শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জনের প্রাণহানি; বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতের শ্রমজীবী মানুষের ওপর বাস তুলে দেওয়ায় প্রাণ গেল আরও ৬ জনের।

সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ১৪, আহত বহু



সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ১৪, আহত বহু

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট এবং উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ায় শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজনের মৃত্যু হয়, অন্যদিকে বগুড়ায় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুরদের ওপর দ্রতগামী বাস উঠে গেলে ছয়জন প্রাণ হারান। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে এক কালো ছায়া। পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে রয়েছে একটি তিন বছরের নিষ্পাপ শিশু এবং জীবিকার তাগিদে ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া দিনমজুররা।

ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘাত: প্রাণ হারালেন শিশুসহ ৮ জন

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল আনুমানিক ৭:৩০ মিনিটে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার কাসিকাপন এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। প্রতক্ষ্যদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেটগামী ‘বেঙ্গল পরিবহন’ এবং ঢাকাগামী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের প্রচণ্ড আঘাতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি ছিটকে গিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসটির ভেতরে থাকা আটজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের এক অবোধ শিশুও রয়েছে, যাকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধারকৃত লাশগুলো উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয় এবং আহত অন্তত ২৫ জন যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা ও নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ায় কাজের সন্ধানে এসে প্রাণ গেল ৬ শ্রমিকের

এই ভয়াবহতার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, সকাল ৫:৩০ টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়ার সিলকি বান্ধা এলাকায় ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং পরবর্তীতে পাশে কাজের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় দিনমজুরদের ভিড়ের ওপর উঠে পড়ে। সূর্য ওঠার আগেই পরিবারের আহার জোগাতে কাজের খোঁজে জমা হওয়া এসব মেহনতি মানুষের ওপর ঘাতক বাসটি পিষে দিয়ে চলে যায়।

সংঘটনস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হাজারও ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান, যার ফলে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইনি তদারকি ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিহতদের পরিবার।

বিষয় : বাংলাদেশ সড়ক দুর্ঘটনা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ১৪, আহত বহু

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট এবং উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ায় শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজনের মৃত্যু হয়, অন্যদিকে বগুড়ায় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুরদের ওপর দ্রতগামী বাস উঠে গেলে ছয়জন প্রাণ হারান। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে এক কালো ছায়া। পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে রয়েছে একটি তিন বছরের নিষ্পাপ শিশু এবং জীবিকার তাগিদে ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া দিনমজুররা।

ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘাত: প্রাণ হারালেন শিশুসহ ৮ জন

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল আনুমানিক ৭:৩০ মিনিটে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার কাসিকাপন এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। প্রতক্ষ্যদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেটগামী ‘বেঙ্গল পরিবহন’ এবং ঢাকাগামী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের প্রচণ্ড আঘাতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি ছিটকে গিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসটির ভেতরে থাকা আটজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের এক অবোধ শিশুও রয়েছে, যাকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধারকৃত লাশগুলো উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয় এবং আহত অন্তত ২৫ জন যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা ও নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ায় কাজের সন্ধানে এসে প্রাণ গেল ৬ শ্রমিকের

এই ভয়াবহতার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, সকাল ৫:৩০ টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়ার সিলকি বান্ধা এলাকায় ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং পরবর্তীতে পাশে কাজের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় দিনমজুরদের ভিড়ের ওপর উঠে পড়ে। সূর্য ওঠার আগেই পরিবারের আহার জোগাতে কাজের খোঁজে জমা হওয়া এসব মেহনতি মানুষের ওপর ঘাতক বাসটি পিষে দিয়ে চলে যায়।

সংঘটনস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হাজারও ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান, যার ফলে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইনি তদারকি ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিহতদের পরিবার।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ