সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে নবনির্মিত 'আল-ফেয়হা' বাস্কেটবল হলের জমকালো উদ্বোধন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশিত কিছু নাচ ও গান স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বয়ং সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন।
দীর্ঘ সংস্কার ও আধুনিকায়নের পর আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন 'আল-ফেয়হা' স্পোর্টস হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় গত সোমবার। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তবে উদ্বোধনী আয়োজনে এমন কিছু সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী করা হয়, যা সিরীয় নাগরিকদের একাংশ, বিশেষ করে ধর্মীয় মহলের কাছে ‘সংস্কৃতি বহির্ভূত’ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
শুক্রবার ভোররাতে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই বিতর্কের বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) সফরের ব্যস্ততার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সূচি আগে থেকে দেখার সুযোগ পাননি। খেলা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে তিনি সেখানে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানের পরিবেশনা দেখে প্রেসিডেন্ট নিজেও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "এই ধরনের জাতীয় উৎসবে পরিবেশনা হওয়া উচিত অর্থবহ এবং যা আমাদের অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।" সমালোচনাকে সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "জনগণের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখার পর আমি নিজেই মাঠে নেমে সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কিছুটা উপশম হয়। ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে যেন সিরীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা হয়, সে বিষয়ে আমি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট আল-শারা মাঠে নেমে বাস্কেটবল হাতে কয়েকটি শট নেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিশ্লেষকদের মতে, আল-ফেয়হা হলের উদ্বোধন সিরিয়ার ক্রীড়া অবকাঠামোর পুনর্জাগরণের প্রতীক। দেশটির নতুন প্রশাসন খেলাধুলাকে 'সফট পাওয়ার' এবং স্থিতিশীলতার আয়না হিসেবে দেখলেও, জনগণের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতি রক্ষায় তারা যে আপসহীন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
বিষয় : সিরিয়া

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে নবনির্মিত 'আল-ফেয়হা' বাস্কেটবল হলের জমকালো উদ্বোধন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশিত কিছু নাচ ও গান স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বয়ং সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন।
দীর্ঘ সংস্কার ও আধুনিকায়নের পর আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন 'আল-ফেয়হা' স্পোর্টস হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় গত সোমবার। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তবে উদ্বোধনী আয়োজনে এমন কিছু সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী করা হয়, যা সিরীয় নাগরিকদের একাংশ, বিশেষ করে ধর্মীয় মহলের কাছে ‘সংস্কৃতি বহির্ভূত’ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
শুক্রবার ভোররাতে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই বিতর্কের বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) সফরের ব্যস্ততার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সূচি আগে থেকে দেখার সুযোগ পাননি। খেলা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে তিনি সেখানে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানের পরিবেশনা দেখে প্রেসিডেন্ট নিজেও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "এই ধরনের জাতীয় উৎসবে পরিবেশনা হওয়া উচিত অর্থবহ এবং যা আমাদের অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।" সমালোচনাকে সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "জনগণের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখার পর আমি নিজেই মাঠে নেমে সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কিছুটা উপশম হয়। ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে যেন সিরীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা হয়, সে বিষয়ে আমি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট আল-শারা মাঠে নেমে বাস্কেটবল হাতে কয়েকটি শট নেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিশ্লেষকদের মতে, আল-ফেয়হা হলের উদ্বোধন সিরিয়ার ক্রীড়া অবকাঠামোর পুনর্জাগরণের প্রতীক। দেশটির নতুন প্রশাসন খেলাধুলাকে 'সফট পাওয়ার' এবং স্থিতিশীলতার আয়না হিসেবে দেখলেও, জনগণের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতি রক্ষায় তারা যে আপসহীন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

আপনার মতামত লিখুন