মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

প্রশাসনিক আটকাদেশে ছয় মাস কারাভোগের পর ড্যামন কারাগারে জন্ম নিল নতুন প্রাণ; মা ও নবজাতকের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রেপ্তার, ইসরাইলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের মা হলেন ফিলিস্তিনি নারী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রেপ্তার, ইসরাইলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের মা হলেন ফিলিস্তিনি নারী

ইসরায়েলের উত্তর অধিকৃত ফিলিস্তিনের ড্যামন কারাগারে চিকিৎসাহীনতা ও চরম অবহেলার মুখে এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল-তায়েহ এলাকার ৩৫ বছর বয়সী ডানা জুদেহ নামের ওই নারীকে ছয় মাস আগে বিনাবিচারে 'প্রশাসনিক আটকাদেশে' বন্দি করে ইসরায়েলি বাহিনী। সন্তানসম্ভবা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে চিকিৎসাহীনতা আর বন্দিদশার চরম নির্মমতার মধ্যে ইসরায়েলি কারাগারে জন্ম হয়েছে এক ফিলিস্তিনি নবজাতকের। সোমবার অধিকৃত উত্তর ফিলিস্তিনের ড্যামন কারাগারে ৩৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বন্দি ডানা জুদেহ এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গর্ভবতী অবস্থায় ডানা জুদেহকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ফিলিস্তিনিদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত বিতর্কিত ‘প্রশাসনিক আটকাদেশের’ অধীনে তাকে টানা ছয় মাস ড্যামন কারাগারে বন্দি রাখা হয়। গর্ভাবস্থার মতো সংবেদনশীল সময়েও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা মা ও নবজাতক উভয়ের জীবনকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডানা জুদেহের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেছে। জুদেহের প্রশাসনিক আটকাদেশের মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ প্রায়শই বিচার ছাড়াই এই ধরনের আটকাদেশের মেয়াদ বার বার বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে জুদেহ মুক্তি পাবেন নাকি পুনরায় বন্দিদশায় কাটাবেন, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েলের ড্যামন কারাগারে প্রায় ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি দিন কাটাচ্ছেন। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এই নারী বন্দিরা সেখানে নজিরবিহীন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বন্দিদের নিয়মিত খাবার না দেওয়া (অনাহার), চিকিৎসার চরম অবহেলা, দৈনন্দিন জীবনযাপনে কঠিন বিধিনিষেধ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা এবং একাকী কারাবাসের (আইসোলেশন) মতো শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে দখলদার বাহিনী।

ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দি বিষয়ক কমিশন (Palestinian Commission of Detainees and Ex-Detainees Affairs) ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি সকল ফিলিস্তিনি নারী—বিশেষ করে গর্ভবতী, অসুস্থ, নাবালিকা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী বন্দিদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশন অবিলম্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক গোষ্ঠীগুলোকে ড্যামন কারাগার পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৌলিক মানবিক অধিকার রক্ষা ও তাদের দ্রুত মুক্তির জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর জোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে।

বিষয় : ইসরাইলি ফিলিস্তিনি অন্তঃসত্ত্বা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রেপ্তার, ইসরাইলি কারাগারেই কন্যাসন্তানের মা হলেন ফিলিস্তিনি নারী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের উত্তর অধিকৃত ফিলিস্তিনের ড্যামন কারাগারে চিকিৎসাহীনতা ও চরম অবহেলার মুখে এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল-তায়েহ এলাকার ৩৫ বছর বয়সী ডানা জুদেহ নামের ওই নারীকে ছয় মাস আগে বিনাবিচারে 'প্রশাসনিক আটকাদেশে' বন্দি করে ইসরায়েলি বাহিনী। সন্তানসম্ভবা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে চিকিৎসাহীনতা আর বন্দিদশার চরম নির্মমতার মধ্যে ইসরায়েলি কারাগারে জন্ম হয়েছে এক ফিলিস্তিনি নবজাতকের। সোমবার অধিকৃত উত্তর ফিলিস্তিনের ড্যামন কারাগারে ৩৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বন্দি ডানা জুদেহ এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গর্ভবতী অবস্থায় ডানা জুদেহকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ফিলিস্তিনিদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত বিতর্কিত ‘প্রশাসনিক আটকাদেশের’ অধীনে তাকে টানা ছয় মাস ড্যামন কারাগারে বন্দি রাখা হয়। গর্ভাবস্থার মতো সংবেদনশীল সময়েও তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা মা ও নবজাতক উভয়ের জীবনকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডানা জুদেহের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেছে। জুদেহের প্রশাসনিক আটকাদেশের মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ প্রায়শই বিচার ছাড়াই এই ধরনের আটকাদেশের মেয়াদ বার বার বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে জুদেহ মুক্তি পাবেন নাকি পুনরায় বন্দিদশায় কাটাবেন, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েলের ড্যামন কারাগারে প্রায় ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি দিন কাটাচ্ছেন। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এই নারী বন্দিরা সেখানে নজিরবিহীন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বন্দিদের নিয়মিত খাবার না দেওয়া (অনাহার), চিকিৎসার চরম অবহেলা, দৈনন্দিন জীবনযাপনে কঠিন বিধিনিষেধ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা এবং একাকী কারাবাসের (আইসোলেশন) মতো শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে দখলদার বাহিনী।

ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দি বিষয়ক কমিশন (Palestinian Commission of Detainees and Ex-Detainees Affairs) ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি সকল ফিলিস্তিনি নারী—বিশেষ করে গর্ভবতী, অসুস্থ, নাবালিকা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী বন্দিদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশন অবিলম্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক গোষ্ঠীগুলোকে ড্যামন কারাগার পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৌলিক মানবিক অধিকার রক্ষা ও তাদের দ্রুত মুক্তির জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর জোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ