ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দুই পুলিশ কর্মকর্তার ধর্মীয় মিছিলে অংশগ্রহণের ঘটনায় প্রশাসনের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ সামনে এসেছে। বিহারের মুজাফফরপুরে মুহাররমের মিছিলে ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার প্রদর্শনের দায়ে সাব-ইন্সপেক্টর মুস্তাকিম খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত বছর উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী 'গদা যাত্রা' মিছিলে অংশ নিয়ে গদা প্রদর্শন করা প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের দুই রাজ্যে ভিন্ন দুই ধর্মীয় মিছিলে পুলিশ কর্মকর্তাদের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশাসনের দুই রকম নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিহারের মুজাফফরপুর জেলার কান্তি থানার সাব-ইন্সপেক্টর মুস্তাকিম খান গত শুক্রবার (২৬ জুন) মুহাররমের মিছিলে অংশ নিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার প্রদর্শন করেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। মুজাফফরপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) কানতেশ কুমার মিশ্র বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে জানান, কোড অফ কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চারণভূমি উত্তরপ্রদেশে। গত বছর (২০২৫ সালের জানুয়ারি) সম্ভল জেলার সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী একটি 'গদা যাত্রা' মিছিলে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে গদা উঁচিয়ে উল্লাস করেন। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। পুলিশের আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুজ চৌধুরী কয়েক মাস ধরে একই পদে বহাল থাকেন এবং পরবর্তীতে তাকে সম্ভল থেকে চান্দৌসিতে বদলি করা হয়। তবে সেই বদলি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণ রুটিনমাফিক বা সাধারণ বিভাগীয় বদলি। এর আগে এই অনুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হোলি উৎসবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে তাকে তড়িঘড়ি করে ‘ক্লিন চিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভিন্ন রাজ্যে এক বছরের ব্যবধানে ঘটনা দুটি ঘটলেও, এটি ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বিমুখী নীতি ও পক্ষপাতিত্বের একটি স্পষ্ট নমুনা। একদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে ধর্মীয় আবেগ প্রকাশের দায়ে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী পদমর্যাদার এবং আন্তর্জাতিক কুস্তিগীর অনুজ চৌধুরী উগ্র হিন্দুত্ববাদী কার্যকলাপে জড়ানোর পরও রাজনৈতিক ও বিভাগীয় ব্যাকআপের কারণে বহাল তবিয়তে পার পেয়ে গেছেন। পদের পার্থক্য এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দুই পুলিশ কর্মকর্তার ধর্মীয় মিছিলে অংশগ্রহণের ঘটনায় প্রশাসনের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ সামনে এসেছে। বিহারের মুজাফফরপুরে মুহাররমের মিছিলে ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার প্রদর্শনের দায়ে সাব-ইন্সপেক্টর মুস্তাকিম খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত বছর উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী 'গদা যাত্রা' মিছিলে অংশ নিয়ে গদা প্রদর্শন করা প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের দুই রাজ্যে ভিন্ন দুই ধর্মীয় মিছিলে পুলিশ কর্মকর্তাদের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশাসনের দুই রকম নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিহারের মুজাফফরপুর জেলার কান্তি থানার সাব-ইন্সপেক্টর মুস্তাকিম খান গত শুক্রবার (২৬ জুন) মুহাররমের মিছিলে অংশ নিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার প্রদর্শন করেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। মুজাফফরপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) কানতেশ কুমার মিশ্র বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে জানান, কোড অফ কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চারণভূমি উত্তরপ্রদেশে। গত বছর (২০২৫ সালের জানুয়ারি) সম্ভল জেলার সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী একটি 'গদা যাত্রা' মিছিলে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে গদা উঁচিয়ে উল্লাস করেন। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। পুলিশের আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অনুজ চৌধুরী কয়েক মাস ধরে একই পদে বহাল থাকেন এবং পরবর্তীতে তাকে সম্ভল থেকে চান্দৌসিতে বদলি করা হয়। তবে সেই বদলি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণ রুটিনমাফিক বা সাধারণ বিভাগীয় বদলি। এর আগে এই অনুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হোলি উৎসবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে তাকে তড়িঘড়ি করে ‘ক্লিন চিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভিন্ন রাজ্যে এক বছরের ব্যবধানে ঘটনা দুটি ঘটলেও, এটি ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বিমুখী নীতি ও পক্ষপাতিত্বের একটি স্পষ্ট নমুনা। একদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে ধর্মীয় আবেগ প্রকাশের দায়ে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী পদমর্যাদার এবং আন্তর্জাতিক কুস্তিগীর অনুজ চৌধুরী উগ্র হিন্দুত্ববাদী কার্যকলাপে জড়ানোর পরও রাজনৈতিক ও বিভাগীয় ব্যাকআপের কারণে বহাল তবিয়তে পার পেয়ে গেছেন। পদের পার্থক্য এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন