পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে গুমের পর পিরোজপুরের পাথরঘাটার বলেশ্বর নদে মুখ ও চোখ বেঁধে গুলি এবং পেট কেটে সিমেন্টের বস্তাসহ ডুবিয়ে দেওয়ার নৃশংস খবর সামনে এসেছে। ২০১০ সালের মে মাসে র্যাব-৮ ও র্যাবের তৎকালীন ইন্টেলিজেন্স উইং প্রধান জিয়াউল আহসানের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী মেজর সাব্বির।
বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর সাবেক বিতর্কিত কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুম-খুনের মামলায় ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা মেজর সাব্বির তৎকালীন শাসন আমলের রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত র্যাবের নারকীয় নির্মমতার ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন।
মেজর সাব্বির আদালতে জানান, ২০১০ সালের মে মাসে র্যাবের তৎকালীন ইন্টেলিজেন্স উইং প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে র্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স টিম। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজন বন্দির মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদে একটি ফিিশিং ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের চোখ বেঁধে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গুলি করা হয়। মৃত্যুর পর লাশ যাতে ভেসে না ওঠে, সেজন্য তাদের পেট কেটে ও পায়ে বা গলায় সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদের গভীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এই একই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি আদালতকে জানিয়েছিলেন, কীভাবে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তুলে আনা গুমের শিকার ব্যক্তিদের লাইনে দাঁড় করিয়ে জিয়াউল আহসান নিজে বা তাঁর উপস্থিতিতে হত্যা করা হতো। তিনি জানান, লাশের পেট কেটে দেওয়ার কারণে নাড়িভুঁড়ি এবং মাথায় গুলি করার ফলে মস্তিষ্ক বেরিয়ে রক্তে ট্রলার ভেসে যেত। পরবর্তীতে চর দুয়ানীর বরফ মিলে ফিরে এসে সেই রক্তে ভেজা ট্রলার ধোয়া হতো। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এমন রোমহর্ষক ও নৃশংস নির্যাতন মানবাধিকার এবং মৌলিক আইনি অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়।
মতামত