শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

২ বছরে ৩৮ হাজারেরও বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত; ইজরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করায় উত্তাল সামাজিক মাধ্যম

গাজায় প্রতি ৩০ মিনিটে ঝরছে একজন নারীর প্রাণ: জাতিসংঘ ও বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ



গাজায় প্রতি ৩০ মিনিটে ঝরছে একজন নারীর প্রাণ: জাতিসংঘ ও বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দীর্ঘ লড়াইয়ের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন ওমেন’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গাজায় অন্তত ৩৮ হাজার নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতি ৩০ মিনিটে একজন নারীর মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহতের এই পরিসংখ্যান বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের যে ক্ষত তা আজ গভীরতর হচ্ছে। ‘গাজায় নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ হাজার নারী এবং ১৬ হাজার কন্যাশিশু রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১১ হাজার নারী ও শিশু এমনভাবে আহত হয়েছেন যে তারা আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হয়ে থাকবেন। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং অনেক দেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার কর্মী ও নেটিজেনদের প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো—প্রতিবেদনে নিহতের ভয়াবহ সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও সরাসরি ‘ইজরায়েল’-কে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করতে জাতিসংঘের সংস্থাটি কিছুটা রাখঢাক করেছে। যদিও প্রতিবেদনের অভ্যন্তরীণ অংশে বাড়িঘর ও স্কুল ধ্বংসের প্রসঙ্গে ইজরায়েলের নাম এসেছে, তবে শিরোনামে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে লেখক আসীল রাদ ও সমাজকর্মী ক্রিস্টিয়ানা ব্রুনো প্রশ্ন তুলেছেন, "প্রতিদিন এই ৪৭ জন নারী ও শিশুকে কারা হত্যা করল? খুনি কি অদৃশ্য?"

আঞ্চলিক পরিচালক মোয়েজ দ্রাইদ জানান, এই যুদ্ধ কেবল প্রাণই কেড়ে নেয়নি, গাজার পারিবারিক কাঠামো বদলে দিয়েছে। হাজার হাজার পরিবারে এখন নারীরাই একমাত্র উপার্জনকারী, যারা চরম অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাসিম নাঈম এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত সামাজিক প্রকৌশল’ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট শহীদের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও এখনো অনেক এলাকায় পরোক্ষ সংঘর্ষ ও অনাহারে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক সিলভিনা স্টেরিন পেন্সিল এই পরিস্থিতিকে ‘আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিষয় : গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


গাজায় প্রতি ৩০ মিনিটে ঝরছে একজন নারীর প্রাণ: জাতিসংঘ ও বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দীর্ঘ লড়াইয়ের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন ওমেন’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গাজায় অন্তত ৩৮ হাজার নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতি ৩০ মিনিটে একজন নারীর মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহতের এই পরিসংখ্যান বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের যে ক্ষত তা আজ গভীরতর হচ্ছে। ‘গাজায় নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ হাজার নারী এবং ১৬ হাজার কন্যাশিশু রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১১ হাজার নারী ও শিশু এমনভাবে আহত হয়েছেন যে তারা আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হয়ে থাকবেন। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং অনেক দেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার কর্মী ও নেটিজেনদের প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো—প্রতিবেদনে নিহতের ভয়াবহ সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও সরাসরি ‘ইজরায়েল’-কে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করতে জাতিসংঘের সংস্থাটি কিছুটা রাখঢাক করেছে। যদিও প্রতিবেদনের অভ্যন্তরীণ অংশে বাড়িঘর ও স্কুল ধ্বংসের প্রসঙ্গে ইজরায়েলের নাম এসেছে, তবে শিরোনামে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে লেখক আসীল রাদ ও সমাজকর্মী ক্রিস্টিয়ানা ব্রুনো প্রশ্ন তুলেছেন, "প্রতিদিন এই ৪৭ জন নারী ও শিশুকে কারা হত্যা করল? খুনি কি অদৃশ্য?"

আঞ্চলিক পরিচালক মোয়েজ দ্রাইদ জানান, এই যুদ্ধ কেবল প্রাণই কেড়ে নেয়নি, গাজার পারিবারিক কাঠামো বদলে দিয়েছে। হাজার হাজার পরিবারে এখন নারীরাই একমাত্র উপার্জনকারী, যারা চরম অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাসিম নাঈম এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত সামাজিক প্রকৌশল’ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট শহীদের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও এখনো অনেক এলাকায় পরোক্ষ সংঘর্ষ ও অনাহারে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক সিলভিনা স্টেরিন পেন্সিল এই পরিস্থিতিকে ‘আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত