ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার সৌপুরি গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিনের আলোয় নওশাদ আহমেদ নামে এক মুসলিম শিক্ষককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ভারতের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে দিন দিন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিজনোর জেলার সাম্প্রতিক ঘটনা তারই প্রমাণ দিল। বিজনোরের সৌপুরি গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকের ঠিক সামনেই বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হয়েছেন নওশাদ আহমেদ নামে এক মুসলিম শিক্ষক।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ক্লাস শেষে স্কুল থেকে বের হয়ে যখন তিনি নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত গৌরব রাঠি তার ওপর চড়াও হয়। গৌরব একটি দেশীয় পিস্তল থেকে নওশাদকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। দু'টি গুলি শিক্ষক নওশাদের বুকে সরাসরি বিদ্ধ হয় এবং আরেকটি গুলি পার্শ্ববর্তী স্কুলের দেয়ালে আঘাত করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঋষিকেশ এইমস (AIIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পর অভিযুক্ত গৌরব রাঠি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বলে জানা গেছে। পুলিশ তার কাছ থেকে দু'টি দেশীয় পিস্তল এবং ছয়টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত লেনদেন ও আর্থিক বিরোধসহ একাধিক কোণ থেকে তদন্তের কথা বলছে, তবে ঘটনাটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নজিমাবাদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা নিরপেক্ষ ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেকে লিখেছেন, উত্তরপ্রদেশে একের পর এক মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা হলেও বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়শই বৈষম্যের শিকার হতে হয়। শিক্ষক নওশাদ আহমেদের পরিবার যেন দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার পায়, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন মহল। বর্তমান চরমপন্থী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া পুলিশ এই তদন্ত সম্পন্ন করবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
মতামত