শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

তুরস্কের এরজিনজানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীদের জন্য পবিত্র কুরআন শিক্ষার স্বপ্ন বুনছেন এই অদম্য সাহসী নারী

অন্ধকার জয় করে আলোর পথে: ব্রেইল পদ্ধতিতে হাফেজ হয়ে এখন শিক্ষকতা করছেন কাদের মজিদ



অন্ধকার জয় করে আলোর পথে: ব্রেইল পদ্ধতিতে হাফেজ হয়ে এখন শিক্ষকতা করছেন কাদের মজিদ

দৃষ্টিহীনতা যে কোনো বাধা নয়, বরং প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে এটি একটি তুচ্ছ প্রতিবন্ধকতা—তা প্রমাণ করেছেন তুরস্কের ৩০ বছর বয়সী নারী কাদের মজিদ। জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ১০ বছর আগে তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে ‘হাফেজ’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কেবল নিজের শিক্ষা নিয়েই ক্ষান্ত নন, বরং তার মতো আরও অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

তুরস্কের এরজিনজান শহরের বাসিন্দা কাদের মজিদ। শৈশব থেকেই তার হৃদয়ে ছিল ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রবল অনুরাগ। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তিনি তুরস্কের বিভিন্ন শহর যেমন এরজুরুম, এরজিনজান এবং ইস্তাম্বুল থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ শেষে ২০১৬ সালে ব্রেইল পদ্ধতিতে (স্পর্শের মাধ্যমে পড়ার কৌশল) হাফেজ সম্পন্ন করেন।

কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি তুরস্কের প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় (EKPSS) উত্তীর্ণ হন। গত দুই বছর ধরে তিনি এরজিনজানের ‘আহমেত হামজা ও মুনিরা হানিম কন্যা কুরআন কোর্স’-এ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন মেয়েদের কুরআন এবং হিফজ শিক্ষা দিচ্ছেন। তবে কাদের মজিদের মূল স্বপ্ন এখন তার নিজের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে। তিনি চান এরজিনজানে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে ব্রেইল পদ্ধতিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা কুরআন শিখবে এবং চাইলে হাফেজও হতে পারবে।

নিজের এই অদম্য যাত্রায় কাদের মজিদ তার পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এরজিনজানের গভর্নর হামজা আয়দোগদু তাকে ব্রেইল লিপির একটি কুরআন শরীফ উপহার দিলে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সকল অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের ঘরে বসিয়ে রাখবেন না, তাদের সামাজিক জীবনে সম্পৃক্ত করুন।"

কাদেরের পিতা আরিফ মজিদ গর্বিত কণ্ঠে বলেন, "আমরা যারা চোখে দেখি, তারাই আসলে প্রকৃত অন্ধ; কারণ আমরা কুরআন মুখস্থ করতে পারিনি। কিন্তু আমার মেয়ে চোখের আলো না থাকলেও আঙ্গুলের স্পর্শে আল্লাহর কালাম হৃদয়ে ধারণ করেছে। সে এখন স্বাভাবিক দৃষ্টির মানুষদের শিক্ষা দিচ্ছে, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।"

বিষয় : তুরস্ক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


অন্ধকার জয় করে আলোর পথে: ব্রেইল পদ্ধতিতে হাফেজ হয়ে এখন শিক্ষকতা করছেন কাদের মজিদ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দৃষ্টিহীনতা যে কোনো বাধা নয়, বরং প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে এটি একটি তুচ্ছ প্রতিবন্ধকতা—তা প্রমাণ করেছেন তুরস্কের ৩০ বছর বয়সী নারী কাদের মজিদ। জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ১০ বছর আগে তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে ‘হাফেজ’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কেবল নিজের শিক্ষা নিয়েই ক্ষান্ত নন, বরং তার মতো আরও অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবন কুরআনের আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

তুরস্কের এরজিনজান শহরের বাসিন্দা কাদের মজিদ। শৈশব থেকেই তার হৃদয়ে ছিল ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি প্রবল অনুরাগ। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তিনি তুরস্কের বিভিন্ন শহর যেমন এরজুরুম, এরজিনজান এবং ইস্তাম্বুল থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ শেষে ২০১৬ সালে ব্রেইল পদ্ধতিতে (স্পর্শের মাধ্যমে পড়ার কৌশল) হাফেজ সম্পন্ন করেন।

কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি তুরস্কের প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় (EKPSS) উত্তীর্ণ হন। গত দুই বছর ধরে তিনি এরজিনজানের ‘আহমেত হামজা ও মুনিরা হানিম কন্যা কুরআন কোর্স’-এ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন মেয়েদের কুরআন এবং হিফজ শিক্ষা দিচ্ছেন। তবে কাদের মজিদের মূল স্বপ্ন এখন তার নিজের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে। তিনি চান এরজিনজানে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে ব্রেইল পদ্ধতিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা কুরআন শিখবে এবং চাইলে হাফেজও হতে পারবে।

নিজের এই অদম্য যাত্রায় কাদের মজিদ তার পরিবার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এরজিনজানের গভর্নর হামজা আয়দোগদু তাকে ব্রেইল লিপির একটি কুরআন শরীফ উপহার দিলে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সকল অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের ঘরে বসিয়ে রাখবেন না, তাদের সামাজিক জীবনে সম্পৃক্ত করুন।"

কাদেরের পিতা আরিফ মজিদ গর্বিত কণ্ঠে বলেন, "আমরা যারা চোখে দেখি, তারাই আসলে প্রকৃত অন্ধ; কারণ আমরা কুরআন মুখস্থ করতে পারিনি। কিন্তু আমার মেয়ে চোখের আলো না থাকলেও আঙ্গুলের স্পর্শে আল্লাহর কালাম হৃদয়ে ধারণ করেছে। সে এখন স্বাভাবিক দৃষ্টির মানুষদের শিক্ষা দিচ্ছে, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত