সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের বেসামরিক নাগরিক ও কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার এক বার্তায় তিনি এই হামলাকে 'কাপুরুষোচিত' আখ্যা দিয়ে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হন এবং বেশ কিছু জ্বালানি কেন্দ্রে সাময়িক আগুন ধরে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদি আরব রাজতন্ত্রের বেসামরিক ও শক্তি কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি, যাতে বহু নিরীহ মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের জঘন্য হামলা শুধু সাধারণ মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। পাকিস্তান এই সংকটময় মুহূর্তে দু'টি পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি আরবের ভাইবোনদের পাশে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শাহবাজ শরিফ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সৌদির আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও বাজারে প্রভাব
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরে এই হামলা চালানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। কিছু জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার কারণে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ চলাকালীন সাময়িক কার্যক্ষমতা বন্ধ রাখা হয়।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আরামকোর জাজান তেল স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। হামলা ও উত্তেজনার খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে—ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম ৯৩.৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুমকি দিয়েছেন, তারা দ্রুতই সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বড় ধরনের অভিযানের ঘোষণা দেবেন।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'
এটিই প্রথম নয়; গত ২৩ জুলাই সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপের অংশ হিসেবে হুথিরা দুইটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল। বাব আল-মানদে প্রণালী ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নিয়ে হুথিরা ক্রমাগত আন্তর্জাতিক নৌপথের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নতুন উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যখন পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক "মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি" স্বাক্ষরিত হয়েছে। ত্রিমুখী এই নিরাপত্তা কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো নতুন সামরিক জোট বা আক্রমণাত্মক ব্লক নয়, বরং শতাব্দী প্রাচীন ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ককে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। এই চুক্তির অন্যতম মূল শর্ত হলো—যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর আগ্রাসনকে বাকিদের ওপরও হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে।
মতামত