স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রত্যক্ষ ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের প্রথম ছয় মাসের বহুমুখী গণমুখী কর্মযজ্ঞ ও অর্জন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে উঠে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি আয়োজিত অবাধ ও নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক গণরায় নিয়ে ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। সরকারের সাফল্যময় প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং প্রেস উইংয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সরকারের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ১০টি প্রধান ক্ষেত্রে সরকারের অভূতপূর্ব অর্জন ও উন্নয়ন রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, ক্ষমতার মূল উৎস হিসেবে জনগণকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি কোনো প্রকার রাজনৈতিক নিপীড়ন ছাড়াই পূর্ণ বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নবগঠিত সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখে শতাধিক অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক অপশক্তির সন্ত্রাসী শাখাগুলোকে নিষিদ্ধকরণ অন্যতম। বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণে সংসদের গ্যালারি নামকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সংসদ পর্যবেক্ষণের সরাসরি সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার প্রথম মন্ত্রিসভাতেই ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘প্রবাসী কার্ড’ এবং ইমাম-পুরোহিতদের জন্য সম্মানী ভাতা। এছাড়াও দেশজুড়ে ঐতিহাসিক খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে গত জুলাই মাসে দেশে সর্বকালের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে মেগা-দুর্নীতির প্রকল্প বর্জন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো টেকসই পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো বাস্তবায়নে গতি আনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের মতো অপরাধের অভয়ারণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং বিতর্কিত তনু ও হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। একই সাথে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা ‘লেভেল ২’-এ নামিয়ে এনেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে 'সবার আগে বাংলাদেশ' মূলনীতি গ্রহণ করে সমতা ও আত্মমর্যাদার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতির আসন লাভ করায় বিশ্বমঞ্চে দেশের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র জানান, ১৬ বছরের সার্বিক ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে মাত্র ছয় মাসে সব সংকটের শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও সরকারের স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতায় কোনো কমতি নেই।
বিষয় : বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রত্যক্ষ ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের প্রথম ছয় মাসের বহুমুখী গণমুখী কর্মযজ্ঞ ও অর্জন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে উঠে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি আয়োজিত অবাধ ও নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক গণরায় নিয়ে ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। সরকারের সাফল্যময় প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং প্রেস উইংয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সরকারের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ১০টি প্রধান ক্ষেত্রে সরকারের অভূতপূর্ব অর্জন ও উন্নয়ন রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, ক্ষমতার মূল উৎস হিসেবে জনগণকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি কোনো প্রকার রাজনৈতিক নিপীড়ন ছাড়াই পূর্ণ বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নবগঠিত সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখে শতাধিক অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক অপশক্তির সন্ত্রাসী শাখাগুলোকে নিষিদ্ধকরণ অন্যতম। বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণে সংসদের গ্যালারি নামকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সংসদ পর্যবেক্ষণের সরাসরি সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার প্রথম মন্ত্রিসভাতেই ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘প্রবাসী কার্ড’ এবং ইমাম-পুরোহিতদের জন্য সম্মানী ভাতা। এছাড়াও দেশজুড়ে ঐতিহাসিক খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে গত জুলাই মাসে দেশে সর্বকালের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে মেগা-দুর্নীতির প্রকল্প বর্জন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো টেকসই পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো বাস্তবায়নে গতি আনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের মতো অপরাধের অভয়ারণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং বিতর্কিত তনু ও হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। একই সাথে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা ‘লেভেল ২’-এ নামিয়ে এনেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে 'সবার আগে বাংলাদেশ' মূলনীতি গ্রহণ করে সমতা ও আত্মমর্যাদার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতির আসন লাভ করায় বিশ্বমঞ্চে দেশের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র জানান, ১৬ বছরের সার্বিক ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে মাত্র ছয় মাসে সব সংকটের শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও সরকারের স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতায় কোনো কমতি নেই।

আপনার মতামত লিখুন