বুধবার, ২০ মে ২০২৬
বুধবার, ২০ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

মসজিদের দেওয়ালে ও গেটে প্রতীক আঁকায় মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গের মসজিদে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ও গেরুয়া পদ্মফুল অঙ্কন: এলাকায় উত্তেজনা



পশ্চিমবঙ্গের মসজিদে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ও গেরুয়া পদ্মফুল অঙ্কন: এলাকায় উত্তেজনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের একটি মসজিদের দেওয়ালে ও গেটে গেরুয়া রঙে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান এবং বিজেপির দলীয় প্রতীক পদ্ম ফুল এঁকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মে ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক আঘাত তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের ধুলাশিমলা গ্রামের মধ্যপাড়া মসজিদে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ১৭ মে, রবিবার সকালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যখন ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসেন, তখন তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও দেওয়ালে গেরুয়া রঙের এই গ্রাফিতি বা দেওয়াল লিখন দেখতে পান। পবিত্র উপাসনালয়ের দেওয়ালে এমন উসকানিমূলক স্লোগান ও রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রতীক দেখে মুসল্লিদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পরই একজন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা এর একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে স্থানীয়দের স্পষ্ট ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ পেতে দেখা যায়। ভিডিওটি ধারণকারী ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুসলিমদের ওপর কেন ক্রমাগত হামলা বাড়ছে, এটি তারই প্রমাণ। এখন আমাদের মসজিদগুলোকেও এভাবে নিশানা করা হচ্ছে।” এই ঘটনার পর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও স্থানীয়দের সতর্কতায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

মসজিদ প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও অবমাননাকর এই কাজের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে উলুবেড়িয়ার মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) যাদব শুভম পান্ডুরং জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক ধারণায় মনে হচ্ছে ঘটনাটি আগের রাতে ঘটেছে। আমরা সন্দেহ করছি কিছু মদ্যপ ও দুষ্কৃতকারী এই ঘটনার পেছনে জড়িত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে। তবে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ বসে নেই। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

বিষয় : ভারত পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গের মসজিদে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ও গেরুয়া পদ্মফুল অঙ্কন: এলাকায় উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের একটি মসজিদের দেওয়ালে ও গেটে গেরুয়া রঙে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান এবং বিজেপির দলীয় প্রতীক পদ্ম ফুল এঁকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মে ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক আঘাত তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের ধুলাশিমলা গ্রামের মধ্যপাড়া মসজিদে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ১৭ মে, রবিবার সকালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যখন ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসেন, তখন তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও দেওয়ালে গেরুয়া রঙের এই গ্রাফিতি বা দেওয়াল লিখন দেখতে পান। পবিত্র উপাসনালয়ের দেওয়ালে এমন উসকানিমূলক স্লোগান ও রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রতীক দেখে মুসল্লিদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পরই একজন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা এর একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে স্থানীয়দের স্পষ্ট ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ পেতে দেখা যায়। ভিডিওটি ধারণকারী ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুসলিমদের ওপর কেন ক্রমাগত হামলা বাড়ছে, এটি তারই প্রমাণ। এখন আমাদের মসজিদগুলোকেও এভাবে নিশানা করা হচ্ছে।” এই ঘটনার পর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও স্থানীয়দের সতর্কতায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

মসজিদ প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও অবমাননাকর এই কাজের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে উলুবেড়িয়ার মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) যাদব শুভম পান্ডুরং জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক ধারণায় মনে হচ্ছে ঘটনাটি আগের রাতে ঘটেছে। আমরা সন্দেহ করছি কিছু মদ্যপ ও দুষ্কৃতকারী এই ঘটনার পেছনে জড়িত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে। তবে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ বসে নেই। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ