপের মুখে যোগী সরকার

ভারতে মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উপাসনালয়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি শাসিত যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এ ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব এই অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ঘটনার ফলে বিশ্ব দরবারে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি একে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উত্তরপ্রদেশে ‘সাংবিধানিক বিপর্যয়’ বা কনস্টিটিউশনাল ব্রেকডাউনের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে বহু বছরের পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদ রাতারাতি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের চরম সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরের ওই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে হঠাৎ ‘অবৈধ নির্মাণ’ আখ্যা দিয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙে ফেলে স্থানীয় প্রশাসন। মুসলিম সমাজ ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মসজিদ কমিটিকে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সরকারের এই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'যারা অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংস করে বা অন্য বিশ্বাসীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, তারা কখনো কোনো নীতি-নৈতিকতার অনুসারী হতে পারে না। ভারতের বৈচিত্র্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করাই বিজেপির মূল এজেন্ডা'।

অখিলেশ যাদব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং বিশ্বের কাছে ভারতের ভাবমূর্তি মলিন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা কয়েকজন আমলা ও উগ্রপন্থী চক্র এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। সরকার যদি প্রকৃত অপরাধীদের নাম প্রকাশে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেই কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করবেন বলে সাফ জানান।

তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অসাংবিধানিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং দেশের ঐক্য ও আখণ্ডতা রক্ষার্থে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠাবেন। চিঠিতে রাষ্ট্রপতির সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে মসজিদ ভাঙার ঘটনায় গঠিত মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

ইসলামি উম্মাহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ভারতে ক্রমাগতভাবে মুসলিমদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে নিশানা বানিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার আগেই অতি গোপনে বুলডোজার চালিয়ে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার এ ঘটনা উত্তরপ্রদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি নিপীড়নের শামিল।

অখিলেশ যাদব শেষ বার্তা দিয়ে বলেন, আইন ও সংবিধান লঙ্ঘনকারী কোনো অপরাধী সাময়িকভাবে পার পেয়ে গেলেও ইতিহাস ও বিচারের কাঠগড়া থেকে তাদের রেহাই মিলবে না।

বিষয় : ভারত মসজিদ হিন্দুত্ববাদী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উত্তরপ্রদেশে প্রাচীন মসজিদ ভাঙা ঘিরে তোলপাড়, তোপের মুখে যোগী সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উপাসনালয়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি শাসিত যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এ ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব এই অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ঘটনার ফলে বিশ্ব দরবারে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি একে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উত্তরপ্রদেশে ‘সাংবিধানিক বিপর্যয়’ বা কনস্টিটিউশনাল ব্রেকডাউনের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে বহু বছরের পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদ রাতারাতি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের চরম সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরের ওই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে হঠাৎ ‘অবৈধ নির্মাণ’ আখ্যা দিয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙে ফেলে স্থানীয় প্রশাসন। মুসলিম সমাজ ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মসজিদ কমিটিকে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সরকারের এই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'যারা অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংস করে বা অন্য বিশ্বাসীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, তারা কখনো কোনো নীতি-নৈতিকতার অনুসারী হতে পারে না। ভারতের বৈচিত্র্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করাই বিজেপির মূল এজেন্ডা'।

অখিলেশ যাদব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং বিশ্বের কাছে ভারতের ভাবমূর্তি মলিন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা কয়েকজন আমলা ও উগ্রপন্থী চক্র এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। সরকার যদি প্রকৃত অপরাধীদের নাম প্রকাশে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেই কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করবেন বলে সাফ জানান।

তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অসাংবিধানিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং দেশের ঐক্য ও আখণ্ডতা রক্ষার্থে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠাবেন। চিঠিতে রাষ্ট্রপতির সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে মসজিদ ভাঙার ঘটনায় গঠিত মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

ইসলামি উম্মাহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ভারতে ক্রমাগতভাবে মুসলিমদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে নিশানা বানিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে ভোরের আলো ফোটার আগেই অতি গোপনে বুলডোজার চালিয়ে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার এ ঘটনা উত্তরপ্রদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি নিপীড়নের শামিল।

অখিলেশ যাদব শেষ বার্তা দিয়ে বলেন, আইন ও সংবিধান লঙ্ঘনকারী কোনো অপরাধী সাময়িকভাবে পার পেয়ে গেলেও ইতিহাস ও বিচারের কাঠগড়া থেকে তাদের রেহাই মিলবে না।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ