পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Makkah Joint Defence Agreement) সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যৌথ প্রতিরোধ (Collective Deterrence) গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে—এখানে কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বা আগ্রাসী উপাদান নেই।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
জেনারেল শরীফ জোর দিয়ে বলেন, “এই চুক্তিতে আগ্রাসন, আক্রমণ বা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং একটি পরিপূরক জোট। কারণ, এই তিন দেশের প্রত্যেকেরই অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোট ও রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাধীন ও চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই চুক্তি অন্য কোনো বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে না।”
চুক্তিভুক্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে পাকিস্তানের কৌশলগত ও সামরিক প্রতিক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইএসপিআর ডিজি অত্যন্ত কূটনৈতিকভাবে জানান, প্রতিরক্ষা চুক্তির অভ্যন্তরীণ সামরিক কৌশল বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আলোচনা করার বিষয় নয়। কোনো সংকট তৈরি হলে চুক্তিভুক্ত তিন দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যৌথভাবে আলোচনার মাধ্যমে সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করবে।
বেইজিংয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের ‘লোহা-কঠিন’ (iron-clad) বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, নতুন এই জোট কি চীন-পাকিস্তান সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে? জেনারেল শরীফ তা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক রাতারাতি তৈরি হয়নি; এটি ইতিহাসসিদ্ধ ও সুদৃঢ়। চীনসহ সমগ্র বিশ্ব জানে এই সম্পর্কের গভীরতা কতটা। আমরা কেবল সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি। চীন এবং বিশ্ববাসী ভালো করেই বোঝে যে এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো।”
পশ্চিমা গণমাধ্যমের একাংশে এই ত্রিপক্ষীয় সমঝাতাকে একটি এক্সক্লুসিভ ‘মুসলিম সামরিক ব্লক’ বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে আখ্যা দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তাও নাকচ করে দেন আইএসপিআর প্রধান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি কোনো কেবল মুসলিম দেশগুলোর ক্লাব নয়। এটি মূলত একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জোট। যেসব রাষ্ট্র অনাগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাহুত হস্তক্ষেপ না করা এবং যৌথ প্রতিরোধে বিশ্বাসী—তারা সকলেই এই জোটে অংশ নিতে পারে। এর পরিধি বৃদ্ধি করা হবে কি না, তা তিন দেশের নেতৃত্ব যথা সময়ে বিবেচনা করবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান একটি স্বাধীন ও বহু-পাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ বা হামলা চালিয়ে কোনো রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়—একমাত্র সংলাপই পথ দেখা হতে পারে। সংকট যেন কোনোভাবেই আঞ্চলিক সংঘাত ও আকাশ-স্থল-নৌযুদ্ধের মাধ্যমে ভয়াবহ রূপ না নেয়, সে লক্ষ্যেই পাকিস্তান নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মতামত