শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

রাম মন্দির ইস্যুতে আবারও কট্টর অবস্থান, বিরোধী ও সংখ্যালঘু রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ

কিয়ামত কখনো আসবে না, বাবরি মসজিদও আর পুনর্নির্মিত হবে না: যোগী আদিত্যনাথ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিয়ামত কখনো আসবে না, বাবরি মসজিদও আর পুনর্নির্মিত হবে না: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ফের কঠোর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিয়ামত’ কখনো আসবে না এবং বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের স্বপ্নও কখনো পূরণ হবে না। তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিয়েছে।

অযোধ্যার নিকটবর্তী উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দৃঢ় ভাষায় বলেন, ‘কিয়ামত কখনো আসবে না, আর বাবরি মসজিদও কখনো পুনর্নির্মিত হবে না।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা এমন স্বপ্ন দেখছে বা অপেক্ষা করছে, তারা শুধু সময় নষ্ট করছে।

ডুলহাদেপুর কুটি এলাকার রাম জানকি মন্দিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত মহন্ত বাবা হরিশঙ্কর দাস মহারাজের স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত বিপুল জনতার সামনে তিনি পুরোনো স্লোগান স্মরণ করিয়ে দেন— “রাম লাল্লা, হাম আয়েঙ্গে, মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে।” এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “পাঁচশো বছর পর কি রাম মন্দির নির্মিত হয়নি? এ নিয়ে কি কোনো সন্দেহ আছে?” তার এই প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত জনতা একযোগে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেয়।

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, যারা বাবরি কাঠামো পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে কিংবা কিয়ামতের অপেক্ষায় আছে, তারা শেষ পর্যন্ত ‘পচে যাবে’, কারণ সে দিন কোনো দিন আসবে না। তিনি বলেন, ভারতের আইন ও বাস্তবতার বাইরে দাঁড়িয়ে কেউ ইতিহাস বদলাতে পারবে না।

এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহ আগে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবির ঘোষণা দেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ১১ ফেব্রুয়ারি ‘বাবরি ২.০’ নামে একটি প্রতীকী স্থাপনা নির্মাণ শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয়।

মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। ওই রায়ে বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং বিকল্প হিসেবে পাঁচ একর জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। যোগী প্রশ্ন তোলেন, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এত সরকার ক্ষমতায় এলেও কেন কেউ রামচন্দ্রের জন্মস্থানে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি, যদিও তার আগে বহু রাজা ও শাসক দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করেছেন।

বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘রামদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, এই দলগুলো সুবিধাবাদী, সংকটের সময়েই শুধু রামের নাম স্মরণ করে। তিনি বলেন, “রামদ্রোহীদের জন্য কোথাও কোনো জায়গা নেই।” যারা রামভক্তদের পথে বাধা দিয়েছে বা এখনও পুরোনো কাঠামোর স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই বিভ্রম ত্যাগ করে ভারতের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় তাদের ‘ধ্বংস’ অনিবার্য বলে হুঁশিয়ারি দেন।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে যোগী আদিত্যনাথ ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর দর্শন বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি সনাতন ধর্ম, ভারতের উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’ ধারণার বিরুদ্ধে যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, সমাজে তিন ধরনের ক্ষতিকর মানসিকতা সক্রিয়— ষড়যন্ত্রকারীরা, তাদের অনুসারীরা এবং যারা নিজেদের স্বার্থে দেশ ও আদর্শ বিক্রি করে দেয়।

বিষয় : ভারত বাবরি মসজিদ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


কিয়ামত কখনো আসবে না, বাবরি মসজিদও আর পুনর্নির্মিত হবে না: যোগী আদিত্যনাথ

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ফের কঠোর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিয়ামত’ কখনো আসবে না এবং বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের স্বপ্নও কখনো পূরণ হবে না। তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিয়েছে।

অযোধ্যার নিকটবর্তী উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দৃঢ় ভাষায় বলেন, ‘কিয়ামত কখনো আসবে না, আর বাবরি মসজিদও কখনো পুনর্নির্মিত হবে না।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা এমন স্বপ্ন দেখছে বা অপেক্ষা করছে, তারা শুধু সময় নষ্ট করছে।

ডুলহাদেপুর কুটি এলাকার রাম জানকি মন্দিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত মহন্ত বাবা হরিশঙ্কর দাস মহারাজের স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত বিপুল জনতার সামনে তিনি পুরোনো স্লোগান স্মরণ করিয়ে দেন— “রাম লাল্লা, হাম আয়েঙ্গে, মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে।” এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “পাঁচশো বছর পর কি রাম মন্দির নির্মিত হয়নি? এ নিয়ে কি কোনো সন্দেহ আছে?” তার এই প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত জনতা একযোগে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেয়।

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, যারা বাবরি কাঠামো পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে কিংবা কিয়ামতের অপেক্ষায় আছে, তারা শেষ পর্যন্ত ‘পচে যাবে’, কারণ সে দিন কোনো দিন আসবে না। তিনি বলেন, ভারতের আইন ও বাস্তবতার বাইরে দাঁড়িয়ে কেউ ইতিহাস বদলাতে পারবে না।

এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহ আগে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবির ঘোষণা দেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ১১ ফেব্রুয়ারি ‘বাবরি ২.০’ নামে একটি প্রতীকী স্থাপনা নির্মাণ শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয়।

মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। ওই রায়ে বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং বিকল্প হিসেবে পাঁচ একর জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। যোগী প্রশ্ন তোলেন, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এত সরকার ক্ষমতায় এলেও কেন কেউ রামচন্দ্রের জন্মস্থানে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি, যদিও তার আগে বহু রাজা ও শাসক দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করেছেন।

বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘রামদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, এই দলগুলো সুবিধাবাদী, সংকটের সময়েই শুধু রামের নাম স্মরণ করে। তিনি বলেন, “রামদ্রোহীদের জন্য কোথাও কোনো জায়গা নেই।” যারা রামভক্তদের পথে বাধা দিয়েছে বা এখনও পুরোনো কাঠামোর স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই বিভ্রম ত্যাগ করে ভারতের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় তাদের ‘ধ্বংস’ অনিবার্য বলে হুঁশিয়ারি দেন।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে যোগী আদিত্যনাথ ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর দর্শন বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি সনাতন ধর্ম, ভারতের উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’ ধারণার বিরুদ্ধে যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, সমাজে তিন ধরনের ক্ষতিকর মানসিকতা সক্রিয়— ষড়যন্ত্রকারীরা, তাদের অনুসারীরা এবং যারা নিজেদের স্বার্থে দেশ ও আদর্শ বিক্রি করে দেয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত