শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো সতর্ক করছে—ইরানে হামলা হলে তেলের বাজার, হরমুজ প্রণালি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়বে

ইরানে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে, তখন সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সেই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, রিয়াদ, মাস্কাট ও দোহা—এই তিন রাজধানী থেকেই ওয়াশিংটনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানে হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, ইরানে সামরিক অভিযান হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এমন পরিস্থিতি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রিয়াদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে জড়াবে না এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো ধরনের হামলার অনুমতিও দেবে না।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের আন্দোলনে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন।

হোয়াইট হাউস–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনো ইরান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি তাঁর নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে সম্ভাব্য সব বিকল্প মূল্যায়ন করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী অ্যাকাউন্ট ও তৎপরতায় সমর্থন জোরদার করা।

এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পটভূমিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তেহরানে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জনঅসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দায় সরকারের ওপরই বর্তায় এবং এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা বাইরের শক্তিকে দায়ী করা উচিত নয়।

তবে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা বাড়তে থাকায় ৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারিভাবে হতাহতদের কোনো তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (হেরানা) জানিয়েছে—এ পর্যন্ত অন্তত ২,৫৫০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া ১,১৩৪ জন আহত এবং ১৮,৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইরানে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে, তখন সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সেই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, রিয়াদ, মাস্কাট ও দোহা—এই তিন রাজধানী থেকেই ওয়াশিংটনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানে হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, ইরানে সামরিক অভিযান হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এমন পরিস্থিতি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রিয়াদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে জড়াবে না এবং তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো ধরনের হামলার অনুমতিও দেবে না।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের আন্দোলনে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন।

হোয়াইট হাউস–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনো ইরান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি তাঁর নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে সম্ভাব্য সব বিকল্প মূল্যায়ন করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী অ্যাকাউন্ট ও তৎপরতায় সমর্থন জোরদার করা।

এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পটভূমিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তেহরানে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জনঅসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দায় সরকারের ওপরই বর্তায় এবং এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা বাইরের শক্তিকে দায়ী করা উচিত নয়।

তবে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা বাড়তে থাকায় ৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারিভাবে হতাহতদের কোনো তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (হেরানা) জানিয়েছে—এ পর্যন্ত অন্তত ২,৫৫০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া ১,১৩৪ জন আহত এবং ১৮,৪৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত