সোমবারে রাত আনুমানিক ৩:০০ টায় আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বরমাল জেলায় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান থেকে দুটি পৃথক স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একটি আবাসিক বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে এই হামলা চালানো হয়। এতে বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও কুনার ও পাকতিকা অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা আফগান সীমান্তে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও আফগান সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাতে পাকতিকা প্রদেশের বরমাল জেলার একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী হামলা চালায়। ঘটনার পর বরমালে বড় ধরনের আর্থিক ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই বিমান হামলার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বোমাহালা চালানো হয়েছে। কুনার প্রদেশের হামলায় এক নারীসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং দুই নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সরকার ও তাদের সামরিক মহল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতে বারবার এ ধরনের অপরাধমূলক সীমান্ত হামলায় লিপ্ত হচ্ছে। আফগান জনগণ ও সরকার সময়মতো এর উপযুক্ত ও যথাযথ জবাব দেবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এদিকে, 'আফগানিস্তান আকসারিয়াত পার্টি' এক বিবৃতিতে এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় তাদের শক্তি প্রদর্শন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করে যে, আফগানিস্তানের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সব পক্ষের দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে এই সীমান্ত সংঘাত সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই রক্তপাত ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অবসান ঘটানো প্রয়োজন।
মতামত