যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ফলে অঞ্চলটিতে আটার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পরিবারের জন্য ন্যূনতম রুটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ‘ক্ষুধা এখন যুদ্ধের বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে প্রতিদিন ৪৫০ টন আটার প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২০০ টন। এই বিশাল ঘাটতির কারণে রুটি উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল সীমান্ত পারাপারে কড়াকড়ি আরোপ করায় এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেকারিগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’ (WCK) তাদের দৈনিক ২০-৩০ টন আটার সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) তাদের দৈনিক সরবরাহ ৩০০ টন থেকে কমিয়ে ২০০ টনে নামিয়ে এনেছে। ফলে বাজারে ২৫ কেজির আটার বস্তার দাম ৩০-৫০ শেকল থেকে বেড়ে ৭৫ শেকলে দাঁড়িয়েছে (১ ডলার = ২.৯ শেকল)।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ‘ওচা’ (OCHA) গাজার জীবনযাত্রাকে ‘শোচনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডব্লিউএফপির তথ্যমতে, গাজার ১৬ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার মধ্যে ১ লাখ শিশু এবং ৩৭ হাজার গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী রয়েছেন।
গাজার জনবহুল এলাকাগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০টি বেকারি সচল রয়েছে, যারা দৈনিক ১ লাখ ৩৩ হাজার প্যাকেট রুটি উৎপাদন করছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা ইব্রাহিম কান্দিল বলেন, "আমি প্রতিদিন সকালে ৯ সদস্যের পরিবারের জন্য মাত্র এক প্যাকেট রুটির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। যুদ্ধের গোলার চেয়ে পেটের ক্ষুধা আমাদের বেশি মারছে।"
২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ পাঠানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল তা মানছে না বলে অভিযোগ করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাজায় অবশিষ্ট খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার এবং বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ফলে অঞ্চলটিতে আটার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পরিবারের জন্য ন্যূনতম রুটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ‘ক্ষুধা এখন যুদ্ধের বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে প্রতিদিন ৪৫০ টন আটার প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২০০ টন। এই বিশাল ঘাটতির কারণে রুটি উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল সীমান্ত পারাপারে কড়াকড়ি আরোপ করায় এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেকারিগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’ (WCK) তাদের দৈনিক ২০-৩০ টন আটার সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) তাদের দৈনিক সরবরাহ ৩০০ টন থেকে কমিয়ে ২০০ টনে নামিয়ে এনেছে। ফলে বাজারে ২৫ কেজির আটার বস্তার দাম ৩০-৫০ শেকল থেকে বেড়ে ৭৫ শেকলে দাঁড়িয়েছে (১ ডলার = ২.৯ শেকল)।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ‘ওচা’ (OCHA) গাজার জীবনযাত্রাকে ‘শোচনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডব্লিউএফপির তথ্যমতে, গাজার ১৬ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার মধ্যে ১ লাখ শিশু এবং ৩৭ হাজার গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী রয়েছেন।
গাজার জনবহুল এলাকাগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০টি বেকারি সচল রয়েছে, যারা দৈনিক ১ লাখ ৩৩ হাজার প্যাকেট রুটি উৎপাদন করছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা ইব্রাহিম কান্দিল বলেন, "আমি প্রতিদিন সকালে ৯ সদস্যের পরিবারের জন্য মাত্র এক প্যাকেট রুটির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। যুদ্ধের গোলার চেয়ে পেটের ক্ষুধা আমাদের বেশি মারছে।"
২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ পাঠানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল তা মানছে না বলে অভিযোগ করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাজায় অবশিষ্ট খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার এবং বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন