দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ তাদের দেশে ইসলাম গ্রহণের হিজরি ৯০০ বছর পূর্ণ করল। হিজরি ৫৪৮ সালের (১১৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) ২রা রবিউস সানি উত্তর আফ্রিকার খ্যাতনামা দায়ি ও আলেম আবু আল-বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারির দাওয়াতে তৎকালীন রাজা 'দোভমি' ইসলাম গ্রহণ করেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ হিসেবে প্রতিবছর দেশটিতে সাড়ম্বরে ‘মালদ্বীপের ইসলাম গ্রহণ দিবস’ উদযাপিত হয়। গতকাল রাষ্ট্রপতি ড. মোহামেদ মুইজ্জুর উপস্থিতিতে দেশটির নতুন শহর হুলহুমালিতে ‘সুলতান মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ গ্র্যান্ড মসজিদ ও ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
ভারত মহাসাগরের নয়নাভিরাম আর্চিপেলাগো দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) উদযাপিত হয়েছে ইসলাম আগমনের ৯০০ বছরপূর্তি। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মালদ্বীপের ইসলাম গ্রহণ দিবস’ (Maldive Conversion to Islam Day) নামে পরিচিত। ৯ শতক ধরে নিজেদের ধারক-বাহক ও ধর্মীয় পরিচয়ে একতাবদ্ধ থাকা মালদ্বীপের সাধারণ মানুষ ও সরকার অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা ও নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করেছে।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, খ্রিস্টীয় ১১৪৩ বা ১১৫৩ সালের দিকে (হিজরি ৫৪৮ সালের ২ রবিউস সানি) এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছিল মালদ্বীপে। উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা (মতান্তরে মরক্কো বা সোমালিয়া) বিখ্যাত দাঈ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শেখ আবু আল-বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারির অনুপম চরিত্র ও দাওয়াতে প্রভাবিত হয়ে তৎকালীন রাজপরিবারসহ পুরো দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বৌদ্ধধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে। সে সময় রাজা ‘দোভমি’ ইসলাম কবুল করে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সুলতান মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’। সেই থেকেই মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সামাজিক গতিপথ চিরতরে ইসলামের দিকে মোড় নেয়।
এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ উপলক্ষে মালদ্বীপের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ড. মোহামেদ শাহিম এক বার্তায় জানান, মালে সংলগ্ন আধুনিক শহর হুলহুমালিতে জাতীয় দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ‘সুলতান মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বৃহৎ মসজিদ ও ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম মুসলিম সুলতানের নামানুসারে এই নতুন গ্র্যান্ড মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী ড. শাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ আরও লিখেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজা, আলেম ও সাধারণ জনগণ এই দ্বীপে কোরআনি শিক্ষা ও দ্বীনি সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রাচীন প্রবাল পাথর (Coral Stone) দিয়ে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ‘মালদ্বীপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ স্থাপন—সবই সেই মহান ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই দিবসকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। মালদ্বীপ বর্তমানে ১০০% মুসলিম জনসংখ্যার একটি দেশ। তাদের শান্তপ্রিয় স্বভাব, মসজিদমুখী জীবনযাত্রা এবং মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ও আল-আজহারের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের ঐতিহ্য প্রশংসিত হয়েছে। প্রখ্যাত দাঈ আবু আল-বারাকাত আল-বারবারির সেই আত্মত্যাগ ও দাওয়াতি চেতনার কথা স্মরণ করে দেশটির সচেতন জনগণ ও ওলামায়ে কেরাম বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভাইদের প্রতি সুসংবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মতামত