পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হারামাইন শরীফাইনের (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) সম্মানিত ইমাম ও খতিবগণ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি সন্ত্রাসী ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করার পর এই যৌথ প্রতিক্রিয়া আসে। মুসলিম বিশ্বের এই সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা স্পট জানিয়েছেন যে, কাবার পবিত্রতা ও নিরপরাধ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা চরম মহাপাপ এবং ইসলামের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর ক্রমাগত আগ্রাসনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণ আকাশে একটি বিস্ফোরকবাহী হুথি ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কা অভিমুখে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলার অপচেষ্টা।
এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদুল হারামের প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলাহ বলেন, 'আল্লাহর ঘর এবং মানবজাতির নিরাপত্তার স্থান মক্কা ও মদিনার মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব। পবিত্র স্থান ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালোনো একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটি আমাদের মূল 'রেড লাইন'। যারা কাবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায়, ইসলামের শিক্ষার সাথে তাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।' তিনি আরও যোগ করেন, সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং পবিত্র ভূমিকে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করার দুঃসাহস চরম বেপরোয়া আচরণের পরিচয় দেয়।
একই সুরে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শেখ আবদুল মুহসিন আল-কাসিম। তিনি বলেন, 'মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো কেবল কোনো একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয়, বরং এটি পুরো বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত। এই হামলা এক ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের প্রকাশ, যার লক্ষ্য নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরানোকে বৈধতা দেওয়া এবং সুন্নি বিশ্বের আত্মিক কেন্দ্রবিন্দুকে অস্থির করে তোলা।'
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের আঞ্চলিক যুদ্ধকে কাবার দরজার কাছে টেনে আনার এই অপচেষ্টা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। উগ্রপন্থী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মতামত