হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রোববার সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া বাবুনগর মাদরাসায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে চলমান নানা টানাপোড়েন ও গুঞ্জনের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করছে।
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে আজ সকালে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে মিলিত হন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হক। এই সাক্ষাৎকারের মূল আকর্ষণ ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ হস্তান্তর। মাওলানা মামুনুল হক শাপলা স্মৃতি সংসদ কর্তৃক প্রণীত ‘শহীদনামা’ নামক গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজত আমিরের হাতে তুলে দেন।
গ্রন্থ হস্তান্তরের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শাপলা চত্বরের ঘটনার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সঠিক ইতিহাস নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই সত্য ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই বিষয়ে শাপলা স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘শহীদনামা’ কেবল একটি সাধারণ বই বা প্রকাশনা নয়। এটি মূলত শাপলা চত্বরের আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক ও জীবন্ত দলিল। তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকাশনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই সাক্ষাৎটি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত অর্থবহ। গত বেশ কিছু দিন ধরে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে এক ধরনের তীব্র টানাপোড়েন ও অস্থিরতা চলছিল। দেশের বিভিন্ন মহলে এবং গণমাধ্যমে এমন দাবি করা হচ্ছিল যে, মাওলানা মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে শরিক হওয়ায় আমিরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো পক্ষ থেকে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, মাওলানা মামুনুল হককে হেফাজতে ইসলাম থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হতে পারে।
আজকের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগঠনটির ভেতরের সমস্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বহিষ্কারের গুঞ্জন পুরোপুরি কর্পূরের মতো উড়ে গেল। বৈঠকে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকসহ দল ও সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষসারির নেতৃবৃন্দ।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রোববার সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া বাবুনগর মাদরাসায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে চলমান নানা টানাপোড়েন ও গুঞ্জনের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করছে।
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে আজ সকালে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে মিলিত হন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হক। এই সাক্ষাৎকারের মূল আকর্ষণ ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ হস্তান্তর। মাওলানা মামুনুল হক শাপলা স্মৃতি সংসদ কর্তৃক প্রণীত ‘শহীদনামা’ নামক গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজত আমিরের হাতে তুলে দেন।
গ্রন্থ হস্তান্তরের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শাপলা চত্বরের ঘটনার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সঠিক ইতিহাস নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই সত্য ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই বিষয়ে শাপলা স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘শহীদনামা’ কেবল একটি সাধারণ বই বা প্রকাশনা নয়। এটি মূলত শাপলা চত্বরের আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক ও জীবন্ত দলিল। তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকাশনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই সাক্ষাৎটি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত অর্থবহ। গত বেশ কিছু দিন ধরে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে এক ধরনের তীব্র টানাপোড়েন ও অস্থিরতা চলছিল। দেশের বিভিন্ন মহলে এবং গণমাধ্যমে এমন দাবি করা হচ্ছিল যে, মাওলানা মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে শরিক হওয়ায় আমিরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো পক্ষ থেকে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, মাওলানা মামুনুল হককে হেফাজতে ইসলাম থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হতে পারে।
আজকের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগঠনটির ভেতরের সমস্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বহিষ্কারের গুঞ্জন পুরোপুরি কর্পূরের মতো উড়ে গেল। বৈঠকে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকসহ দল ও সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষসারির নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন