সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা—আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পাঠ চুকিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে স্বজনদের কাছে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এই ঘটনায় শুধু সিলেট নয়, পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের মারফত। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত রিযিক নিয়ে দেশে স্বজনদের সান্নিধ্যে ফেরার আকুল ইচ্ছা ছিল আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের। ফ্লাইট ধরার উদ্দেশ্যে তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়িটি মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুই কানাইঘাটবাসীসহ মোট চারজন বাংলাদেশি মর্মান্তিকভাবে মারা যান। বাকি দুইজনের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি; তাদের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মৃত্যুর খবর কানাইঘাটের গাছবাড়ী গ্রামে পৌঁছানোর পর এক বিষাদময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন, পরিবারগুলোর কান্না আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং এই ক্ষতিকে অপূরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখছেন। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তার অভাব ও প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর সপরিবারে প্রাণহানি ঘটে এবং জুলাইয়ে সৌদি আরবেই আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর করুণ মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা বিধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
মতামত