সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

৯৯৯-এ কলে রক্ষা পেল মাসুদা বেগমের পরিবার; গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, নেপথ্যে মিলন-শ্যামল বাহিনী

রূপগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ীতে সশস্ত্র তাণ্ডব ও লুটপাট, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’ নাটকের অভিযোগ!



রূপগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ীতে সশস্ত্র তাণ্ডব ও লুটপাট, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’ নাটকের অভিযোগ!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামে এক প্রবাসীর বৈধ সম্পত্তি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র। গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে মিলন ভূঁইয়া ও শ্যামল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রবাসী মোসাঃ মাসুদা বেগমের চারতলা ফাউন্ডেশনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে পরিবারটি রক্ষা পেলেও, পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি করতে উল্টো ‘অপহরণের’ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা দায়ের করেছে সন্ত্রাসীরা।

আইন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে রূপগঞ্জে এক নিরীহ ও প্রবাসী পরিবারের বৈধ জমিতে নির্মিত বাড়ি দখল, সশস্ত্র হামলা, বাড়ি পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে হয়রানির তীব্র অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী মিলন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ২০ জুন ২০২৬ তারিখে রূপসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোসাঃ মাসুদা বেগম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনের একাংশকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার চিত্র তুলে ধরেন।

বৈধ সম্পত্তি ও বিরোধের সূত্রপাত

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদা বেগম জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তিনি সম্পূর্ণ বৈধভাবে এবং সাফ কবলা দলিল মূলে (দলিল নং- ১৪৬২৭) মৃত আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মিলন ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর যথানিয়মে নামজারি খারিজ (মিউটেশন) ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও ড্রয়িং সাবমিট করে ৪ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি পরিবারসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

তবে সম্পত্তিটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি মিলন ভূঁইয়ার স্ত্রী শাকিলা কামাল (সেতু) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, মাসুদা বেগমের পরিবার নাকি ‘এসিপি দলের রাজনৈতিক শক্তি’ ব্যবহার করে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। মাসুদা বেগম জানান, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং বৈধ জমি পুনরায় জবরদখল করতে তারা এই রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করছে।

সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও গ্যাস সিলিন্ডার আতঙ্ক

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ০৬ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫:৩০ ঘটিকায় মিলন ভূঁইয়ার নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী দল মাসুদা বেগমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা পরিবারটি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আশপাশের মানুষ ভুক্তভোগীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে চাইলে মিলন ভূঁইয়া তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

একই সময়ে কুখ্যাত শ্যামল ভূঁইয়াসহ ১৪-১৫ জন সন্ত্রাসী বাড়ির পেছনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। শ্যামল ভূঁইয়া পিস্তল ঠেকিয়ে মাসুদা বেগমের স্বামী মীর মোশারফ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর শাকিলা কামাল (সেতু), লাকী আক্তার এবং শাহীন ঘরে ঢুকে মাসুদা বেগমকে এলোপাতাড়ি লাথি ও ঘুষি মেরে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখে। পরবর্তীতে রামদা ও লোহার রডসহ বাকি সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও লুটপাট চালায়।

৯৯৯-এ রক্ষা ও আলামত উদ্ধার

এই চরম বিপদের মুহূর্তে মাসুদা বেগমের মেয়ে রুম্পা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলেন। ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রূপগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনতে পেয়ে সন্ত্রাসীরা তড়িঘড়ি করে পেছনের দরজা দিয়ে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদা বেগমের পরিবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে, যেখানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আলা-আমিন ও বাদশাহকে স্পষ্ট মালামালসহ পালাতে দেখা গেছে।

সন্ত্রাসীরা ঘর থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, সেলাই মেশিনসহ আনুমানিক ১৫-১৭ লক্ষ টাকার মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রূপগঞ্জ থানার এস.আই রওশনসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এস.আই রওশন ঘটনা স্থল থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেন, যা দিয়ে সন্ত্রাসীরা পুরো বাড়িটি জীবন্ত পুড়িয়ে মারার এবং আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় মাসুদা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা (জিআর মামলা নং- ৬৬৪/২০২৬) দায়ের করেন।

মিথ্যা ‘অপহরণ নাটক’ ও কল রেকর্ড ফাঁস

নিজেদের নিশ্চিত গ্রেফতার ও আইনি শাস্তি থেকে বাঁচাতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম সদস্য লাকী আক্তার রূপগঞ্জ থানায় সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে যে, তার স্বামী শ্যামল ভূঁইয়াকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে। অথচ, কথিত ‘অপহৃত’ শ্যামল ভূঁইয়ার মোবাইল নম্বরটি (০১৮৪৮৫৩৬২৯৭) এখনো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই নম্বরে ফোন দিলে লাকী আক্তার নিজেই ফোন রিসিভ করছেন এবং ওই নম্বর থেকে বিভিন্ন মানুষকে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার স্পষ্ট প্রমাণ ও কল রেকর্ড মাসুদা বেগমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে কলাবাগান রাস্তা থেকে ভোর ৫টায় অপহরণ করা হয়েছে, অথচ সেখানে সন্ধ্যা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ড থাকে এবং পাশের ভাঙারির দোকান খোলা থাকে। তারা এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই লাকী আক্তার একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। এর আগেও ৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে এই লাকী আক্তার খোদ মিলন ভূঁইয়ার নামে শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের মিথ্যা মামলা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।

সুষ্ঠু বিচারের আকুতি

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "পুরো ঘটনাটি সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংবাদকর্মী ভাইদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা একতরফা সাজানো অভিযোগে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের জমির মূল দলিল, ৯৯৯-এর কল রেকর্ড, পুলিশের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গ্যাস সিলিন্ডারের আলামত এবং হামলার ভিডিও ফুটেজ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করুন। সত্য ঘটনাটি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে আমাদের জান-মালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করুন।"

বিষয় : নারায়ণগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


রূপগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ীতে সশস্ত্র তাণ্ডব ও লুটপাট, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’ নাটকের অভিযোগ!

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামে এক প্রবাসীর বৈধ সম্পত্তি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র। গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে মিলন ভূঁইয়া ও শ্যামল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রবাসী মোসাঃ মাসুদা বেগমের চারতলা ফাউন্ডেশনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে পরিবারটি রক্ষা পেলেও, পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি করতে উল্টো ‘অপহরণের’ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা দায়ের করেছে সন্ত্রাসীরা।

আইন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে রূপগঞ্জে এক নিরীহ ও প্রবাসী পরিবারের বৈধ জমিতে নির্মিত বাড়ি দখল, সশস্ত্র হামলা, বাড়ি পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে হয়রানির তীব্র অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী মিলন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ২০ জুন ২০২৬ তারিখে রূপসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোসাঃ মাসুদা বেগম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনের একাংশকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার চিত্র তুলে ধরেন।

বৈধ সম্পত্তি ও বিরোধের সূত্রপাত

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদা বেগম জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তিনি সম্পূর্ণ বৈধভাবে এবং সাফ কবলা দলিল মূলে (দলিল নং- ১৪৬২৭) মৃত আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মিলন ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর যথানিয়মে নামজারি খারিজ (মিউটেশন) ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও ড্রয়িং সাবমিট করে ৪ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি পরিবারসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

তবে সম্পত্তিটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি মিলন ভূঁইয়ার স্ত্রী শাকিলা কামাল (সেতু) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি, মাসুদা বেগমের পরিবার নাকি ‘এসিপি দলের রাজনৈতিক শক্তি’ ব্যবহার করে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। মাসুদা বেগম জানান, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং বৈধ জমি পুনরায় জবরদখল করতে তারা এই রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করছে।

সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও গ্যাস সিলিন্ডার আতঙ্ক

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ০৬ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫:৩০ ঘটিকায় মিলন ভূঁইয়ার নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী দল মাসুদা বেগমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা পরিবারটি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আশপাশের মানুষ ভুক্তভোগীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে চাইলে মিলন ভূঁইয়া তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।

একই সময়ে কুখ্যাত শ্যামল ভূঁইয়াসহ ১৪-১৫ জন সন্ত্রাসী বাড়ির পেছনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। শ্যামল ভূঁইয়া পিস্তল ঠেকিয়ে মাসুদা বেগমের স্বামী মীর মোশারফ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর শাকিলা কামাল (সেতু), লাকী আক্তার এবং শাহীন ঘরে ঢুকে মাসুদা বেগমকে এলোপাতাড়ি লাথি ও ঘুষি মেরে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখে। পরবর্তীতে রামদা ও লোহার রডসহ বাকি সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও লুটপাট চালায়।

৯৯৯-এ রক্ষা ও আলামত উদ্ধার

এই চরম বিপদের মুহূর্তে মাসুদা বেগমের মেয়ে রুম্পা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলেন। ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রূপগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনতে পেয়ে সন্ত্রাসীরা তড়িঘড়ি করে পেছনের দরজা দিয়ে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদা বেগমের পরিবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে, যেখানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আলা-আমিন ও বাদশাহকে স্পষ্ট মালামালসহ পালাতে দেখা গেছে।

সন্ত্রাসীরা ঘর থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, সেলাই মেশিনসহ আনুমানিক ১৫-১৭ লক্ষ টাকার মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রূপগঞ্জ থানার এস.আই রওশনসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এস.আই রওশন ঘটনা স্থল থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেন, যা দিয়ে সন্ত্রাসীরা পুরো বাড়িটি জীবন্ত পুড়িয়ে মারার এবং আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনায় মাসুদা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা (জিআর মামলা নং- ৬৬৪/২০২৬) দায়ের করেন।

মিথ্যা ‘অপহরণ নাটক’ ও কল রেকর্ড ফাঁস

নিজেদের নিশ্চিত গ্রেফতার ও আইনি শাস্তি থেকে বাঁচাতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম সদস্য লাকী আক্তার রূপগঞ্জ থানায় সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে যে, তার স্বামী শ্যামল ভূঁইয়াকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে। অথচ, কথিত ‘অপহৃত’ শ্যামল ভূঁইয়ার মোবাইল নম্বরটি (০১৮৪৮৫৩৬২৯৭) এখনো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই নম্বরে ফোন দিলে লাকী আক্তার নিজেই ফোন রিসিভ করছেন এবং ওই নম্বর থেকে বিভিন্ন মানুষকে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার স্পষ্ট প্রমাণ ও কল রেকর্ড মাসুদা বেগমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে কলাবাগান রাস্তা থেকে ভোর ৫টায় অপহরণ করা হয়েছে, অথচ সেখানে সন্ধ্যা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ড থাকে এবং পাশের ভাঙারির দোকান খোলা থাকে। তারা এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই লাকী আক্তার একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। এর আগেও ৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে এই লাকী আক্তার খোদ মিলন ভূঁইয়ার নামে শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের মিথ্যা মামলা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।

সুষ্ঠু বিচারের আকুতি

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "পুরো ঘটনাটি সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংবাদকর্মী ভাইদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা একতরফা সাজানো অভিযোগে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের জমির মূল দলিল, ৯৯৯-এর কল রেকর্ড, পুলিশের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গ্যাস সিলিন্ডারের আলামত এবং হামলার ভিডিও ফুটেজ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করুন। সত্য ঘটনাটি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে আমাদের জান-মালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করুন।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ